চসিক নির্বাচন: সংঘাত-শঙ্কা বেশি আওয়ামী লীগে

Ctg-Election-mader.jpg

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দ্বন্দ্ব, সংঘাত, সহিসংতা, ভয়-ভীতি ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বেশি আওয়ামী লীগের দলীয় আর বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের ঘিরে। বিশেষ করে ১৭ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভোটের মাঠে। নির্বাচন কমিশনে গতকাল পর্যন্ত ৪৫ টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এরমধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অভিযোগ হচ্ছে আওয়ামী লীগ দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘিরে।

এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব, সংঘাত, সংঘর্ষ, ভয়-ভীতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বেশি অভিযোগ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে বেশি অভিযোগ পড়েছে কয়েকটি ওয়ার্ড থেকে। সাধারণ ওয়ার্ড ৩, ৪, ১১, ১৭, ১২, ২৮, ৩৩, ৩৪ এবং সংরক্ষিত ৭ ও ১০ ওয়ার্ড থেকে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। পোস্টার ছেঁড়া, ভয়-ভীতি দেখানো, কর্মী-সমর্থকদের মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ বেশি রয়েছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই উত্তেজনা ও সংঘাত বেড়েই চলছে।

 

নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩৩ নং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন ও বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মুরাদ বিপ্লবের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বেশি রয়েছে। গতকাল হাসান মুরাদ বিপ্লব দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনের দিন ভোট প্রদানে বাধা ও ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ২২ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কোতোয়ালী থানা ওসিকে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী কফিল উদ্দিন খান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। শফিকুলের সমর্থক এনাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবদুর শাকুর ফারুকীর বিরুদ্ধে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি, নির্বাচনী পরিবেশ বানচালের অভিযোগ করেছেন। ১১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোরশেদ আকতার চৌধুরীও দলীয় প্রার্থী মো. ইসমাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পোস্টার ছেঁড়া ও প্রচারণায় বাধার অভিযোগও তোলেন তিনি ।

অভিযোগে দেখা যায়, ৪নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু ও বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমান, ১১নং ওয়ার্ডের আ. লীগ প্রার্থী মো. ইসমাইল ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোরশেদ আকতার চৌধুরী পরস্পরের বিরুদ্ধে বেশি অভিযোগ করেছেন। ১২ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নুরুল আমিন ও বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেরকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। ২৮ নং ওয়ার্ডে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আজগর আলী বাবুল নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে অভিযোগের সংখ্যাও ততো বাড়ছে। এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন প্রার্থী ও বিশিষ্টজনেরা।

চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের ওপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চকবাজার এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। সরকারদলীয় প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের প্রচারণায় এই সংঘাত হয়েছিল। প্রতিদিনই বাড়ছে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা।

অভিযোগে পিছিয়ে নেয় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলররাও। সংরক্ষিত ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনজুমান আরা বেগম ও রুমকি সেনগুপ্ত এবং ১০ ওয়ার্ডের রাধা রাণী বেবী ও হুরে আরা বিউটির পরস্পর বিরোধী একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top