আখেরাতের সাফল্যই প্রকৃত সাফল্য

Presentation2-2.jpg

-অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানঃ

দুনিয়ার জীবন খুব সংক্ষিপ্ত, অবশ্যই প্রতিটি মানুষই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং আখেরাত নামক মহাজগতে প্রবেশ করবে, যে জীবনের কোন শেষ নেই।
আমরা অনেকেই অর্থ,ক্ষমতায় যারা এগিয়ে তাদেরকে সফল মনে করি অবশ্যই তারা সফল যদি আখেরাতে সফল হয়।
আখেরাত সম্পর্কে কুরআনে মহান রাব্বুল আলামীন বলেন : ‘কেউ দুনিয়ায় সাফল্য চাইলে তার মনে রাখা উচিত যে, আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাত-দু’জায়গারই সাফল্য ও পুরস্কার রয়েছে। আল্লাহ সব দেখেন, সব শোনেন।’’ (সূরা নিসা ১৩৪)

দুনিয়ায় সবকিছুই অর্জন করলেন আর আখেরাতে জাহান্নামে যেতে হল, তাকে কোনভাবেই সফল মানুষ বলা যাবে না।আবার দুনিয়াতে তেমন কিছু ছিলনা (নাম,যশ,খ্যাতি) কিন্তু দুনিয়াতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে যাবতীয় কষ্ট স্বীকার করেছে এবং আখেরাতে জান্নাত লাভ করেছেন তাকেই চুড়ান্ত সফল বলা হয়।

“নিশ্চয়ই পরকালের সাফল্যই মহাসাফল্য। আর এ সাফল্য অর্জনের জন্যেই সৎকর্মশীলদের আল্লাহর পথে প্রাণান্ত পরিশ্রম করা উচিত!’’
(সূরা সাফফাত ৬০-৬১)

‘আল্লাহর ডাকে কেউ যদি সাড়া না দেয়, তবে সে দুনিয়াতেও আল্লাহকে ফাঁকি দিতে পারবে না, আখেরাতেও কোন অভিভাবক পাবে না। সে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত থাকবে।’ (সূরা আহকাফ ৩২)

“আল্লাহ তোমাদের গুনাহ মাফ করেদেবেন এবং এমন জান্নাতে স্থান দেবেন যার পাদদেশ দিয়ে ঝরণাধারা প্রবাহিত হবে।
সদা বসন্ত বিরাজমান জান্নাতে উত্তম ঘর তোমাদেও দান করা হবে। এটাই হল সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
(আস সফ:১২)

“তোমাদের মধ্যে থেকে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ করবে এমন লোকদের
জন্যে আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি তাদেরকে সেই ভাবে দুনিয়ার খেলফত)নেতৃত্ব) দান করবেন, যেভাবেপূর্ববর্তী লোকদেরকে খেলাফত দান করা
হয়েছে। তাদের জন্যে আল্লাহ যে দ্বীনকে পছন্দ করেছেন সেই দ্বীনকে মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন। তাদের
বর্তমানের ভয় ও নিরাপত্তাহীন অবস্থা পরিবর্তন করে শান্তি ও নিরাপত্তা দান করবেন।”
(আন নূর: ৫৫)

কারা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জীবনে সফল???

‘‘যারা আল্লাহর কালামে বিশ্বাসী, আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই সুপ্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত করবেন। আর জালেমদের তিনি বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হতে দেন। আল্লাহ তা-ই করেন, যা তিনি ইচ্ছা করেন।’ (সূরা ইব্রাহিম ২৭)

নিচের আয়াতে সৎকর্মশীলদেরই আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে যে প্রতিষ্ঠিত করেন তারই চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন —

‘’এভাবেই আমি ইউসুফকে সেই দেশে (মিশরে) প্রতিষ্ঠিত করলাম। দেশ পরিচালনায়ও তাকে ক্ষমতাবান করে দেয়া হলো। আসলে যাকেই চাই তাকে আমি আমার রহমতের ছায়ায় ধন্য করি। সৎকর্মশীলদের কর্মফল আমি কখনো নষ্ট করি না। আর যারা বিশ্বাসী ও আল্লাহ-সচেতন, তাদের জন্যে আখেরাতের পুরস্কারই উত্তম।’’ (সূরা ইউসুফ ৫৬-৫৭)

‘’আর যারা আল্লাহ-সচেতন ছিল, তাদের যখন জিজ্ঞেস করা হবে, ‘তোমাদের প্রতিপালক কী নাজিল করেছিলেন?’ তারা জবাবে বলবে, ‘মহাকল্যাণ’। যারা সৎকর্মে লেগে থাকে, দুনিয়ায় তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ আর আখেরাতের আবাস তাদের জন্যে আরো উত্তম। আল্লাহ-সচেতনদের আবাস কতই না উত্তম! তারা প্রবেশ করবে জান্নাতে, যার পাদদেশে থাকবে প্রবহমান ঝর্ণাধারা, তারা যা-ই চাইবে, তা-ই সেখানে তাদের জন্যে থাকবে। আল্লাহ-সচেতনদের তিনি এভাবেই পুরস্কৃত করেন। পবিত্র থাকা অবস্থায়ই ফেরেশতারা তাদের বলবে, ‘তোমাদের ওপর শান্তি। তোমরা তোমাদের সৎকর্মের পুরস্কার হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করো।’’
(সূরা আন-নহল ৩০-৩২)

“আখেরাতের পুরস্কারই উত্তম : ‘তুমি কি তাদের দেখনি, তাদের বলা হয়েছিল, (অন্যায় ও সহিংসতা থেকে) তোমরা অস্ত্র সংবরণ করে রাখো, নামাজ কায়েম করো, যাকাত আদায় করো? এরপর যখন আল্লাহর পথে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হলো তখন তাদের একটি দল আল্লাহর (বিরাগভাজন হওয়ার) ভয়ের মতো ভয় বা তার চেয়েও বেশি ভয় করতে লাগল প্রতিপক্ষের মানুষদের। তারা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! কেন আমাদের ওপর অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ফরজ করলে? আমাদের আর কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন?’ (হে নবী!) তাদের বলো, পার্থিব ভোগ-বিলাস খুবই সামান্য ব্যাপার। আখেরাতই আল্লাহ-সচেতন মানুষের জন্যে অতি-উত্তম। সেখানে তোমাদের ওপর চুল পরিমাণও অবিচার করা হবে না।’'(সূরা নিসা ৭৭)

“যারা আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত : ‘(হে নবী! ওদের বলো) তোমাদের আচরণ তো তোমাদের পূর্বসূরি মুনাফেকদের মতোই। অবশ্য ওরা ক্ষমতা ও ধনসম্পত্তিতে ছিল তোমাদের চেয়েও প্রবল। আর ওদের সন্তান-সন্তুতিও ছিল তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি। ওরা যেমন পার্থিব জৌলুস উপভোগ করেছিল, তোমরাও ভোগ করেছ তোমাদের পার্থিব জৌলুস। ওরা যেমন (সত্য নিয়ে) অনর্থক তর্কবিতর্ক, আলাপ-আলোচনায় মত্ত থাকত, তোমরাও তেমনি অহেতুক তর্ক-বিতর্ক ও আলাপ-আলোচনায় নিমগ্ন রয়েছ। ওদের সকল কাজ দুনিয়াতে নিষ্ফল হয়েছে, আখেরাতেও ওরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চূড়ান্ত বিচারে ওরাই ব্যর্থ (আর অনুশোচনা না করলে তোমাদের পরিণতিও হবে চূড়ান্ত ব্যর্থতা)।’’ (
সূরা তওবা ৬৯)

‘’যে এই উপদেশ (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে মহাবিচার দিবসে পাপের দুর্বহ বোঝা বহন করবে। আসলে সারাজীবনই এই বোঝা বইবে তারা। আর মহাবিচার দিবসে এ বোঝা কতই না পীড়াদায়ক হবে!”
(সূরা তাহা ১০০-১০১)

‘’যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, (মহাবিচার দিবসে) তারা হবে সবচেয়ে লাঞ্ছিত।’'(সূরা মুজাদালা ২০)

‘’মহাবিচার দিবসে দুর্ভোগ তাদের জন্যে, যারা সত্য অমান্য করে!’'(সূরা মুরসালাত ৪৯)

“হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান কর এবং জাহান্নামের আগুন(আযাব) হতে আমাদের রক্ষা কর”
সূরা বাকারা –২০১

আসুন ———- ঃ-
কোরআন পড়ি,কোরআন বুঝি, কোরআনের প্রতিটি আয়াত নিয়ে চিন্তা – ভাবনা করি।

একটি সুন্দর জীবন, পরিবার ও সমাজ গঠনে যদি আপনি সঠিক পথনির্দেশ কামনা করেন,

হতাশা, দুঃখ -কষ্ট, পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক অবিচার ও অকল্যাণ হতে মুক্তি পেতে চান, তাহলে মহাগ্রন্থ আলকোরআন নিয়মিত অধ্যায়নের মাধ্যমে মুক্তির সঠিক পথ পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা প্রতিদিন ফজর নামাজের পর শুরু করেছি —- আপনি ও শুরু করুন প্লিজ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top