ফ্রান্সে দুই হিজাব পরিহিতা মুসলিম নারীকে ছুরিকাঘাত

Muslim-woman-stabbed.jpg

দিসিএম ডেস্ক আন্তর্জাতিক 

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের কাছে হিজাব পরিহিত দুই মুসলিম নারীকে একাধিকবার ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এ ঘটনায় দুই শ্বেতাঙ্গ নারীকে হত্যাচেষ্টার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হামলার সময় তাদের চিৎকার করে ‘নোংরা আরব’ বলতে শোনা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিটি প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে দ্য মেট্রো।

আইফেল টাওয়ারের কাছেই চ্যাম্প দে মার্স পার্কে বাচ্চসহ একটি মুসলিম পরিবার হাঁটার সময় হামলার শিকার হন। এ সময় হামলাকারী দুই নারী মদ্যপ ছিল বলে অভিযোগে উঠে এসেছে।

হামলাকারীদের একটি কুকুর নিয়েও অভিযোগ করেছেন মুসলিম পরিবারটি। কুকুরটি দ্বারা তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। মূলত কুকুর টেনে ধরে ১৯ ও ৪০ বছর বয়সী দুই মুসলিম নারীকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

৪০ বছর বয়সী নারীর দেহে ছয়বার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর তরুণীটি শিকার হন তিনবার ছুরিকাঘাতের। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি।

তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে মেট্রো জানায়, হামলার ভুক্তভোগীরা আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক। তাদের নাম যথাক্রমে কেনজা (৪৯) ও তার চেয়ে কয়েক বছরের ছোট আমেল। তাদের মধ্যে কেনজাকে ছয় বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

হামলায় তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে আমেলের হাতে সার্জারি করতে হয়েছে।

গত সপ্তাহে প্যারিসের উপকণ্ঠে ইতিহাসের এক শিক্ষককে হত্যার পর এ ঘটনা ঘটে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাখ্যা করেছিলেন স্যামুয়েল প্যাটি।

সেই ‘অপরাধে’ তাকে হত্যা করে ১৯ বছরের এক চেচেন যুবক। ওই ঘটনার দুই দিনের মধ্যে সন্দেহভাজন জাতিবিদ্বেষী হামলার শিকার হলেন দুই মুসলিম।

স্যামুয়েল প্যাটির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশটির সরকার মসজিদ ও মুসলিম সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এতে সেখানে ইসলামভীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাসের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে একটি মসজিদ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top