সিজেকেএস জিমনেশিয়ামে ফের ক্রীড়াচাঞ্চল্যের প্রত্যাশা

Untitled-1-39.jpg

হুমায়ুন কবির কিরণ

চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণ এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। এমন কোন ইভেন্ট নেই যা এই ভেন্যুটিতে অনুষ্ঠিত হয় না। ক্রীড়া ক্যালেন্ডার মোতাবেক প্রায় সারাবছরই ইনডোর-আউটডোর গেমসে মুখরিত থাকে ভেন্যুটি। করোনাকালে পুরো বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন স্থবির এবং বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মতো এই চট্টগ্রামও প্রায় ক্রীড়াশুন্য। তবে সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দিক নির্দেশনা নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা চেষ্টা করছে মাঠে খেলাধুলা ফিরিয়ে আনার। তারই অংশ হিসাবে আগামী ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হবে চার দলের অংশগ্রহণে মুজিব শতবর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টের সাফল্যের উপর নির্ভর করছে একই গড়নে ক্রিকেট টুর্নামেন্টসহ অন্যান্য আয়োজন। করোনার চলমান পরিস্থিতে আউটডোর গেমসের চাইতে ইনডোর গেমসে ঝুঁকি অনেকটাই কম। যে কারণে সিজেকেএস খুব করে চাইছে ইনডোর গেমস শুরু করতে। এ জন্য তাদের খুব প্রয়োজন স্টেডিয়াস্থ জিমনেশিয়াম। গত ২৯ মার্চের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত হয়, কিন্তু ৮ মার্চ থেকে জিমনেশিয়ামটি নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম অঞ্চল ব্যবহার করছে। প্রায় একইসময় থেকে করোনা বিস্তারের কারণে সবধরনের খেলাধুলাই বন্ধ ছিল। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সিজেকেএস সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত ১৩ আগস্ট চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচনি কর্মকর্তা বরাবরে পাঠানো হয়। চিঠিতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ পুনঃনির্ধারিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত জিমনেশিয়ামে রক্ষিত নির্বাচনী সামগ্রী সরানোর অনুরোধ করা হয়। এর আগে ৫ মার্চ চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে সিজেকেএস বরাবর জিমনেশিয়াম ব্যবহারের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ব্যবহারের কথা বলা হলেও করোনা প্রকোপে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর নির্বাচনী সামগ্রীসহ জিমনেশিয়ামটি প্রায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সিজেকেএস অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম জানান, জিমনাশিয়ামে ইনডোর গেমস পুনরায় শুরু করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই আমরা জিমনাশিয়ামে খেলাধুলা পুনরায় শুরু করতে পারবো। কথার সত্যতা পাওয়া যায় নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের কাছ থেকেও। দৈনিক পূর্বকোণকে তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচনের তারিখ পুনঃনির্ধারিত হওয়ার আগ পর্যন্ত জিমনেশিয়াম থেকে নির্বাচনী সামগ্রী সরিয়ে ফেলার অনুরোধ সম্বলিত একটি চিঠি আমরা সিজেকেএস থেকে পেয়েছি। আমরাও চাইছি জিমনেশিয়ামে ইনডোর গেমস শুরু হোক। নির্বাচন কমিশন থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে, দ্রুততম সময়ে জায়গার বিকল্প ব্যবস্থা করে আমরা জিমনেশিয়ামটি সিজেকেএসকে বুঝিয়ে দিতে পারবো বলে আশা করছি।
স্টেডিয়াম সরকারি সম্পদ, সরকারের যে কোন প্রয়োজনে সেই সম্পদ ব্যবহারে কোন অভিযোগ থাকার প্রশ্নই আসে না। তবে করোনার এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন যখন হচ্ছে না, কবে হবে সেটাও যখন অনিশ্চিত ক্রীড়ামোদী মহল খুব করে চাইছে জিমনেশিয়ামে খেলাধুলায় মেতে উঠুক। চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার বক্তব্যের সূত্র ধরে বলা যায়, আবারও ক্রীড়া চাঞ্চল্যে মেতে উঠতে যাচ্ছে সিজেকেএস জিমনেশিয়াম।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top