চকরিয়ায় চাঁদা না পাওয়ায় বসতবাড়ী ভাঙচুর

Presentation1-34.jpg

চকরিয়া সংবাদদাতা:
চকরিয়ায় দাবিকৃত পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা না পাওয়ায় বসতবাড়ী ভাঙচুর চালিয়েছে। ডুলাহাজারা ইউনিয়নের এমনই এক অভিযোগে স্থানীয় মেম্বারকে প্রধান আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এতে আসামী করা হয়েছে ডুলাহাজারা ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার বালুরচর এলাকার মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে নুরুল আবছার, একই এলাকার মৃত জহিরুল হকের ছেলে শামসুল আলম, তার ভাই ছৈয়দ আলমসহ মোট এগার জন।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বালুচর এলাকার বাসিন্দা ফরিদ আহমদের পুত্র এনামুল হক (৩০) একজন সহজসরল ব্যক্তি। মাছ ধরে, চাষাবাদ ও কামলার কাজ করে তিনি সাধারণ জীবনযাপন করছেন। তার দাদী মরহুমা সুফিয়া খাতুনের নিজস্ব জমি থেকে ওয়ারিশ সুত্রে ১০ শতক জায়গা পায়। যার বিএস খতিয়ান নং- ৮২৯, বিএস দাগ নং- ৩২৫০। এনামুল হক প্রাপ্ত এ জায়গার সনসন খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে (টিনের ছাউনি, পাকা দেয়ালের তিন কক্ষের ১৮-২৪ হাত বিশিষ্ট) ঘর নির্মাণ করে সপরিবারে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাসরত আছেন।
অপরদিকে আসামীরা বেশ কিছুদিন ধরে তফশীলের এ জমিতে বসবাস করতে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল। গরিব মানুষ চাঁদা দেয়ার অপারগতা জানালে তারা বসতঘরটি দখলে নিবে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে মর্মে ইতিপূর্বে হাঁকাবকা করে আসছিল। ঘটনারদিন গত মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে কামলার কাজ করতে গেলে এনামুল হক বাড়িতে অনুপস্থিতির সুযোগ পায় আসামীরা। এসময় তারা অনধিকার ঘরে প্রবেশ করে অবস্থানরত এনামুল হকের স্ত্রীর থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেয়ার কারণ জানতে চায়। একপর্যায়ে তাকে থাপ্পড় মেরে চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাইরে ফেলে দেয়। আসামীদের হাতে থাকা দা, হাতুড়ি ইত্যাদি দিয়ে ঘরের দেয়াল ভাঙচুর করে এবং ঘরের চালা কেটে ছিন্নভিন্ন করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
এতে এনামুল হকের ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। ভাঙচুর শেষে আসামীরা ঘরের চারটি চেয়ার, একটি টেবিল, টিনের বক্স থেকে স্বর্ণের চেইন ও আংকটি, সংস্থা থেকে নেয়া ২৫ হাজার নগদ টাকা, ক্রোকারিজ সামগ্রী, ঘরের চালের টিন, ৫০ আড়ি ধান লুট করে নিয়ে যায় এবং এসব মালামালের মূল্য ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার অধিক বলে জানান। তার সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতি ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বলে এজাহারে দাবী করেন।
ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পেয়ে এনামুল হক কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটে আসলে স্বাক্ষীদের সম্মুখে আসামীরা পালিয়ে যায়। এই হামলা ও লুটপাটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে আসামীরা এনামুল হক ও তার স্ত্রীকে হত্যা করবে, উল্টো বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবে ইত্যাদি মর্মে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে এনামুল হক তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে কোথাও মাথা গুঁজার ঠাই নেই। তারা নিরূপায় হয়ে বড়ভাই মকছুদুল হকের বড়িতে আপাততঃ আশ্রয় নিয়েছে। এ ঘটনায় অসহায় এনামুল হক সুষ্ঠ বিচারের প্রার্থনায় ঘটনার একদিন পর মেম্বারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চকরিয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে ডুলাহাজারা ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল আবছার বলেন, ওই সময় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ঠিকই। তবে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে দাবী করেন। ভাঙচুরের খবর পেয়ে প্রতিনিধি হিসেবে বিরোধ সুরাহার চেষ্টায় যান। তিনি কারো পক্ষ নেননি বলেও জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top