ইয়াবার টাকা লেনদেনে শতাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ি

-ইয়াবা.jpg
এম. বেদারুল আলম
ইয়াবা ব্যবসায়ীদের লেনদেনের কৌশল দেখে হতবাক আইন শৃংখলা বাহিনী। ইয়াবা পাচারের টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পেমেন্টের বেশ কয়েকটি তথ্য নিয়ে কাজ করছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)। স¤প্রতি এক হুন্ডি সিন্ডিকেট সদস্যকে নগদ টাকা তথ্য-উপাত্ত্যসমেত আটক করার পর বিষয়টি নিয়ে কঠোর নজর দিয়েছে র‌্যাব-১৫। এর আগে গত বছর শহরের একটি বিশাল হুন্ডি সিন্ডিকেট আটক করে তথ্য প্রমাণ হাতে আসার পর বিশাল কর্মযজ্ঞ চালায় র‌্যাব। গেল ১ বছরে জেলায় শতাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ীর লেনদেনে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব। অধিকতর তদন্ত এবং চিহ্নিতদের আটকের জন্য মাঠে কঠোর অবস্থানে রয়েছে র‌্যাব এমটাই জানিয়েছেন র‌্যাব-১৫ এর উপ অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান। তিনি জানান- মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল একটি সিন্ডিকেট এবং কক্সবাজারের টেকনাফের এবং সদরের ৭/৮ জন হুন্ডি ব্যবসায়ির লেনদেনে প্রমাণ পাওয়ার পর আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে চিঠিও প্রেরণ করা হয়েছে। টেকনাফের বহুল পরিচিত হুন্ডি সিন্ডিকেটের অন্যতম টিটি জাফরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অংশ হিসাবে এ চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন মেজর মেহেদী হাসান।
জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর শহরের কক্সবাজার সরকারি কলেজের সামনে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নাজমুল হুদা নামের রোহিঙ্গাকে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ আটকের পর তার স্বীকারোক্তি মতে পরের দিন রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দার ছলিম উল্লাহর পুত্র মোঃ শরিফকে আটক করে। উভয়ের কাছ থেকে নগদ ২৭ লাখ টাকা এবং ৮০ হাজার পিচ ইয়াবা আটক করা হয়। এ চালান আটকের পর র‌্যাব নিশ্চিত হয় আটককৃত একজন রোহিঙ্গা ইয়াবা পাচারকারি অপরজন হুন্ডি ব্যবসায়ি। ২ জনের রয়েছে ইয়াবা সিন্ডিকেটের এবং হুন্ডি ব্যবসায়িদের বিশাল যোগসাজশ। এ ঘটনার তদন্তে উঠে আসে জেলায় ভয়াবহ ইয়াবা এবং হুন্ডি সিন্ডিকেটের মধ্যে বিশাল টাকা লেনদেনের বিষয়টি। উক্ত চক্রের কাছ থেকে অন্তত শতাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ীর খবর পায় র‌্যাব-১৫।
কক্সবাজার র‌্য্যাব-১৫ এর উপ অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান দৈনিক কক্সবাজারকে জানান, হুন্ডি ব্যবসায়িরা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংশ করে দিতে পারে। মানি ল্যান্ডারিং আইন কার্যকর রয়েছে। তারা কৌশল পাল্টিয়ে লেনদেন করতে নানা পন্থা অবলম্বন করলেও সবাই আমাদের নজরে রয়েছে। ইয়াবা এবং হুন্ডির বিশাল সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি ঘটনার তদন্তে। তিনি জানান- গতবছর সদরের পিএমখালীর
ডিকপাড়ার মোঃ শরীফ নামের হুন্ডি ব্যবসায়ীকে আটকের পর অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। ইয়াবা বিক্রির টাকা হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি সে সময় তদন্তে উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে আমাদের একাধিক টিম তদন্তে নামে। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচাররোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান মেজর মেহেদী। আরব আমিরাত এবং কক্সবাজারের কয়েকটি সিন্ডিকেট এবং সৌদি আরব, মালয়েশিয়ার কয়েকটি সিন্ডিকেটের সাথে কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, উখিয়া, বিশেষ করে সদরের পিএমখালীর ৭/৮ জন, বৃহত্তর ঈদগাও ১০/১২ জন চিহ্নিত হুন্ডি ব্যবসায়ির ব্যাপারে তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে র‌্যাব সুত্রে জানা গেছে। গত সপ্তাহে আটক হওয়া চেইন্দার মোঃ শরীফের কাছ থেকে সদরের পিএমখালীর বেশ কয়েকটি হুন্ডি সিন্ডিকেটের লেনদেনের সম্পৃক্ততার বিষয়ও নিবিড় তদন্তে উঠে এসেছে।
এদিকে এক দশক আগে জেলায় ২০ হাজার প্রবাসীর বেশির ভাগই টাকা পাঠাত হুন্ডির মাধ্যমে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছে তাদের টাকা আসে হুন্ডির মাধ্যমে। কিন্তু গত ২ বছর থেকে হুন্ডি যে ইয়াবার পেমেন্ট প্রদানের অন্যতম বাহন হিসাবে কাজ করছে তা উঠে এসেছে র‌্যাব-১৫ এর বেশ কয়েকটি সফল অভিযানের মাধ্যমে।
দেশের অর্থনীতি ধ্বংশকারী জেলার প্রতিষ্ঠিত অনেক নামী হুন্ডি ব্যবসায়ির অবস্থান শহরের বড় বাজার, আইবিপিমাঠ, চাউল বাজার, ফিরোজা মার্কেট, আদালত ভবনের কয়েকজন আইনজীবীর চেম্বার। বড় বাজারের বেশ কয়েকজন পাইকার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়িদের দৈনিক হুন্ডির মাধ্যমে মোটা টাকা লেনদেন করে বলে জানা গেছে।
হুন্ডির প্রসাররোধ এবং ইয়াবা ব্যবসার যোগসাজস চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানার জন্য কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মাসুম খানের সাথে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। মুঠোফোন রিসিভ না হওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
উন্নয়নের চলমান ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চিহ্নিত হুন্ডি ও হুন্ডির মাধ্যমে ইয়াবার টাকা লেনদেনকারীদের চিহ্নিত করে এলিট ফোর্স র‌্যাবের চলমান অভিযানে সকলের সহযোগিতা করা উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল।
আপনার মন্তব্য লিখুন
Top