করোনার সংক্রমণে শিশুর ভূমিকায় অবাক বিজ্ঞানীরা

prothomalo-bangla_2020-08_027aa4b5-aa1e-4120-b30b-c09fb3f2acf8_reuters.jpg

করোনার সংক্রমণে শিশুর একটি ভূমিকায় অবাক বিজ্ঞানীরা। শিশুরা তিন সপ্তাহ পর্যন্ত তাদের নাকে করোনভাইরাস বহন করতে পারে বলে নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ সমীক্ষা চালানো হয়। এর আগের গবেষণাগুলোয় দেখা গিয়েছিল, বেশির ভাগ শিশুর ক্ষেত্রে ভাইরাসের সংক্রমণে মৃদু লক্ষণ থাকে। আবার লক্ষণ না-ও থাকতে পারে। তবে শিশুরা কীভাবে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ায়, এবারের গবেষণায় পাওয়া ফল সেই অমীমাংসিত প্রশ্নের ওপর আলোকপাত করবে।

গবেষণায় শিশুদের স্কুলে ফিরে যাওয়ার সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারাবাহিক ভূমিকার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

রয়্যাল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের প্রেসিডেন্ট রাসেল ভাইনার বলেন, শিশু ও কোভিড-১৯–এর মধ্যে তিনটি পৃথক অথচ সম্পর্কযুক্ত প্রশ্ন রয়েছে। তা হলো শিশুদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটবে কি না, কতটা সংক্রমণ ঘটবে এবং তারা অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ায় কি না।

আমরা নিশ্চিত জানি যে শিশুদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। অ্যান্টিবডি রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের বয়স্ক ব্যক্তিদের তুলনায় ভাইরাসের সংক্রমণ কম হয়। ১২ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার হার কম

রাসেল ভাইনার, রয়্যাল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের প্রেসিডেন্ট

ভাইনার বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত জানি যে শিশুদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। অ্যান্টিবডি রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের বয়স্ক ব্যক্তিদের তুলনায় ভাইরাসের সংক্রমণ কম হয়। ১২ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার হার কম। বিজ্ঞানীরা খুব আত্মবিশ্বাসী যে শিশুদের সংক্রমণ হলেও বড়দের তুলনায় অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা কম। অনেকের কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের এক গবেষণার ফল তা নিশ্চিত করেছে। প্রথম দুটি প্রশ্নের উত্তর মিললেও তৃতীয় প্রশ্ন, অর্থাৎ শিশুদের মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে কি না, সে বিষয়ে খুব কম তথ্য ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকেরা সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ওই গবেষণা ৯১টি শিশুর ওপর করা হয়। এর মধ্যে মৃদু উপসর্গ বা একেবারেই উপসর্গ না থাকা শিশুও রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের তিন সপ্তাহ পরও নাকে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষকেরা বলছেন, নাকে শনাক্তযোগ্য ভাইরাসের উপস্থিতি প্রমাণ করে তারা এটি ছড়াতে সক্ষম। গবেষণাটি শিশুদের কাছ থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর নতুন তথ্য হাজির করেছে।

এ গবেষণার কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। শিশুর নাকে ভাইরাস থাকার অর্থ এই নয় যে তারা বয়স্ক ব্যক্তিদের মতো হারে এটি ছড়াবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের চিলড্রেনস ন্যাশনাল হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান রবার্তা দিবায়াসি বলেন, শিশুরা ভাইরাস বহন করতে পারে। তাই তারা যে এটা ছড়াবে না, তা ভাবা অযৌক্তিক।

অধ্যাপক ভাইনার বলেছেন, স্কুল বন্ধ রাখা নিরপেক্ষ নয়, বরং এর নিজস্ব ঝুঁকি রয়েছে। এতে শিশুর উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। তবে শিশুর কতটা ঝুঁকি বহন করে, তা সঠিকভাবে নিরূপণ করা উন্মুক্ত প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে ভাইরাসের বিস্তার রোধে এ প্রশ্নের উত্তর জানা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top