নাফ নদীর তীরে বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা মাদক পাচারকারী নিহত

10738_me.jpg

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর তীরে বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা, ১টি চায়না পিস্তল ও ২ রাউন্ড চায়না পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) ভোর রাতে অবরাং গ্রামের নানীরবাড়ি এলাকার নাফ নদীর তীরে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান।

তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবার একটি বড় চালান ঢুকতে পারে এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবর একটি বিশেষ টহল দল  অবরাং গ্রামের নানীরবাড়ি এলাকার নাফ নদীর তীরে অবস্থান নেয়। পরে টহল দল ২-৩ জন ব্যক্তি সাঁতরে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে। ওই ব্যক্তিদের তীরে উঠার সাথে সাথে টহলদল চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু টহলদল তাদের ধাওয়া করলে সশস্ত্র ইয়াবা পাচারকারিরা অতর্কিতভাবে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। এতে দুই বিজিবি সদস্য আহত হয়। পরে বিজিবির টহলদলটি সরকারি সম্পদ ও নিজেদের জানমাল রক্ষার্থে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। উভয় পক্ষের মধ্যে ৫ মিনিট গুলিবিনিময় হয়। গোলাগুলির শব্দ থামার পর বিজিবির টহলদল উক্ত স্থান থেকে দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরী চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করে।

মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনাস্থল থেকে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি চায়না পিস্তল ও ২ রাউন্ড চায়না পিস্তলের তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। আর সাঁতরিয়ে আসা আরেক ব্যক্তি গুলি করতে করতে দ্রুত কেওড়া বাগানে পালিয়ে যায়। তবে গুলিবিদ্ধ আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাম পাওয়া যায়। একজন মো. আলম (২৬) ও অপরজন মো. ইয়াছিন (২৪)। তারা দুইজনই উখিয়া কুতুপালং ও বালুখালী আশ্রয় শিবিবের রোহিঙ্গা। তাদের দুইজনের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে আহত দুই বিজিবি সদস্যকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top