ক্যারিয়ারে কারও সঙ্গে কোনো হিংসা বা দ্বন্দ্ব নেই

a-375.jpg

সম্প্রতি নতুন গানের রেকর্ডিং করেছেন সংগীতশিল্পী সালমা।

সম্প্রতি নতুন গানের রেকর্ডিং করেছেন গায়িকা সালমা। শেষ করেছেন একটি গানের মিউজিক ভিডিওর দৃশ্য ধারণ। ঈদের জন্য হাতে আছে বেশ কিছু রেকর্ডিং ও মিউজিক ভিডিওর কাজ। করোনায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা, তাঁর দৃষ্টিতে সংগীতাঙ্গনের সংকট, সম্ভাবনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বললেন এই গায়িকা।

 

সম্প্রতি গান রেকর্ডিং এবং মিউজিক ভিডিওর দৃশ্য ধারণে অংশ নিলেন, এটা সম্পর্কে জানতে চাই।

নতুন গান করলাম। এটা লিখেছেন আহমেদ রিজভী। গানের মিউজিক কম্পোজিশন করেছেন আহমেদ হুমায়ূন। গানটি গেয়ে খুবই ভালো লেগেছে। গানটি সাউন্ডটেক থেকে ঈদে আসবে। আর শাহ আবদুল করিমের একটি গান আমি আর চৌধুরী কামাল গেয়েছিলাম। সেটার মিউজিক অ্যারেঞ্জ করেছেন বাপ্পা মজুমদার। গানটির মিউজিক ভিডিওর শুটিং শেষ করলাম। এটা ঈদের আগেই মুক্তি পাবে। এ ছাড়া ঈদের জন্য বেশ কটি কাজ হাতে আছে সেগুলো সামনে করব।

কাজের জন্য অনেক সময় বাইরে যেতে হয়, সে ক্ষেত্রে প্রস্তুতি কেমন থাকে?

মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার—বের হওয়ার সময় এগুলো সব সময় সঙ্গে থাকে। যেখানেই যাই, দূরত্ব মেনে চলি। তারপরও বাইরে এলে করোনা নিয়ে কিছুটা ভয় থাকেই। বাসায় আমার বাচ্চা আছে। সে জন্য এক–দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে থাকি না। নিজে খুব সচেতন থাকি। সারাক্ষণ বাচ্চার জন্য চিন্তায় থাকি। আবার বাসায় একেবারেই কাজ ছাড়া বসে থাকা যায় না। কিছু তো করতে হবে। বের হলে সাবধানতা মেইনটেন করে কাজ করছি। এত দিন একটি করে মাস্ক ব্যবহার করছি। কিন্তু এখন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি দুটি করে মাস্ক ব্যবহার করব। আরও সচেতন হওয়া দরকার।

সালমা। ছবি: ফেসবুক থেকে

সালমা। ছবি: ফেসবুক থেকে

বাসার রান্নার কাজে আপনার কতটা সম্পৃক্ততা আছে?

(হেসে) বাসায় রান্নার ৮০ ভাগ কাজ এখন আমাকে করতে হচ্ছে। বসে আছি, এ জন্য সময় দেওয়া হচ্ছে। আমার একটা খালাতো বোন আছে সহযোগিতা করে। শাশুড়ি আছে। সবাই মিলেই করছি। এখন বাইরের মানুষ দিয়ে কাজ করানো সম্ভব নয়। কাজ ছাড়া আমি এবং আমার স্বামী কেউই বের হই না। বাজার করতে গেলে আমার স্বামীর সঙ্গে বের হই।

 

সংগীতাঙ্গনে সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন?

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ইতিমধ্যে পড়েছে সংগীতাঙ্গনের মানুষ। দেশে অনেক কিছুই স্বাভাবিক হলেও একমাত্র ‘অফ’ হয়ে আছে মিউজিক অঙ্গন। বলা যায় আমাদের জীবনটা কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে। কবে কনসার্ট শুরু হবে, ঠিক নেই। কবে ঘুরে দাঁড়াবে সব, তা অনিশ্চিত। একসময় ভাবতাম, আমাকে কেন ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে হবে? কী দরকার? কিন্ত লকডাউনে মনে হলো বিশ্বের অনেক বড় শিল্পী ইউটিউব থেকে আয় করছেন। আমি কেন ইউটিউবে অ্যাকটিভ হলাম না? কেন এটাকে অ্যাভয়েড করলাম। এখান থেকে দুই হাজার টাকা আয় হলেও একটা ধারাবাহিকতা থাকত। কোনো কিছুকেই ছোট করে দেখা ঠিক নয়।

করোনাকালে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করেছেন সালমা। ছবি: সংগৃহীত

করোনাকালে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করেছেন সালমা। ছবি: সংগৃহীত

কোন বিষয়টা ভাবাচ্ছে?

জীবনে কী করলাম, জীবনটাকে কী দিতে পারলাম, আজ যদি আমি না থাকি তাহলে মানুষ আমাকে মনে রাখবে কেন, ভবিষ্যতে কী কাজ করব—এগুলো ভাবছি। আমরা না থাকলে আমার সন্তানের কী হবে, সেটাও ভাবাচ্ছে। যে মানুষের জন্য গান করি, সেই মানুষ ভালো না থাকলে কীভাবে গান করব, আবার কবে স্বাভাবিক পৃথিবীতে বাস করতে পারব—এসব ভাবছি।

 

আপনাকে সংগীতের মানুষেরা যখন প্রশংসা করে, তখন কেমন লাগে?

আমার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে কারও সঙ্গে কোনো হিংসা নেই, দ্বন্দ্ব নেই। আপনি অন্যকে ভালবাসলে নিজেও ভালবাসা পাবেন। সংগীতাঙ্গনের সবাইকে আমি আপন মনে করি। এটা আমার একটা পরিবার। এ জন্য সবার সঙ্গে আন্তরিক থাকার চেষ্টা করি। সেই পরিবারের মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা পেলে অবশ্যই ভালো লাগে। তখন মনে হয় সবাই আমার পাশে আছে।

সালমা। ছবি: ফেসবুক থেকে

সালমা। ছবি: ফেসবুক থেকে

আলাদিনের চেরাগের দৈত্য এসে বলল তিন ইচ্ছা পূরণের কথা, তখন কোন তিনটা ইচ্ছার কথা বলবেন?

আগে বলব, ভাই, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচান। মানুষকে আগে স্বস্তি–শান্তি ফিরিয়ে দিন। মানুষ সুখে আছে দেখলেই আনন্দ হবে। যেহেতু অনেক দিন লকডাউনে বন্দী আছি, তাই দ্বিতীয় ইচ্ছা হলো, অবশ্যই দৈত্যকে বলব, আমার পরিবারকে সুন্দর কোনো জায়গা থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসুন। পরিবার নিয়ে আরামে ঘুরব। তৃতীয় ইচ্ছা হলো, যখন বুঝতে পারব সব ঠিক হয়ে গেছে, তখন মানুষকে সাহায্য করব।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top