মাঠ নয় যেন সবুজ গালিচা

3-mp-durniti-9.jpg

নজরুল ইসলাম

আজ থেকে তিন মাস আগে যারা এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ঢুকেছিল, তারা যদি এখন আবার সে স্টেডিয়ামে চোখ রাখে তাহলে বিস্মিত হবেন। কারণ তিন মাস আগের ন্যাড়া মাথার এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মাঠ এখন যেন সবুজের গালিচা। এমন মাঠ কে কবে দেখেছে বলা মুশকিল। তিন মাসের বেশি হলো এই স্টেডিয়ামে খেলাধুলা নেই। সব শেষ ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রিমিয়ার ডিভিশন ফুটবল লিগের ম্যাচ। এরপর থেকে স্টেডিয়ামে আর পা পড়েনি ক্রীড়াবিদদের। নিরন্তর বিশ্রামে রয়েছে স্টেডিয়ামের মাঠ। ঘাসবিহীন ন্যাড়া মাঠে কত খেলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রামে। কিন্তু গত তিন মাসের বিশ্রামে সে মাঠ যেন দেখা দিচ্ছে অন্য চেহারায়। শত চেষ্টা করেও যে মাঠকে সবুজ করতে পারেনি মাঠকর্মীরা প্রকৃতির ছোঁয়ায় এখন সে মাঠ সবুজের কারখানা। কবে আবার এই মাঠ ক্রীড়াবিদদের পদচারণায় মুখর হবে তা কারো জানা নাই। তবে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মাঠ অপেক্ষায় আছে মুখরিত হওয়ার।
একদিকে মাঠে খেলা নেই। অপরদিকে বৃষ্টি। ফলে মাঠটা যেন অন্য এক চেহারা পেয়েছে। যদিও এই ঘাসকে খুব বেশি বড় হতে দিচ্ছে না মাঠ কর্মীরা। প্রতিদিনই কাটা হচ্ছে মাঠের ঘাস। কারণ ঘাস বেশি বড় হয়ে গেলে তা আর পরে কাটা যাবে না। তাই নিয়মিতই ঘাস কেটে ছোট করছে মাঠ কর্মীরা। গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মাঠ কর্মীরা জানায়, মাঠে খেলা না থাকলেও তাদের বিশ্রাম নেই। প্রতিদিনই মাঠের ঘাস কাটতে হচ্ছে। একদিকে কাটতে কাটতে অন্য দিকে দেখা যায় আবার বড় হয়ে গেছে ঘাস। শুধু ঘাস নয়, দীর্ঘ সময় খেলা না থাকার কারণে নানা ধরনের গাছের চারাও জন্মে গেছে মাঠে। ফলে মাঠ কর্মীদের সে সব পরিষ্কার করতে হচ্ছে।
করোনার এই দুর্যোগে পুরো শহরের প্রকৃতি যেন অন্য একটি রূপ ধারন করেছে। তার ব্যতিক্রম নয় এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের মাঠও। দেখলে যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। কিন্তু এই ঘাসের মাঠে তো আর খেলা যাবে না। আবার কবে নাগাদ মাঠে খেলা গড়াবে সেটাও জানে না কেউই। তারপরও মাঠ কর্মীদের নিরন্তর প্রচেষ্টা মাঠকে সুন্দর রাখার। গতকাল স্টেডিয়ামের মাঠ কর্মীরা জানায়, গত তিনটা মাস তাদের কাছে অন্যরকমভাবেই কেটেছে। যে মাঠের সাথেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের বন্ধুত্ব এখন সে মাঠ যেন তাদের কাছেও অচেনা। এই মাঠে একটু ঘাস তোলার জন্য কত পরিশ্রমই না করতে হয় নয়ন, জাহাঙ্গীর, জামালদের। সে মাঠের ঘাস কাটতেই এখন সময় যাচ্ছে তাদের। তবে খেলাবিহীন মাঠে যেন মন ঠিকছে না তাদেরও। কারণ এমন মাঠের সাথে যে পরিচিত নয় তারা। গত ১৭ মার্চ যখন খেলা বন্ধ হয় এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে তখন চলছিল প্রিমিয়ার ডিভিশন এবং প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ। এখন সে সব লিগের ফুটবলাররাও বেকার হয়ে পড়েছে। তাই তারা চাইছে যত দ্রুত সম্ভব যেন মাঠে গড়ায় ফুটবল। কিন্তু সেটা এখন সম্ভব নয়। খেলোয়াড়দের সাথে মাঠ কর্মীরাও চাইছে যেন আবার সরব হয়ে উঠে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম। সবুজের গালিচায় পরিণত হওয়া মাঠে আবার পড়ুক খেলোয়াড়দের পদচারণা। কারণ এমন মাঠ যে কারোই প্রত্যাশিত নয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top