কক্সবাজার জেলায় পাশের হার ৮৪.৫৫% : GPA-5 পেল ৯০৫ জন

index-2.jpg

দিসিএম   (৩১ মে) :: সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজার জেলাতেও মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা ২০২০ এর ফলাফল ৩১ মে সকালে প্রকাশ করা হয়েছে। এসএসসিতে কক্সবাজার জেলায় এবছর মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ২১ হাজার ৯৭ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে ২১ হাজার ৪১ জন। আর পাশ করেছে ১৭ হাজার ৭৯১ জন। পাশের হার ৮৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলে পাশ করেছে ৮ হাজার ৩১৩ জন এবং পাশের হার ৮৫.৮৫%। আর মেয়ে পাশ করেছে ৯ হাজার ৪৭৪ জন এবং পাশের হার ৮৩.৪৫%। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০৫ জন শিক্ষার্থী।এর মধ্যে ছাত্র ৫০০ জন আর ছাত্রী ৪০৫ জন।গত বছরের তুলনায় এবছর ৩১৫ জন জিপিএ বেশি পেয়েছে।

ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়,গত বছরের তুলনায় এবছর পাশের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তি অনেক বেড়েছে। ২০১৯ সালে পাশের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর ২০১৮ সালে ছিল  ৭৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে ছিল ৯১ দশমিক ২৭ শতাংশ।  গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৯০ জন। এর মধ্যে বালকের সংখ্যা ছিল ৩১৬ আর বালিকা ২৭৪ জন । ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭১৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বালক ছিল ৪০২ এবং বালিকা ৩১৫ জন।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিবারের মতো ২০২০সালেও পাশের হার সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞান বিভাগে। এবছর বিজ্ঞানে ৩ হাজার ৯৭৪ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে পাশ করেছে ৩ হাজার ৭৭৩ জন। পাশের হার ৯৫ দশমিক ০৪ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৫৬ জন। এর মধ্যে ছেলে ৪৮৭ জন এবং মেয়ে ৩৬৯ জন। ছেলে পাশের হার ৯৫.৮% এবং মেয়ে ৯৪.৯৯%।

২০১৯ সালে বিজ্ঞানে ৪ হাজার ৩৭৬ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে পাশ করে ৪ হাজার ৩৭০ জন। পাশের হার ছিল ৯২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫৭১ জন। এর মধ্যে ছেলে ৩০৮ জন এবং মেয়ে ২৬৩ জন। (২০১৮ সালে) পাশ করেছিল ৩ হাজার ১৯৬ জন।আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৭৭ জন। পাশের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এছাড়া ২০২০সালে বাণিজ্য বিভাগে অংশ গ্রহন করে ৬ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ৫ হাজার ৮৯৭ ছাত্রছাত্রী।ছেলে পাশ করেছে ৩ হাজার ২৯১ জন এবং মেয়ে পাশ করেছে ২ হাজার ৬০৬জন। পাশের হার ৮৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন। এর মধ্যে ছেলে ১৩ জন এবং মেয়ে ৩২ জন। ছেলে পাশের হার ৮৮.৫২% এবং মেয়ে ৯১.৬৩%।

গতবছর পাশের হার ছিল ৮২.৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল মাত্র ১৪ জন। এর মধ্যে ছেলে ৭ জন এবং মেয়ে ৭ জন। আর(২০১৮ সালে) পাশ করেছিল বাণিজ্য বিভাগে পাশ করেছিল ৫ হাজার ৫০১জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৭ জন। পাশের হার ছিল ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এবার ২০২০সালে মানবিকে অংশগ্রহন করেছে ১০ হাজার ৫৫৩ জন। এর মধ্যে এর মধ্যে পাশ করেছে ৮ হাজার ১২১ ছাত্রছাত্রী। ছেলে পাশ করেছে ২ হাজার ৯৫৪ জন এবং মেয়ে পাশ করেছে ৫ হাজার ১৬৭ জন। পাশের হার ৭৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪ জন। এর মধ্যে ৪ জনই মেয়ে।কোন ছেলে এবছর জিপিএ পায়নি। ছেলে পাশের হার ৭৭.৯৪% এবং মেয়ে ৭৬.৯০%। 

গত পাশ করেছিল ৯ হাজার ৮৮০ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল মাত্র ৫ জন। এর মধ্যে ছেলে মাত্র ১ জন এবং মেয়ে ৪ জন। পাশের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৭ শতাংশ। (২০১৮ সালে) মানবিকে ৮ হাজার ২৬৪ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে পাশ করেছিল ৫ হাজার ১৩৮ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল মাত্র ৩ জন। পাশের হার ছিল ৬২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এছাড়াও বরাবরের মতো এবছরও ভালো ফলাফল অর্জন করেছে কক্সবাজার শহরের দুটি প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ২০২০ সালে কক্সবাজার সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ২৪২ জন। পাশের হার ৯৭.৯৮%। জিপিএ -৫ পেয়েছে ১১৬ জন।ফেল করেছে মাত্র ৫ জন। আর সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৬৯ জন অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ২৬৩ জন।পাশের হার ৯৭.৭৭%।জিপিএ -৫ পেয়েছে ১৩৬ জন। ফেল করেছে মাত্র ৬ জন।জেলার মধ্যে এবার সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় শীর্ষে রয়েছে।

উল্লেখ্য ৩১ মে রোববার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন। এ বছর সারাদেশে এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৯ জন।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ১০ লাখ ২২ হাজার ৩৩৬ জন ছাত্র ও ১০ লাখ ২৩ হাজার ৪১৬ জন ছাত্রী। এবার ২৮ হাজার ৮৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৫১২টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি। আর ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত নেওয়া হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। সেই হিসেবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তারপরও বিশেষ ব্যবস্থায় ডাকযোগে ওএমআর শিট এনে মে মাসেই ফল প্রকাশ করছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শিক্ষার্থীদের এবার স্কুলে গিয়ে ফল জানার সুযোগ নেই। মুঠোফোনের মাধ্যমে প্রাক নিবন্ধন করেছে সারাদেশের ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৭২৬ জন শিক্ষার্থী। তারা বেলা ১২টার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষাবোর্ডের সার্ভার থেকে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। আর বাকি পরীক্ষার্থীরা তাৎক্ষনিক নিজেদের মুঠোফোন থেকে এসএমএস এবং নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল জানতে পারবেন।

ইন্টারনেটে যেভাবে ফল পাওয়া যাবে:

SSC লিখে একটি স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২০ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার ফল পেতে Dakhil লিখে একটি স্পেস দিয়ে Mad লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২০ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।

আর কারিগরি বোর্ডের এসএসসির ফল পেতে SSC লিখে একটি স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০২০ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানানো হবে।
মোবাইল ফোনে এসএমএসের পাশাপাশি নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top