কক্সবাজারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা

9547_me.jpg

সুজাউদ্দিন রুবেল :
কক্সবাজার জেলা দিন দিন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে প্রথম দিকে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা ছিল কম। কিন্তু চলতি মে মাসে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। লকডাউন অমান্য, শিথিল করা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখাকেই দুষছেন চিকিৎসকরা।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাব কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৪১ দিনে মোট ২৯৯২ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা টেস্ট করা হয়। তারমধ্যে কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১০ জন। আর বাকি ১৪ জন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার। এরমধ্যে রামুর আইসোলেশন থেকে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৫ জন।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অলিউর বলেন, কক্সবাজার ল্যাবে দিন দিন সন্দেহভাজন করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ কক্সবাজার জেলা ছাড়াও বান্দরবান এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। যার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে করোনা নমুনা পরীক্ষা চাপ বাড়ছে। তারপরও নিরসলভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এদিকে মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত কক্সবাজারের ল্যাবে নতুন পরীক্ষা করা ১৭৬ জনের মধ্যে ১৪ ব্যক্তির দেহে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলার ৯ জন, অপর ৫ জন বান্দরবন জেলার ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার। কক্সবাজার জেলায় নতুন আক্রান্তের মধ্যে পেকুয়ায় ৪ জন, চকরিয়ায় ৪ জন এবং টেকনাফের ১ জন বাসিন্দা রয়েছে। এ নিয়ে কক্সবাজার জেলায় করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হল ১১০ জন।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেন, সোমবার কক্সবাজারের ৮টি উপজেলা, ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে মোট ১৭৬ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে পরীক্ষা করার পর ১৪ জনকে পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অপর ১৬২ জন নেগেটিভ রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারে দিন দিন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় উদ্বিগ্ন সচেতন মহল ও চিকিৎসকরা। তাদের পরামর্শ, সামাজিক দূরত্ব বজায় ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া জানান, কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ১১০ জন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এটা দিন দিন কারণ হচ্ছে মানুষ সচেতন হচ্ছে না। কারণ প্রথম দিকে যখন কক্সবাজারকে লকডাউন করা হয় তখন করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। কিন্তু যখন লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হয়েছে তখন দেখা যাচ্ছে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। বিশেষ করে দেখা যাচ্ছে, লকডাউন শিথিলতার কারণে মানুষ নানা উপায়ে কক্সবাজারে প্রবেশ করছে। আর প্রবেশকৃত ব্যক্তিরা সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

তিনি আরও জানান, শুরুতে থেকে রামুর সব ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের সাথে বৈঠক করা হয়েছে। যেখানে সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং রামুতে বাইরে থেকে কোন প্রবেশ করলে ১৪দিন কোরাইন্টানে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা কারণে কিন্তু রামুতে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সংখ্যা কম। তাই এই মুহুর্তে জেলায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা কমাতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে, স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়টা খুবই ভাল হতে হবে। তাদের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে কিংবা ইউনিয়নে জেলার বাইরে থেকে যারা আসবে তাদেরকে অবশ্যই ১৪দিন কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক দূরত্ব বজায় ও সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মানলেই জেলায় করোনা সংক্রমণ ঠেকানো সহজ হবে বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৪১ দিনে মোট ২৯৯২ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা ভাইরাস টেষ্ট করা হয় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে। তারমধ্যে ১২৪ জনের রিপোর্ট করোনা পজেটিভ পাওয়া গেল। এর মধ্যে মহেশখালীতে ১২ জন, টেকনাফে ৭ জন, উখিয়ায় ৯ জন, রামু ৩ জন, চকরিয়ায় ৩৪ জন, কক্সবাজার সদরে ২৫ জন, এবং পেকুয়ায় ২০ জন। অন্যান্যরা কক্সবাজার জেলার নিকটবর্তী বান্দরবান জেলার বাসিন্দা এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার বাসিন্দা।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top