রাতের অন্ধকারে বিষ প্রয়োগ

শঙ্খে মরে ভেসে যাচ্ছে চিংড়িসহ নানা প্রজাতির মাছ

P-12-5-6.jpg

দিসিএম ডেস্ক।।

চন্দনাইশ-সাতকানিয়া উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত মিঠা পানির শঙ্খনদে রাতের অন্ধকারে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। এতে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভসে যাচ্ছে। গত শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে বান্দরবান ও সাতকানিয়ার সীমান্তবর্তী রেকঘাটা এলাকায় দুর্বৃত্তরা মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বিষ প্রয়োগ করলেও তা সকাল থেকে খরস্রোতা শঙ্খনদে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিষের প্রভাবে মরে ভেসে যাচ্ছে মাছ।
ধোপাছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল হালিম বলেন, নদে বিষ প্রয়োগের সংবাদ গোপন সূত্রে পেয়ে রাত ৩টার সময় ইঞ্জিনচালিত বোটে করে পুলিশদল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, বিষ প্রয়োগের স্থান বান্দরবান ও সাতকানিয়ার সীমান্তবর্তী হওয়ায় পরে পুলিশদল ফিরে আসেন।
এদিকে শঙ্খনদে মাছের মড়ক দেখা দেয়ার সংবাদ পেয়ে গতকাল রোববার ভোর থেকে উপজেলার ধোপাছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়রা মাছ শিকারে শঙ্খনদে নেমে পড়েন। এসময় তারা চিংড়ি, বাইলা, চিরিং ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নদে মাছ ধরার জন্য মানুষের ঢল নামে। মাত্রারিক্ত বিষ প্রয়োগের ফলে গতকাল রাত ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নদে মাছের মড়ক ছিল বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। ফলে রাতের অন্ধকারেও শত শত নারী পুরুষ হাতা জাল, ঠেলা জাল, চালুনী, মশারীসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে নদে মাছ শিকারে ব্যস্ত ছিল। প্রত্যেকেই ২/৩ কেজি পর্যন্ত চিংড়ি, বাইলা, চিরিংসহ আরো কয়েক প্রজাতির মাছ পেয়েছেন। স্থানীয়রা জানায়, এক শ্রেণির অসাধু চক্র গভীর রাতে নদীতে বিষ প্রয়োগ করে রাতের বেলাই তাদের চাহিদা মতো মাছ আহরণ করে ভোরের আলো ফুটার আগেই পালিয়ে যায়। এভাবে প্রতিনিয়ত বিষ প্রয়োগ করার ফলে মাছ শূন্য হয়ে পড়ছে শঙ্খনদ। অথচ এমন এক সময় ছিল শঙ্খনদে প্রচুর পরিমাণে চিংড়ি, বাইলা, চিরিং, বোয়াল, রুই, কাতাল, কাকড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। তখন শঙ্খনদের এসব মাছ ও কাকড়া আহরণ করেই জীবিকা নির্বাহ করতো হাজার হাজার জেলে পরিবার।
ধোপাছড়ি শঙ্খেরকুল এলাকার আবদুল মোনাফ জানান, মাস ঘুরতেই একশ্রেণির দুর্বৃত্তের দল রাতের অন্ধকারে শঙ্খনদের বেশ কয়েকটি স্থানে বিষ প্রয়োগ করে। বিশেষ করে ঘোনা এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে রাতের বেলাই তারা মাছ আহরণ করে পালিয়ে যায়। পরে তাদের প্রয়োগকৃত বিষ নদে ছড়িয়ে পড়ে সব ধরনের মাছ মরে ভেসে উঠে। বছরের পর বছর ধরে এভাবে বিষ প্রয়োগ করা হলেও কে বা কারা এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করছে তাদের পরিচয় জানা নেই কারো।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন জানান, শঙ্খনদে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি তাকে কেউ অবহিত করেনি। তিনি বলেন কারা বিষ প্রয়োগ করছে তাদের নাম পরিচয় কেউ সঠিকভাবে দিতে পারেনা। ফলে তাদের আটক করা সম্ভব হয়না। তিনি শঙ্খনদে বিষ প্রয়োগকারীদের আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় জেলে, ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা কামনা করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top