আবেদন করতে গিয়ে কাউন্সিলরের লোকজনের মারধরের শিকার

ত্রাণের দাবিতে খুলনায় বিক্ষোভ, নীলফামারীতে সড়ক অবরোধ

-দাবিতে-খুলনায়-বিক্ষোভ-নীলফামারীতে-সড়ক-অবরোধ.jpg

ত্রাণের জন্য আবেদন করায় বুধবার খুলনা সিটি করপোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শামসুজ্জামান মিয়ার লোকজন মারধর করে। পরে হামলার শিকার লোকজন জোড়াগেট বস্তিবাসী খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে বিচার দিতে যান।

দিসিএম ডেস্ক।।

ত্রাণের দাবিতে দরিদ্র মানুষেরা আজ বুধবার খুলনা মহানগরে বিক্ষোভ ও নীলফামারী শহরে সড়ক অবরোধ করেছেন। খুলনায় খাদ্যসহায়তার জন্য লিখিত আবেদন করতে গিয়ে খেটে খাওয়া মানুষ স্থানীয় কাউন্সিলরের লোকজনের মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

খুলনার ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, করোনার প্রভাবে নগরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের জোড়াগেট এলাকার রিকশাচালক ও দিনমজুরদের উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েন। প্রথম দিকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর দরিদ্র মানুষদের চার কেজি করে চাল ও আধা কেজি বুটের ডাল ত্রাণ হিসেবে দিয়েছেন। কিন্তু প্রায় দেড় মাস পার হয়ে গেলেও কেউ আর কোনো সহায়তা পাননি। এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা জানতে পারেন, নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করলে জেলা প্রশাসন থেকে রেশন হিসেবে সহায়তা পাওয়া যাবে।

কয়েক দিন ধরে ওই এলাকার প্রায় ৮০ জন লোক ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণ করে জমা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ কথা কাউন্সিলর মো. শামসুজ্জামান মিয়া জানতে পেরে তাঁদের আবেদন করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তা না শোনায় বুধবার সকাল আটটার দিকে কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জব্বার, জামাল ব্যাপারী, আইয়ুব আলী মোড়লসহ কয়েকজন ওই এলাকায় এসে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের চড়, কিল, ঘুষি মারতে শুরু করেন। তাঁদের যাঁরা ঠেকাতে গেছেন, তাঁদেরও মারধরের শিকার হয়েছেন।

দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা খুলনা প্রেসক্লাব ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মারধরকারীদের বিচার ও খাদ্যসহায়তার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর বিক্ষোভকারীরা নিজেরাই চলে যান।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শামসুজ্জামান মিয়া। জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিহ্নিত কয়েকজন মাদক বিক্রেতা জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে ৩০০ করে টাকা নিচ্ছিলেন। এটা জানতে পেরে স্থানীয়ভাবে সামাজিক কাজ করেন এমন ব্যক্তিরা বাধা দেন। সব এলাকায় ত্রাণ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নীলফামারী শহরের প্রধান সড়কের কালীবাড়ি মোড়ে রিকশাচালকেরা সকাল ১০টার দিকে ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিনা আকতার। পরে তাঁদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন রিকশাচালকেরা।

জেলা শহরের সরকারপাড়া মহল্লার রিকশাচালক আবদুস সালাম (৪৫) বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি শুরু হলে জমানো সব সম্বল শেষ হয়ে যায়। এরপর খাদ্যসংকট দেখা দিলে ঝুঁকির মধ্যেও রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামি। কিন্তু যাত্রী না পাওয়ায় আয়–রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। পৌরসভা থেকে পাঁচ কেজি চাল পেয়েছি, সেটি দিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার কয় দিন চালাব?’

মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘শহরে যাঁরা রিকশা চালান, তাঁরা বেশির ভাগ পৌর এলাকার বাইরের। আমি সেখানে গিয়ে আন্দোলনরত রিকশাচালকদের বলেছি তাঁদের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে দেওয়ার জন্য। এ সময় সেখানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের দেওয়া তালিকা দেখে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ওই আশ্বাসে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।’ মেয়র জানান, পৌর এলাকার রিকশাচালকদের তালিকা করে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহযোগিতা দেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top