কিসের ত্রাণ, আমি কি তাদের বোনকে বিয়ে করব?

maxresdefault-1.jpg

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারেও বন্ধ রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। এই মানুষদের বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করতে সরকার, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এগিয়ে এলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নেই জনগণের পাশে। দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের মতো কার্যক্রমে নেই অধিকাংশ এমপি। জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

করোনা দুর্যোগে জনগণের পাশে না থাকা জনপ্রতিনিধিদের একজন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। তিনি কোথায় আছেন জানে না তার এলাকার লোকজন।

এ অবস্থায় করোনা দুর্যোগের কথা জানিয়ে ত্রাণসামগ্রী চাইলে নিজ এলাকার এক অসহায় ব্যক্তিকে তুলোধুনো করেছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। একই সঙ্গে ত্রাণ চাওয়া ব্যক্তিকে হাওরে ডুব দিতে বলেছেন তিনি। সুলতান মনসুরের সঙ্গে ওই অসহায় ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড জাগো নিউজের কাছে এসেছে।

করোনা সংকটে ত্রাণ চেয়ে সুলতান মনসুরের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা ওই ব্যক্তি মৌলভীবাজাররে কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের প্রতাবী গ্রামের বাসিন্দা। তবে তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। সুলতান মনসুরের সঙ্গে ওই ব্যক্তির মোবাইলে কী কথোপকথন হয়েছে তা হুবহু তুলে ধরা হলো;

ফোনের ব্যক্তি : ‘হ্যালো এমপি সাব (সাহেব), প্রতাবী থেকে বলতেছি।’

সুলতান মনসুর : ‘প্রতাবী তো একটা জায়গার নাম।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘পূর্ব প্রতাবী হাজি ফুরকান আলীর বাড়ির পাশ থেকে বলছি।’

সুলতান মনসুর : ‘নাম কউ নাম, নিজের নাম কউ।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘বলছিলাম, আপনি এলাকায় নাই নাকি?।’

সুলতান মনসুর : ‘আমি আছি যেখানে থাকার সেখানে। কেন কিতা হইছে?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘না বলছিলাম; বর্তমান পরিস্থিতে আপনাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।’

সুলতান মনসুর : ‘তোমাদের ঘরে গিয়ে আমি রান্না করে দেব নাকি?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘না বলছিলাল; কুলাউড়ায় আসবেন না নাকি?।’

সুলতান মনসুর : ‘কেন আসব না? প্রয়োজনে যাব। ঘর থেকে বের হবে না, শুনোনাই ডাক্তারের কথা?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘শুনেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দিকে যদি একটু খেয়াল রাখতেন।’

সুলতান মনসুর : ‘প্রতি ওয়ার্ডেই তো সাহায্য যাচ্ছে।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘ওসব ত্রাণ তো মেম্বার-চেয়ারম্যানরা দিচ্ছেন।’

সুলতান মনসুর : ‘মেম্বার-চেয়ারম্যানরা দিচ্ছে মানে, তা কি মক্কা শরিফ থেকে এসেছে নাকি?। তারা কি তাদের বাবার ঘর থেকে দিচ্ছে? নাকি তোমার বাবার ঘর থেকে দিচ্ছে?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘তারা তো তাদের তহবিল থেকে দিচ্ছেন।’

সুলতান মনসুর : ‘তাদের তহবিল কিসের? এটা আমাদের তহবিল। তাদের কোনো তহবিল নেই।’

ফোনের ব্যক্তি : না বলছিলাম; এলাকার মানুষ আপনাকে নিয়ে নানা কথা বলতেছে।’

সুলতান মনসুর : ‘কি বলতেছে?’

ফোনের ব্যক্তি : ‘সবাই বলতেছে, আমাদের এমপি সাহেবকে দেখছি না, ভোট দিলাম। তিনি বিপদে আমাদের পাশে নেই।’

সুলতান মনসুর : ‘এমপি সাহেব নাই। কিসের ত্রাণ। তারা আমার বোনকে বিয়ে করবে, নাকি আমি তাদের বোনকে বিয়ে করব?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘না, আসলে অনেক মানুষ বলতেছে আপনি এলাকায় আসেন না।’

সুলতান মনসুর : ‘ফালতু মানুষজনের তো আর কোনো কাজকাম নেই। আমি কি এলাকায় বিয়ে করতে যাব? এসব আলাপ আমার সঙ্গে করবা না। যার যার কাজ সে করবে। মেম্বার-চেয়ারম্যান কি
বাবার ঘর থেকে খাবার দিচ্ছে?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘জ্বি হয়, গরিবদের কিছু খাবার দেন।’

সুলতান মনসুর : ‘তুমি গরিবনি?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘জ্বি হয়, গরিব।’

সুলতান মনসুর : ‘….(অস্পষ্ট)। না পারলে ভূকশিমইল হাওরে গিয়ে ডুব দে।’ (কুলাউড়া-ভূকশিমইল সড়কের পাশে হাকালুকি হাওরের অবস্থান)।

সুলতান মনসুর : ‘তোমার মা-বাবা তোমাকে জন্ম দেননি?।’

ফোনের ব্যক্তি : ‘জ্বি, দিছইন।’

সুলতান মনসুর : ‘তোমার মা-বাবাকে খাওয়াতে বল। ফোন রাখো, রাখো টাউট, বাটপার সবটি। রাখো ফোন রাখো।’

ওই ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইলে কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর জাগো নিউজকে বলেন, আমি এসবের কিছুই জানি না।

এলাকা থেকে মোবাইলে ত্রাণ সহায়তা চাওয়া কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আই ডোন্ট নো।’

এমআরএম

 

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top