ভোগ্যপণ্যের চড়া দামে ভোক্তার নাভিশ্বাস

-চড়া-দামে-ভোক্তার-নাভিশ্বাস.jpg

তুষার তুহিন :
নিয়মিত বাজার মনিটরিংও করেন না সংশ্লিষ্ঠরা। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানও অপ্রতুল। দোকানেও টাঙ্গানো নেই মূল্য তালিকা। পাইকারী বাজারে দর বেড়েছে অজুহাত দেখিয়ে মজুদদাররাও দাম নিচ্ছে একটু বাড়িয়ে। আর এসব সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নতুন বছরের শুরু থেকে ভোগ্যপণ্য চড়া দামে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। ফলে প্রতিটি পণ্য কিনতে কেজিতে কমে ২০/৩০ টাকা বাড়তি গুনতে নাভিশ^াস ছুটছে ভোক্তাদের।
ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সূত্রে জানা যায়,  পেয়াজের দাম কমে শত টাকা হলেও বেড়েছে শুকনো মরিচ, চিনি, সয়াবিন তেল, সুপার, পাম্প ওয়েল, আদা, ডাল , রসুন, চিনি ও চাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক পন্যের দাম। তবে স্হিতিশীল রয়েছে হলুদের দাম।
বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, আইবিপি একটি দোকানের ভেতরে ও মাছ বাজারের সামনে মূল্য তালিকা টাঙ্গানো থাকলেও অন্য কোন দোকানে মূল্য তালিকা ছিল না। একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে পণ্য।  পেয়াজের দাম কমে তারতম্য ভেদে  প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৯৫-১৫০ টাকা হলেও শুকনো মরিচ বিক্রি ১৭০ টাকা কেজি। অথচ গেল বছরের শেষভাগে একই মরিচ বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকাতে। এছাড়া ১৫ দিন আগে  ৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া আদা এখন বিক্রি হচ্ছে (প্রতি কেজি) ১৭০ টাকায়।  আর দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, যা গত ১৫ দিন আগে বিক্রি হয় ১৩০ টাকা কেজি দরে। ৫২ টাকার চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। বুটের ডাল ২৫ থেকে ৩৭ টাকা, মুগ ডাল ১১০ থেকে বেড়ে ১৪০-১৫০ টাকা, মশুর ডাল ১০৫ থেকে ১৩০-১৪০ টাকা। গোলমরিচ, হলুদ, মরিচ গুঁড়া, জয়ত্রী, এলাচ ও দারুচিনির দামও বেড়েছে। এছাড়াও পাইকারি বাজারে ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি দারুচিনির দাম ২৮০-২৮৫ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪১০ টাকা। এলাচি মান ভেদে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০০ টাকার বেশি। চালের দাম গেল এক সপ্তাহে প্রতি বস্তাতেই বেড়েছে ২০০-২৫০ টাকা। সয়াবিন তেল ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১০৮ টাকা। পাম্প ওয়েল ৬৫ টাকা থেকে বেড়েছে ৯২ টাকা , সুপার তেল ও কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে।
বড় বাজারের কুমুদিনী ষ্টোরের মালিক বলেন, চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে তাই আমাদেরও দাম বাড়াতে হয়েছে।
মহেশখালির কালারমারছড়ার প্রগতি এন্টারপ্রাইজের মালিক সঞ্জিৎ বৈদ্য বলেন, বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই আমাদেরও বাড়তি নিতে হচ্ছে।
তবে শহরের তারাবনিয়ারছড়ার বাসিন্দা জেবর মুল্লুক বলেন,  দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের কারসাজি। এইভাবে করে তো আর চলা যায় না। প্রায়ই সব নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম  বাড়তি। এই অসাধু তৎপরতা বন্ধ করতে সরকারের বাজার মনিটরিং কার্যক্রম আরো জোরদার করা উচিত।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা বিপনন কর্মকর্তা শাহাজাহান আলী বলেন, বাড়তি মূল্য রাখা, মেয়াদ উর্ত্তীণ পণ্য রাখা, মূল্য তালিকা না টাঙ্গানোর দায়ে এই শহরে এমন কোন দোকান নেই যেই দোকানকে জরিমানা করা হয়নি। কিন্তু তারপরও তারা সর্তক হচ্ছে না। আমরা মনিটরিংয়ে গেলেই  তারা খবর পেয়ে মূল্য তালিকা টাঙ্গায় । তাদের এই লুকোচুরিতেই প্রমান হয় এখানে একটি অসাধু সিন্ডিকেটে কাজ করা হয়। চলতি মাসেও কয়েকদফা অভিযান চালানো হয়েছে দাবী করলেও সর্বশেষ কবে অভিযান চালিয়েছেন জানাতে পারেন নি ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন সকালে আমার অফিস স্টাফ বাজার থেকে দ্রব্য মূল্য সংগ্রহ করে আনে । তা আবার আমরা ঢাকা অফিসে পাঠাই। আসলে ভোক্তারা যতদিন সচেতন হবে না ততদিন এই অসাধু সিন্ডিকেট এভাবেই লুকোচুরি খেলবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম ) মোহা. শাজাহান আলী বলেন, বাজার পরিস্থিতি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করছি। হঠাৎ করে পাইকারী বাজারের সাথে অসামঞ্জস্যভাবে দাম বৃদ্ধি পাওয়া উদ্বেগজনক। যেকোন মুহুর্তে জেলা প্রশাসকের অনুমতি স্বাপেক্ষে আমরা অভিযান চালাব।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top