সুরাজপুর মানিকপুর ইয়াংছা

চকরিয়ায় সওজ বিভাগের ৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দে সড়কের কাজ শুরু

-সওজ-বিভাগের-৫৭-কোটি-টাকা-বরাদ্দে-সুরাজপুর-মানিকপুর-ইয়াংছা-সড়কের-কাজ-শুরু.jpg

বার্তা পরিবেশক :
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে অবশেষে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী শান্তি বাজার থেকে সুরাজপুর-মানিকপুর হয়ে ইয়াংছা সড়ক নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। সড়কটির নির্মাণকাজ শুরুর মাধ্যমে চলাচলের ক্ষেত্রে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে।
এদিকে সড়কটির নির্মাণকাজের শুরুতে প্রকল্প এলাকা পরির্দশন করেছেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য রোস্তম শাহরিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শওকত ওসমান, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম কাজল, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অহিদুজ্জামান অহিদ ও নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরএবি আরসি প্রাইভেট লিমিটেডের দায়িত্বরত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানিয়েছেন, ৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি পুনরায় নির্মাণ করা হচ্ছে। বরইতলী শান্তি বাজার থেকে জিদ্দাবাজার-বাদশাহর টেক-মাঝেরফাঁড়ি-সুরাজপুর-ইয়াংছা পর্যন্ত সড়কটি ১৯ কিলোমিটার। এই সড়কটির বর্তমান প্রশস্থতা ১২ ফুট। এটিকে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করা হবে। সড়কে কার্পেটিং করা হবে মেশিনের মাধ্যমে দুই ইঞ্চি পুরুত্বের। এতে সর্বোচ্চ ২০ টন ওজনের গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর পাহাড়ি এলাকা দিয়ে যাওয়া সড়কের পাশে পাহাড়ধ্বস ঠেকাতে টেকসই আরসিসি দেওয়াল নির্মাণ করা হবে।
কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত ওসমান বলেন, দুইবছর আগে ভারী বৃষ্টিপাত ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যার তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের ভরসাস্থল ‘জিদ্দাবাজার-সুরাজপুর-ইয়াংছা সড়ক’টি। বন্যা পরবর্তীতে সময়ে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ বেশিরভাগ সড়ক সংশ্লিষ্ট বিভাগের অর্থায়নে উন্নয়নের মাধ্যমে ফের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করা হলেও ভগ্নদশায় রয়ে যায় ‘জিদ্দাবাজার-সুরাজপুর-ইয়াংছা সড়ক’টি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মেরামত কাজের বিপরীতে ৫৭ কোটি টাকার টেন্ডার হলেও দুই বছর ধরে বিধ্বস্ত সড়কটির উন্নয়ন কাজ থমকে থাকে। এ অবস্থার কারণে চলাচলের ক্ষেত্রে ইউনিয়নের মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ সইতে হয়। সেইসময় সড়কটি মেরামতের দাবিতে এলাকার বিক্ষুদ্ধ লোকজন প্রতিবাদ সভা মানববন্ধন করেছেন। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে বারবার চেষ্টা-তদবির করেছি সড়কটির উন্নয়ন নিয়ে। যাই হোক এখন সড়কের মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। এতে আমার মতো কাকারা ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনতা খুশি।
কঙবাজার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু কুমার চাকমা বলেন, ইতোমধ্যে সড়কটির মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে। টেকসইভাবে নির্মাণকাজ সমাপ্ত করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে ৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি শেষ করবেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরএবি আরসি প্রাইভেট লিমিটেড।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top