পথে পথে লিখে সাহায্য চাইছেন আগন্তুক

Presentation1-14.jpg

দেয়াল লিখন এই শহরে বিপ্লব ছড়িয়েছে। সরকার উৎখাতের আগুন জ্বালিয়েছে। শিক্ষা নগরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবি জানিয়েছে। ভোটও চেয়েছে। সব ষড়যন্ত্রের বিপক্ষে আওয়াজ তুলেছে। কিন্তু সময়ের ফেরে সেই দেয়াল
লিখনের অনেকটাই মুছে গেছে। অনেক দেয়ালে আজকাল লিখনেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে। তা-ই বলে কি থেমেছে কষ্টের লিখন?

দেয়ালে জায়গা না পেলেও রাজশাহীর পিচঢালা পথেই লিখছেন এক আগন্তুক। শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়ে ক্লান্ত পথিকের দৃষ্টি কাড়ছেন তিনি। চক, কয়লা আর পোড়া ইটে রাজশাহী কলেজের সামনের ফুটপাতে আনমনে লিখে চলেছেন এই আগন্তুক। পথিকের পায়ের নিচে ফুটে উঠছে, ‘সাহায্য করুন ক্লান্ত পথিক’। শত শত পথিক মাড়িয়ে যাচ্ছে সেই পথ। কেউ কেউ থামছেন, দেখছেন, সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে শীতে জবুথবু লোকটির এমন কীর্তি দৃষ্টিতে পড়ে এই প্রতিবেদকের। অনেক চেষ্টার পর শব্দ বের হলো তার চক দিয়ে। পথের মাঝেই নিজের নামটা লিখে দিলেন,‘প্রভাত’। বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে জানালেন, নাটোরে। তার ডান পা অক্ষম। ধুলোর মাঝেই লুটোপুটি খাচ্ছিলেন।

rajshahi

কী করে এমন হলো- জানতে চাইলে শুধু জানালেন, দুর্ঘটনা। মুহূর্তেই তুলা দিয়ে মুছে দিলেন কথোপকথন। তারপর আবারও মন দিলেন পথ লেখায়।

ততক্ষণে আরও কয়কজন উৎসুক পথচারী থেমেছেন। এদের একজন জানালেন, নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে পথে লিখে সাহায্য যান এই ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরেই নগরীতে দেখা যাচ্ছে তাকে। তবে তার নাম-পরিচয় জানা নেই। অনেকেই তার সাহায্যে এগিয়ে আসছেন।

এই আগন্তুকের সঙ্গে রয়েছে কয়েকটি পোটলা। দেখে মনে হলো তিনি ভবঘুরে। হয়তো এক সময় চলে যাবেন অন্য কোথাও। সাহায্য চেয়ে হয়তো এভাবেই পথিকের দৃষ্টি কাড়বেন।

rajshahi-1

এক সময় কালো কালিতে ‘কষ্টে আছি আইজুদ্দিন’দেয়াল লিখন নজর কেড়েছিল অনেকের। এই তিনটি শব্দেই আইজুদ্দিন তৈরি করেন তার বেদনার সিলমোহর। কালক্রমে সেই সিলমোহর মুছে যায়।

সম্প্রতি গ্রাফিতি হয়ে ‘সুবোধ’ নাড়া দেয় ঘুমন্ত রাজধানীবাসীকে। রহস্য হয়েই রয়ে গেল দেয়াল লিখন ‘নাবিলা জানো?’ ও ‘একজন মুমূর্ষু রোবটের জন্য রক্তের প্রয়োজন, রক্তের গ্রুপ এন+।’

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top