ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ ‘ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্ট’

Screenshot_2019-08-20-17-27-46-208_com.facebook.katana.jpg

দিসিএম ডেস্ক

কক্সবাজার শহরের কলাতলীর ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টে ফ্ল্যাট ব্যবসার আড়ালে চলছে রমরমা ইয়াবা কারবার। এ হোটেলের নির্দিষ্ট কিছু ফ্ল্যাটে ইয়াবা লেনদেন, তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীদের আত্মগোপন, পতিতাবৃত্তিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চলছে হরদম। আর এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়ার্ল্ড বীচের ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী মইনুল হোসেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দীন খন্দকার পূর্বকোণ বলেন, ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টে ডেভলপার, ল্যান্ড ওনার, ফ্ল্যাট ওনার এবং ফ্ল্যাট ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের ঝামেলা আছে। এর সুযোগ নেয় চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। তারা ফ্ল্যাট ব্যবসার আড়ালে সেখানে ঢুকে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ওসি আরো বলেন, হোটেলটি কলাতলীর মূল পয়েন্টে অবস্থিত। এ কারণে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ হোটেলটি। পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে, এই হোটেলে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় আত্মগোপনে থাকেন। এ কারণে প্রায় সময় অভিযানও চালায়। আর যারা ফ্ল্যাট ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা করছে তাদের বিষয়েও খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। হোটেলটি সার্বক্ষণিক পুলিশের নজরে আছে বলে জানান ওসি। সূত্রমতে, রবিবার (১৮ আগস্ট) রাতে ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টের ৬০৩ নাম্বার কক্ষ থেকে শহরের পাহাড়তলী এলাকার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. শফিককে (৩৪) আটক করে পুলিশ। এ সময় মো. রফিক (২৬) নামে তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা লেনদেনের খবর পেয়ে পুলিশ ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টের ৬০৩ নাম্বার কক্ষে অভিযান চালায়। এ সময় শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী শফিক ও তার সহযোগী রফিককে আটক করা হয়। ওই কক্ষ থেকে ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের অভিযান টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান আরেক ইয়াবা ব্যবসায়ী মধ্যম কলাতলী এলাকার রাসেল। অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার।

তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টের ৬০৩ নাম্বার কক্ষ থেকে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী শফিক ও রফিককে আটক করা হয়। অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যায় রাসেল নামে আরেক ইয়াবা ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় শফিক, রফিক ও রাসেলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রাসেল পলাতক। পরে সোমবার (১৯ আগস্ট) উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ শফিক ও রফিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টে ভাড়ায় পরিচালিত কিছু ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার ও পতিতাবৃত্তি চলে আসছে। গোপনে আশ্রয়ে থাকেন টেকনাফ ও কক্সবাজার শহরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সব সময় নজরে থাকে হোটেলটি। প্রায় সময় অভিযানও চলে। সর্বশেষ রবিবার (১৮ আগস্ট) দুইজনকে আটক করা হয়। যে দুইজন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করা হয় তাদের নাম-ঠিকানা এন্ট্রি ছিল না হোটেলের রেজিস্ট্রারে। এর আগেও এই হোটেল থেকে পতিতা ও ইয়াবাসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। সূত্রমতে, ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টে ইয়াবা ব্যবসাসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী মইনুল হোসেন । রবিবার যে ফ্ল্যাট থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক করা হয় সেই ফ্ল্যাটটি তার পরিচালিত। তার মালিকানাধীন অন্যান্য ফ্ল্যাটগুলোতেও সমানভাবে চলে ইয়াবা ব্যবসা ও পতিতাবৃত্তি। ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টে গিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ফ্ল্যাট মালিকের সাথে কথা হয়। তারা জানান, মইনুলের মালিকানাধীন (ভাড়ায়) ফ্ল্যাটগুলোতে সব সময় ইয়াবা ব্যবসা ও পতিতাবৃত্তি চলে। মাঝে মধ্যে ইয়াবার লেনদেন নিয়ে অপহরণ, মারামারিসহ নানা ঘটনা ঘটে। মইনের কারণে পুরো হোটেলটি অপরাধের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। তার কারণে ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রত্যেকে অতিষ্ঠ। জানা গেছে, মইনুল হোসেনের বাড়ি মহেশখালী উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার শহরে বসবাস করেন। টানা কয়েক বছর লাইট হাউজ এলাকার সানফ্লাওয়ার রিসোর্ট ও ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টে চাকরি করেন। হঠাৎ দেড় বছর আগে তার জীবনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন শুরু হয়। রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। মাত্র দেড় বছর আগেও যে সামান্য কর্মচারী ছিলেন তিনি বর্তমানে কোটি টাকার মালিক। যে ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টে তিনি এক সময় চাকরি করতেন সেখানে বর্তমানে তার মালিকানাধীন (ভাড়ায়) বহু ফ্ল্যাট রয়েছে। গড়ে তুলেছেন নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রায় বিমানে ঢাকায় আসা-যাওয়াসহ বর্তমানে আলিশান জীবনযাপন মইনুলের। মইনুল হোসেনের অন্যতম সহযোগি সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহিনুল ইসলাম। শাহিনুল ইসলাম ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ টি ফ্ল্যাট পরিচালনা করেন। শাহিনের ফ্ল্যাটগুলো যৌথভাবে মইনুল হোসেনও পরিচালনা করেন। ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্টের ডেভলপার কোম্পানী হলেন আরএফ বিল্ডার্স। ডেভলপার গ্রুপের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ৬০৩ নাম্বার ফ্ল্যাটটি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এটি ফ্ল্যাট ওনার পক্ষের। এক ফ্ল্যাট ওনারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করেন শাহিন ও মইন। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ফ্ল্যাটগুলোতে অবৈধ ব্যবসা চলে না বলে দাবী করেন। ফ্ল্যাটের অভিযুক্ত ভাড়াটে মালিক শাহিনুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে কথা হয় আরেক অভিযুক্ত মইনুল হোসেনের সাথে। তিনি ফ্ল্যাট ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মইনুল হোসেন বলেন, ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্টে তার মালিকাধীন চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। শাহিনের সাথে যৌথ অংশীদারেও কিছু ফ্ল্যাট আছে। সেগুলো পরিচালনা করে কোন রকম তিনি জীবিকা নির্বাহ করে বলে জানান। হঠাৎ উত্থানের কারণ জানতে চাইলে মইনুল হোসেন বলেন, তাদের পারিবারিকভাবে আর্থিক অবস্থা ভাল। তিনি কোন সময় ওয়ার্ল্ড বিচ রিসোর্ট অথবা অন্যকোনো হোটেলে চাকরি করেননি বলে দাবী করেন।

পূর্বকোণ

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top