বিষফোড়া হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা

Screenshot_2019-07-12-20-11-20-382_com.android.chrome.jpg

দিসিএম ডেস্ক

নিজ দেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা বিষফোড়া হয়ে উঠছে। ইয়াবা, মানব পাচার ও হাটবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আধিপত্য বিস্তারে তাদের মধ্যে বাড়ছে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা। চলছে অস্ত্রের মহড়াও। চলতি বছরের ৭ জুন পর্যন্ত তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে খুন হয়েছেন ৩৮ রোহিঙ্গা। বাড়ছে অপহরণ, ধর্ষণসহ নানা অপরাধও। এছাড়া বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়া কিংবা ভিন্ন কোনো রাষ্ট্রে পাড়ি দেয়ার চেষ্টায় অনেক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ প্রতিদিন ক্যাম্প ছাড়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

এভাবে ক্যাম্প ত্যাগ করে নানাভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত বা জেলার চেকপোস্টগুলোতে আটক হয়ে গত দেড় বছরে প্রায় ৫৬ হাজার রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন।

তার মতে, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের আবাসন এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় তারা অনায়াসে ক্যাম্প থেকে যখন তখন বের হচ্ছে। এভাবে নানা উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। কোনোভাবে দেশের আনাচে কানাচে তারা ভীত গাড়তে পারলে জড়াতে পারে নানা অপরাধেও। তার আইডেনটিটি না থাকায় অপরাধ করে সহজে আত্মগোপনে যেতে পারার সম্ভাবনা শতভাগ। তাই দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্প এলাকায় কাঁটাতারের সীমানা বেষ্টনী তৈরির প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে অভিমত পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইনের।

আবার স্থানীয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদ নেতাদের ভাষ্য, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত ও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে শিবিরগুলোকে অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি টিম গত শুক্রবার রাতে লিংকরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-জ-৪৬৭৪) জব্দ করে। গাড়িতে ১৮ রোহিঙ্গা তরুণকে পাওয়া যায়। গাড়িতে আটকরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে তৎপর আতাউল্লাহ গ্রুপের সদস্য।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সূত্র জানায়, আটক রোহিঙ্গা তরুণের দলটির সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার করে থাকে। এরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে খুন, ছিনতাই, রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ ও অপহরণপূর্বক মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। তারা নিজেদের আরসা বা আল ইয়াকিনের সদস্য বলে পরিচয় দেয়। তারা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে গোপনে হাত মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফের শিবিরে ঘাপটি মেরে প্রত্যাবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top