পানিতে ভাসা চকরিয়া-পেকুয়ার ১২ হাজার মানুষ অনাহারে

-পৌরসভার-1.jpg

মো.মনজুর আলম, চকরিয়া:

বন্যার পানিতে ভাসছে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার দুই লাখ মানুষ। দুই উপজেলার অন্তত ৮ লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৬০ শতাংশ মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ঘরে রান্না করতে না পেরে কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ দুদিন ধরে খাবার খেতে পারেনি। সেইসঙ্গে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানিয় জলের । রাস্থাঘাঁট ঢলের পানির নিচে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে অনেকেই খাবার ও পানি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।

টানা ৭ দিনের প্রবল বর্ষণে এবং মাতামূহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে বৃষ্টি কমলেও পানি এখনো পুরোপুরি নেমে যায়নি।

দুই উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রনিধিরা শুকনো খাবার ও খিচুড়ি রান্না করে বানভাসী মানুষদের কাছে পৌঁছে দিলেও তা পর্যাপ্ত পরিমানে নয় বলে জানিয়েছেন তারা । বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে সড়কের পাশে থাকা দুর্গতরা এসব শুকনো খাবার পেলেও বেশিরভাগ মানুষই এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। তাই বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত খাবার-বিশুদ্ধ পানিসহ ্জুরুরী ত্রানপৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান বন্যাদুর্গত বানবাসি মানুষগুলো।

চকরিয়ার পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং পেকুয়ার উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৮ থেকে ২০টি গ্রাম এখনো পানির নিচে রয়েছে । শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ২ থেকে ৩ ফুট পানি রয়েছে ।

ওইসব পরিবারগুলো লোকজন জানান, বৃষ্টি কমলেও বন্যার পানি তেমন সরেনি। তাদের বাড়িতে পানীয়জল ও খাবার সংকট থাকলেও কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ-খবর নেয়ার গরজ মনে করেনি কেউ কেউ। অনুরুপভাবে অধিক প্লাবিত আরো কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের অবস্থাও একই রকম।

গত শুক্রবার থেকে চকরিয়া-পেকুয়া, পার্বত্য বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে মুষলধারে ব্যাপক বৃষ্টি হয়। ওই বৃষ্টির পানি রাতের দিকে মাতামুহুরী নদী দিয়ে উজান থেকে নেমে আসে ভাটির দিকে। এসময় নদীর দুই কূল উপচে লামা-আলীকদম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, সাহারবিল, চিরিংগা, কৈয়ারবিল, কোণাখালী, বিএমচর, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, ফাঁসিয়াখালী ও পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা এবং পেকুয়া উপজেলা সদর, উজানটিয়া, মগনামাসহ বেশ ক’টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যার কবলে পড়ে।

কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান ও সুরাজপুর-মানিকপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার জানান, বৃষ্টি কমলেও বন্যার পানি কমেনি। শতশত পরিবারে রান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা চলছে।

ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের মাঝে খিচুড়ি রান্না করে ও শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়।

চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিতে শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করলে পৌর এলাকার যেসব ওয়ার্ডে পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আশা করি ওইসব পানি দ্রত সময়ে নেমে যাবে।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী শুক্রবার সকালে থেকে তার নিজস্ব তহবিল থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় চাল-ডাল বস্ত্রসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্র বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণ করে যাচ্ছেন ।

তিনি জানান বন্যার পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত দুর্গতদের শুকনো খাবারের পাশাপাশি চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে সরকারের উর্ধতনমহলে জানানো হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুব-উল করিম জানান, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বরাদ্ধের পাশাপাশি চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এসব শুকনো খাবার ও চাল বন্যাকবলিত এলাকায় পৌছে দেয়া হয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বর্তমানে বিতরণ করছেন । প্রশাসনের পক্ষথেকেও তদারকি করা হচ্ছে যাতে বানবাসি কেউ কষ্ট না পান ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top