রামুর ওসি মনসুর উখিয়াতে-উখিয়ার ওসি আবুল খায়ের রামুতে বদলী

Presentation1.jpg

দিসিএম ডেস্ক।।

সীমান্ত উপজেলা উখিয়া-টেকনাফ ইয়াবার গেটওয়ে হিসেবে চিহ্নিত। পুলিশ ‘যুদ্ধ’ চালিয়ে টেকনাফে ইয়াবা পাচার ও ব্যবসা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসলেও উখিয়ায়র চিত্র  তেমনটি নয়। রহস্যজনক কারণে উখিয়ায় রমরমা চলছে ইয়াবা ব্যবসা।দীর্ঘদিন পর উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়েরকে বদলী করা হয়েছে। উখিয়ায় ওসি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন রামু থানার ওসি আবুল মনসুর।

দীর্ঘদিন পর নতুন ওসি পাওয়ায় ইয়াবা নির্মূলে কিছুটা হলেও আশা দেখছেন উখিয়ার সচেতন মানুষ। তাদের প্রত্যাশা ইয়াবা সা¤্রাজ্যে নতুন ওসি কিছুটা হলেও নাড়া দিবেন। ইয়াবার বিরুদ্ধে নতুন ওসি সোচ্চার হলে টেকনাফের মত উখিয়াতেও ধীরে ধীরে ইয়াবা নির্মূল কার্যক্রম অগ্রগতি পাবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়েরের  দাবী, ইয়াবার বিরুদ্ধে পুলিশ বরাবরই কঠোর অবস্থানে। তেমনিভাবে উখিয়া থানাও সব সময় ইয়াবার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল এবং আছে। গত ৬ মাসে উখিয়া থানায় মাদক মামলা রুজু হয়েছে ১৬০টি। আর এসব মামলায় আসামী হয়েছে ২৭২ জন। প্রতিদিনই ইয়াবার বিরুদ্ধে ‘স্পেশালভাবে’ কাজ করে পুলিশ।

উখিয়ায় ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর থেকে প্রায় ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। স্থানীয় নাগরিকের পাশাপাশি অতিরিক্ত এসব রোহিঙ্গাদের সামাল দিতে শুরু থেকেই হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। তারপরও এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে বড় ধরণের কোন আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেনি। এরজন্য স্পেশালি উখিয়া থানা পুলিশ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন সচেতন মানুষ। আর রোহিঙ্গা আসার পুরো সময়টা সামালে নেতৃত্ব দিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের। একারণে ইয়াবা নির্মূলে ওসির বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে উদাসীনতার অভিযোগ নাকচ করছেন অনেকেই। তাদের দাবী, স্থানীয়দের পাশাপাশি এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা থাকা স্বত্বেও উখিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতটা খারাপ হয়নি। রোহিঙ্গাদের সামাল দেওয়ার পরও উখিয়া থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে যে ভূমিকা রেখেছে সেটাকে ‘খাটো’ করে দেখার সুযোগ নেই।

উখিয়া থানায় সদ্য বদলীর আদেশ পাওয়া (বর্তমানে রামু থানায়) ওসি আবুল মনসুর বলেন, ‘আমি যেখানে যায় না কেন আমার টার্গেট থাকে অপরাধ নির্মূল করা। তেমনিভাবে রামুতেও চেষ্টা করেছি। উখিয়ায় যোগদান করলেও আমার টার্গেট থাকবে অপরাধ নির্মূলের। তারমধ্যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ইয়াবাকে। কোন অবস্থাতেই ইয়াবার বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের বর্তমান এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন স্যার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছেন। স্যারের নির্দেশনায় উখিয়াতেও মাদকের সকল দুর্গ ভাঙতে চেষ্টা করবো।’

এদিকে গত ৭ জুলাই কক্সবাজারের কয়েকটি থানায় পুলিশে রদবদল করে আদেশ জারি করেন পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। এই আদেশে রামু থানার বর্তমান ওসি আবুল মনসুরকে উখিয়ার থানার ওসি এবং উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়েরকে রামু থানার ওসি হিসেবে বদলী করা হয়। এছাড়াও মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম চৌধুরীকে চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে বদলী করা হয়। আর চকরিয়া থানার থানার ওসি (তদন্ত) আতিক উল্লাহকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে বদলী করা হয়।

মহেশখালী থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক বাবুল আজাদকে। আদেশের তিনদিনের মধ্যে তাদেরকে যোগদান করতে বলা হয়। পুলিশে রদবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top