পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে রামু চাকমারকুল মাদ্রাসাকে মুক্ত করার সুপারিশ

palabadal-15624889161-163949-4.jpg

ডেস্ক  নিউজ:
দক্ষিণ চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহি কওমী আকিদার সবোর্চ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজারের রামু আল জামেয়াতুল দারুল উলুম চাকমারকুল মাদ্রাসায় চলমান দ্বন্ধ সংঘাত নিরসন কল্পে এক সভা রামু উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৮ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে রামু উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ প্রণয় চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল, রামু উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) চাই থোয়াইহলা চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল হক চেয়ারম্যান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ সাইফুদ্দিন খালেদ, রামু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মন্ডল, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও দাতা সদস্য এডভোকেট সোলতানুল আলম, চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এইচ এম নুরুল আলম সিকদার, গিয়াস উদ্দিন কোম্পানি, জালাল আহমদ, মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও মুহতামিমের পদ প্রত্যাশী মুফতি মাওলানা আবদুর রাজ্জাকসহ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, আলেম-ওলামাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এতে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মাদ্রাসাটি রক্ষায় উপস্থিত প্রায় সকলেই বিস্তারিত আলোচনাপূর্বক একমত হন যে, মাদ্রাসাটির সার্বিক বিষয় নিয়ে কোন দ্বন্ধ সংঘাত নেই। কিন্তু মাদ্রাসা পরিচালনায় মুহতামিমের পদ নিয়ে দাতা পক্ষের দুই জনের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্ধ প্রকট আকার ধারণ করে। এর মধ্যে বর্তমান মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম হলেন দাতা মরহুম মোহাম্মদ আলী সিকদারের নাতি। অপরদিকে মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও সবোর্চ্চ যোগ্যতামূলে মুহতামিমের পদ প্রত্যাশী মুফতি মাওলানা আবদুর রাজ্জাকও দাতা মোহাম্মদ আলী সিকদারের নাতি। দাতা মোহাম্মদ আলী সিকদারের দু’ পুত্র যথাক্রমে আমির হামজা ও আবদুর রহিমের দুই পুত্র হলেন মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ও মাওলানা আবদুর রাজ্জাক।
মুফতি মাওলানা আবদুর রাজ্জাক বর্তমান মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিনের অনিয়ম-দুনর্ীতি এবং তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। একই সাথে অন্যান্য দাতা সদস্য এবং এলাকাবাসীও মাওলানা সিরাজের মাদ্রাসা পরিচালনার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার অপসারণ দাবী করেন। অপরদিকে মুহতামিমের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মুফতি মাওলানা আবদুর রাজ্জাককে মাদ্রাসা থেকে বহিস্কার করেন চাচাতো ভাই মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। আর এভাবে পারিবারিক দ্বন্ধের কবলে পড়ে চাকমারকুল মাদ্রাসার মতো একটি ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হতে চলেছে। অথচ মাদ্রাসাটির দাতা পক্ষের অছিয়ত (নির্দেশনা) ছিল যে, দাতাপক্ষের কেউ যোগ্য হলেও যাতে মাদ্রাসার স্বার্থে মাদ্রাসা পরিচালনায় দায়িত্ব না নেয়। কারণ এতে করে মাদ্রাসাটি নিয়ে পরিবারের মধ্যে দ্বন্ধ তৈরী হবে। মাদ্রাসাটি যাতে দাতা সদস্যের স্বজনদের বাইরে থেকে একজন হক্কানি ও যোগ্য মুহতামিম নিয়োগ করে পরিচালনা করা হয়।
এদিকে মাদ্রাসার সৃষ্ট জটিলতা নিরসণ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ৮ জুলাই একটি সভায় মিলিত হতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে চিঠি দেন রামু উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা। মাদ্রাসার সৃষ্ঠ দ্বন্ধ নিরসন কল্পে স্থানীয় জালাল আহমদ, মাদ্রসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি মাওলানা আবদুর রাজ্জাকসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই উপস্থিত হলেও বৈঠকে উপস্থিত হননি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। খবর নিয়ে জানা গেছে, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করেছেন। এ অবস্থায় সভায় উপস্থিত অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা একটি ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে মাদ্রাসাটি যাতে ভালভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য দ্বন্ধ সংঘাত নিরসনের জন্য বসেছিলাম। কিন্তু মাওলানা সিরাজ তাতে উপস্থিত হননি। এতে বুঝা যায় যে, আসলেই মাওলানা সিরাজ মাদ্রাসার কোন উন্নতি ও শান্তি চান না। তিনি এভাবে মাদ্রাসাটির পদ আকঁড়ে ধরে চলতে চান।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top