বৈরি আবহাওয়াতেও কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

images-7.jpeg

শাহেদ মিজান,
পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের মুগ্ধতা সহজেই কাবু দেয় ভ্রমণপিয়াসুদের! তাই হোক যত প্রতিকূলতা; নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েও কক্সবাজারে ছুটে আসেন এই ভ্রমণপ্রেমীরা। শুধু দরকার কোনো উপলক্ষ্য! বৈরি মৌসুম হলেও ঈদ ছুটিতে কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন লাখো পর্যটক। এবার ছুটি একটু দীর্ঘ হওয়ায় পর্যটকদের অবস্থানও দীর্ঘ হয়েছে। তাই ছুটি শেষ হওয়ার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখনো বিপুল সংখ্যক পর্যটক অবস্থান করছে পর্যটনের এই নগরীতে। টানা ছয় দিন ধরে পর্যটকে ভরে আছে কক্সবাজার। আবহাওয়া মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও আগামী শনিবার পর্যন্ত পর্যটকে মুখর থাকবে পর্যটনের এই রাজধানী- এমনটি ধারণা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।

বিপুল পর্যটকের আগমণ হওয়ায় কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো বেশ চাঙ্গা রয়েছে। বিশেষ করে হোটেল-মোটেল ব্যবসা ও পর্যটক আগ্রহী পণ্যের ব্যবসা বেশ জমেছে। এতে ব্যবসায়ীদের মাঝে খুশির আমেজ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, এবারের ঈদুল ফিতরে টানা সাত দিনসহ মোট নয় দিন সরকারি ছুটি ছিলো। এর মধ্যে ঈদের দিন থেকে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। এই বৃষ্টি ঈদ উদযাপনের বড় বেশি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। তবে সোমবার পর্যন্ত আবহাওয়া ছিলো গুমোট। এই হালকা বৃষ্টি আর গুমোট আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে বিপুল পর্যটক। এসব পর্যটকেরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ইনানী, হিমছড়ি, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দূর-দূরান্তের এসব পর্যটকের সাথে জেলার বিভিন্ন স্থানের স্থানীয় লোকজনও ঈদের ছুটিতে এসব পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে এসব পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ পিপাসুদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে।

টুয়াকের সাধারণ সম্পাদক আসাফ উদ দৌলা (আশেক) জানান, ঈদের লম্বা ছুটিতে কক্সবাজারে কম হলেও তিন লক্ষাধিক পর্যটক এসেছেন। এদের মধ্যে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটকের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। তারা হালকা বৃষ্টি ও গুমোট আবহাওয়া উপেক্ষা করে কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলোতে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আরো কমপক্ষে দুই লাখ পর্যটক আসতো। তবুও এই সময়ে এই পরিমাণ পর্যটক নিয়ে সন্তুষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

টুয়াকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস.এম কিবরিয়া খাঁন জানান, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পর কক্সবাজারের পর্যটনের প্রাণ সেন্টমার্টিন। কিন্তু সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ঈদের ছুটিতে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারেনি। সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমণ থাকলেও আরো পর্যটকের সংখ্যা বাড়তো। তবে সেন্টমার্টিন যেতে না পারায় অনেক পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণের সাথে বান্দরবান, রাঙামাটিতেও চলে গেছেন।

তিনি বলেন, সোনাদিয়ার পর্যটন সম্ভাবনাকে বাস্তবায়ন করতে পারলে সেন্টমার্টিনের শূন্যতা পূরণ করা যেতো। কারণ কক্সবাজারের সাথে সোনাদিয়ার দূরত্ব কম হওয়ায় বৈরি আবহাওয়াতেও সেখানে পর্যটন গমণ সম্ভব হতো।

হোটেল-মোটেল ও গেষ্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদের আগেই প্রায় সব হোটেল-মোটেল, গেষ্টহাউজের কক্ষ বুকিং হয়ে যায়। তবে লম্বা ছুটি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ঈদের পরও নতুনভাবে কক্ষ বুকিং হয়েছে। এতে মোটামুটি ভালো ব্যবসা করেছে হোটেল-মোটেল ও গেষ্টহাউজ এবং কটেগুলো। অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক আসায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট পণ্য ভালো বেচাবিক্রি হয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। সব পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তাই কোথাও কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা বা কোনো ধরণের অঘটন ঘটেনি।’

জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোর করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক টিম পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে টহল ছিলো। আমি নিজেও পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়টি দেখতে সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করেছি।’

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top