কচ্ছপিয়ায় মাত্র ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ৪ ঘটনায় ৪ লাশ

images-9.jpeg

সংবাদদাতা :
রামু উপজেলার গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন এলাকায় একের পর অঘটন বেড়েই চলছে রহস্যজনকভাবে। গত ৩০ মে থেকে ৬ জুনের মধ্যেই ৪ ঘটনায় ৪টি লাশ পড়েছে। এদের মধ্যে ১ জন ছাত্র । আর অপর ৩ জন সাধারণ কৃষক। ঘটনা সমূহ আন্তরিকভাবে সামাল দিতে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আর স্থানীয় গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ীর কর্তারা চেষ্টা চালালেও অপরাধীদের নাটকীয়তায় এসব ঘটনা এলাকাকে কলুষিত করে চলছে দিনদিন। স্থানীরা বলছেন,অপরাধীদের শাস্তি হলে ঘটনার পূনরাবৃত্তি হতো না। এলাকাতে আগের মতো শান্তি বিরাজ করতো।
সরেজমিন গিয়ে আরো জানা যায়,প্রথম ঘটনা ৩০ মে বৃহস্পতিবার বাদে আছরের সময় কচ্ছপিয়া গ্রামের মহসিন মেম্বারের বাড়ির সামনে। একটি টমটম হঠাৎ এসে কচ্ছপিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় ছাত্র রায়হান উদ্দিন (৮)কে ধাক্কা দিয়ে জখম করে। পরে মারা যায় সে। তার পিতার নাম বদিউল আলম। তিনি একজন আর্দশ কৃষক। মা খদিজা বেগম গৃহিনী। খদিজা বেগম জানান,তার ছেলে এ ঘটনায় মারা যাওয়ার পর কচ্ছপিয়া গ্রাম নয় শুধু পুরো ইউনিয়নেই আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলেকে হারানোর বেদনায় রাত-দিন তার ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
একদিন পর ১ জুন শনিবার পরপর ২টি লাশ পড়লো এ ইউনিয়নে। একটি রোহিঙ্গা কর্তৃক উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাতে খুন অপরটি রহস্যজনক মৃত্যু। সে দিন রোহিঙ্গারা পরিকল্পিতভাবে খুন করে রোজাদার কৃষক আবু তালেবকে। এ ঘটনা ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা গ্রামের মুরার পাড়ার হাজি ইসমাঈলের ঘোনায় ঘটে নির্মমভাবে। নির্দয় রোহিঙ্গারা আবু তালেবের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উল্টিয়ে দেখেই এলাকা ছাড়ে। এ ঘটনায় ৭ জনকে নামীয় আসামী আর অজ্ঞাত নামা আসামী করা হয়েছে কয়েকজনকে। নামীয় আসামীর মধ্যে কয়েকজন মেম্বার ও কয়েকজন নেতা মিলে পরিষদের নুরুল আবছার মেম্বারকে এ ঘটনায়
২ নম্বর আসামী করার অভিযোগ করেছেন আবছার মেম্বারের সমর্থকরা।
অপর ঘটনা ইউনিয়নের দৌছড়ি লামার খামার এলাকায়। এখানে মারা যায় কামাল উদ্দিন ( ৪৫) নামের এক কৃষক। তার স্বজনরা জানান,জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শত্রুরা তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলো প্রায় ১ মাসের অধিক সময় ধরে। কিন্তু তাকে পুলিশ উদ্ধার করে ফাঁসির রশি থেকে। এখানে রহস্য আছে দেখছেন তারা।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে ৬ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে। বুধবার রাতের চোর ঠেকাতে দেয়া বৈদ্যুতিক তারে বৃহস্পতিবার দুপুরে কৃষক শাহ আলম এ বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যায়। এলাকার শান্ত সুবোধ এ কৃষকের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কৃষক শাহ আলমের ছেলে মো: আবদুল্লাহ সহ পরিবারের সদস্যরা এ প্রতিবেদককে জানান,নুরুল আমিন তথা লতা আমিন মুরগী খামারের চোর ধরতে বিদ্যুতের তারে ফাঁদ বসিয়েছিলো তিনি। এ ফাঁদে তার পিতা মারা যান। গ্রামবাসী জানান,শাহ আলমকে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ফাক্রিকাটা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, এই ৪ ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ১টি। বাকী ৩ টি ঘটনায় স্থানীয় নেতারা সামাজিক অনুরোধে মধ্যস্থতা করে মামলা করতে দেননি। যাতে করে একদিকে শান্তির আশা করা হলেও অপরাধীরা
র্মাডারের মতো ঘটনা থেকে বেচেঁ গিয়ে পূনরায় কী করে, এখন তা-ই দেখার বিষয়।
এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা সাংবাদিকদের জানান,আসলে কচ্ছপিয়ায় সম্প্রতি ৪ টি ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। বিষয় গুলো কেন-কীভাবে হলো তিন আরো খোঁজ খবর নেবেন। এ ধরণের ঘটনা কখনও সুখকর নয়। এ সব ঘটনায় কোন রহস্য থাকলে খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top