রামু থানার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ : সেবাগ্রহীতাদের সন্তোষ

Screenshot_2019-05-13-15-23-03-899_com.android.chrome.jpg

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

“বাঘে ছুঁলে ১৬ ঘা-থানায় গেলে ৩২ ঘা।” এই প্রবাদবাক্য বাস্তবে কতটুকু সত্য সেটা জানিনা। তবে সাধারণ মানুষ থানায় যেতে ভয় পায়, আতংকিত হয়-দালাল, মামলাবাজ, ফড়িয়া, ধোকাবাজ, কথিত মুন্সী, অসাধু পুলিশ সদস্য ইত্যাদির কবলে পড়ে অযথা হয়রানির শিকার হওয়ার আশংকায়। আবার অনেকে পুলিশের শরণাপন্ন হওয়াকে সম্মানহানিকর মনে করে, থানায় নাগিয়ে প্রতিপক্ষের নির্যাতন চোখবুঝে সহ্য করে থাকেন। এজন্য ক্ষতিগ্রস্থ কিংবা নির্যাতিত হয়েও প্রতিকার পেতে এদেশের মানুষের অনেকেই থানায় কিংবা পুলিশের কাছে সহজে যেতে চাননা।

অবশ্য পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে এবিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে পুলিশ সম্পর্কে এরকম নেতিবাচক ধারণা সম্প্রতি কিছুটা হলেও পাল্টাতে শুরু করেছে। থানায় গিয়ে একটা জিডি এন্ট্রি করা মানে-অনেক বিড়ম্বনা। প্রথমে জিডি লেখককে খুজেঁ ববের করা, জিডি লেখক’কে সম্ভ্যাব্য ঘটনা বুঝিয়ে বলা, জিডি’কে আইনীধাচে নিয়ে আসা, সেটিকে কম্পিউটার টাইপ করা, টাইপ করা জিডি থানায় ডিউটি অফিসারের কাছে নিয়ে যাওয়া, জিডিটি স্পর্শকাতর বিষয়ে হলে ডিউটি অফিসার সে জিডি এন্ট্রি করবেন কিনা-সেটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে জেনে নেয়া, জিডি এন্ট্রির কথিত বখশিস দেয়া, জিডি’র রিসিভ কপিতে সীল মারা ইত্যাদি বিড়ম্বনার যেন কোন শেষ নেই।

জিডি মানে জেনারেল ডায়রী অর্থাৎ সাধারণ ডায়রী। এই সাধারণ একটি বিষয় সম্পাদন করতে সাধারণ সেবাগ্রহীতাকে কত অসাধারণ বিড়ম্বনা, বিভ্রাতকর পরিস্থিতি ও অর্থ খরচ হয়, অযথা ঝামেলা পোহাতে হয়-তা বলে-লিখে শেষ করা খুবই মুশকিল। কিছু কিছু পুলিশী থানার এ রকম হয়রানীমূলক পরিস্থিতিতে রামু থানা কর্তৃপক্ষ জিডি এন্ট্রি বিষয়ক ব্যতিক্রমী একটি বিলবোর্ড সম্প্রতি টাঙ্গিয়ে দিয়ে দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন। রামু থানার জিডি এন্ট্রি করার রুমের সামনে টাঙ্গিয়ে দেয়া এ বিলবোর্ড লেখা হচ্ছে-“রামু থানায় জিডি এন্ট্রি ও জিডি লিখতে কোন টাকা লাগেনা”।

এ বিলবোর্ডটি টাঙ্গিয়ে দেয়ার পর রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর জিডি এন্ট্রিকর্তা সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতাকে কোন হয়রানী করছেন কিনা, সেবাগ্রহীতাকে কোন বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে কিনা-সেবা গ্রহীতাকে দালালেরা উৎপাত করছে কিনা-তিনি নিজেই সরাসরি তদারক ও খোঁজখবর রাখছেন।

গত ১২ মে রামু থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেছেন এরকম নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেবাগ্রহীতা সিবিএন-কে বলেছেন, তার জিডিটি রামু থানার একজন পুলিশ লিখে ও টাইপ করে দিয়েছেন এবং ডিউটি অফিসার সেটি এন্ট্রি করে দিয়েছেন। অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে, দ্রুততম সময়ে ও ঝামেলাবিহীনভাবে রামু থানায় তার জিডিটি এন্ট্রি করেছেন বলে উক্ত সেবাগ্রহীতা সিবিএন-কে জানান। এজন্য উক্ত সেবাগ্রহীতা রামু থানা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে এজন্য কপাল পুড়েছে থানার ভিতরে, বারান্দায় ও সামনে মক্কেলের অপেক্ষায় থাকা কথিত মুন্সী, লেখক, দালাল, ফড়িয়া ও সবজান্তা মাতবরদের।

এবিষয়ে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর সিবিএন-কে বলেন-শুধু জিডি লেখা ও এন্ট্রির ক্ষেত্রে নয়-রামু থানার সব ধরণের সেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাকিধার দেয়া হচ্ছে। পুলিশ জনগণের আতংক নয়-জনগণের বন্ধু-পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদেরই আতংক-এ ধারণাই সবার মাঝে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। রামু থানাকে গড়ে তুলতে চাই জনবান্ধব একটি আদর্শ থানা হিসাবে। অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল মনসুর রামু থানার তার সকল সহযোগীকে সেবাগ্রহীতাদের সব বিষয় সবসময় সর্বোচ্চ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা, দোয়া ও আশীর্বাদ করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top