জামায়াতের সংস্কারপন্থিদের নতুন দল ঘোষণা আজ

Presentation1-82.jpg

নতুন দল গঠন করছেন জামায়াতের সংস্কারপন্থি নেতারা। এটিকে আপাতত তারা নতুন রাজনৈতিক দল নয় বরং ‘উদ্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করতে চাইছে। আজ ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেই রাজনৈতিক ‘উদ্যোগে’র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। এ জন্য একটি ঘোষণাপত্রও চূড়ান্ত করেছেন তারা। সংস্কারপন্থি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ঘোষণার পর আগামী তিন মাসের মধ্যে দলের গঠনতন্ত্র, ইশতেহার চূড়ান্ত করে রাজনীতিতে সোচ্চার হওয়ার পরিকল্পনা তাদের। তবে সংস্কারপন্থিদের এই উদ্যোগে মূল দলের বা ছাত্রশিবিরের কেউ যাতে শামিল না হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা নজরদারি বাড়িয়েছেন। নতুন উদ্যোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনই তারা সরাসরি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেবেন না। নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগে ইসলাম বা ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোকে অনুসরণ করা হবে না। সাম্য ও মানবাধিকারকে বেশি গুরুত্ব দেবেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংস্কারপন্থিদের উদ্যোগে গড়া নতুন দলের নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এ দলে যারা থাকছেন তারা সবাই বয়সে তরুণ ও শিবিরের সাবেক নেতা। মূলত একাত্তর-পরবর্তী প্রজন্মের লোকজনকে নিয়ে নতুন দল গঠন করা হচ্ছে। শিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত মজিবুর রহমান মঞ্জু দল গঠনে সমন্বয়কের ভূমিকায় রয়েছেন। ঠিক কারা এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে চাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আপাতত এই প্রক্রিয়ায় সামনে থাকছেন জামায়াতে ইসলামী থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মজিবুর রহমান (মঞ্জু)। তিনি একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ছিলেন। এই উদ্যোগের সঙ্গে পরে সরাসরি যুক্ত হবেন জামায়াত ত্যাগ করা দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। তিনি বর্তমানে লন্ডনে বসে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। আজ সংবাদ সম্মেলন করে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন মজিবুর রহমান মঞ্জু। এ লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার একটি মিলনায়তন ঠিক করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথি বা পর্যবেক্ষক হিসেবে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। জানতে চাইলে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্যোগের বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে। সেখানে কেন আমরা রাজনৈতিক দল গঠন করব, কারা থাকবেন- এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপরই মূলত নতুন দলের নাম, গঠনতন্ত্র, ইশতেহার নিয়ে আমরা কাজ শুরু করব।’ তিনি বলেন, ‘আমি নিজে যেহেতু শিবিরের সভাপতি ছিলাম, সে হিসেবে শিবিরের অনেকেই এর সঙ্গে থাকতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এতে সম্পৃক্ত হবেন।’ সংস্কারপন্থিদের নতুন দল গঠন নিয়ে চাপ ও উদ্বেগে ফেলেছে জামায়াতের মূল নেতৃত্বকে। ইতোমধ্যে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। জানা গেছে, এ প্রক্রিয়ায় জড়িতদের পর্যবেক্ষণে রেখেছেন নীতিনির্ধারকরা। সংস্কারপন্থি নেতারা জানান, দলের কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মী যাতে নতুন দল গড়ার উদ্যোগে অংশ না নেন, সে জন্য কড়া নজরদারির পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহী অঞ্চলের জামায়াত ও শিবিরের অন্তত অর্ধশত নেতা ও সদস্যকে ডেকে আলাদাভাবে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ডেকে নেয়া নেতাদের কাউকে কাউকে শাসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব নেতার কেউ কেউ সংস্কারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। জামায়াতে সংস্কার নিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকেই বিরোধ চলছে। ১৯৭৭ সালে ধর্মভিত্তিক দল গঠনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর জামায়াত নেতারা মওলানা আবদুর রহিমের নেতৃত্বে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল) গঠন করেন। স্বাধীনতা বিরোধিতাকারীদের অন্যতম নেতা গোলাম আযম দেশে ফিরে ১৯৭৯ সালে জামায়াত পুনরুজ্জীবিত করেন। দলচু্যত হন সংস্কারের দাবি করা আবদুর রহিম। সংস্কারের দাবিতে ১৯৮১ সালে জামায়াত-শিবিরে ফের অস্থিরতা দেখা দেয়। তখন যারা সংস্কারের দাবি করেছিলেন তাদের দল ছাড়া করা হয়। ২০০৭ সালে ফের জামায়াতে সংস্কারের দাবি ওঠে। ২০১০ সালে কামারুজ্জামান, আবদুর রাজ্জাক ও মীর কাসেম আলী সংস্কারের প্রস্তাব করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তখনও সংস্কারের জন্য কমিটি হয়। তবে মতিউর রহমান নিজামীসহ রক্ষণশীল নেতাদের বিরোধিতায় সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে জামায়াত। এখনও অনড়।

যাযাদি রিপোর্ট

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top