পঞ্চগড়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী

কাদিয়ানীদের যারা মুসলমান মনে করবে তারা অমুসলিম হয়ে যাবে

images-1.jpeg

দিসিএম ডেস্ক

হেফাজতে ইসলামের আমীর ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেছেন, কাদিয়ানীরা মুসলমান নয়। তারা অমুসলিম। তাদেরকে যারা মুসলমান মনে করবে তারাও অমুসলিম হয়ে যাবে। কারণ তারা আমাদের নবীকে (সা.) শেষ নবী মানে না। সেজন্য তারা কাফের। যারা এদেরকে কাফের বলবে না তারাও কাফের। সৌদি আরব, পাকিস্তানসহ অন্য রাষ্ট্রে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। হাসিনা সরকারও কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করবে বলে প্রত্যাশা করছি।

যারা বিভিন্ন লোভে কাদিয়ানী হয়ে গেছে তাদেরকে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে ইসলামের পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, কাদিয়ানীরা কাফের হওয়ায় তাদের মেয়েকে বিবাহ করা যাবে না। কাদিয়ানীদের ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়েও দেয়া যাবে না। গতকাল দুপুরে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে সম্মিলিত খতমে নবুওয়াতের সম্মেলনে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শফীর মোনাজাত পরিচালনার আগে তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে কওমি শিক্ষা বোর্ডের মহা পরীক্ষক মাওলানা আনাস মাদানী। সম্মেলনে খতমে নবুওয়াতের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সম্মিলিত খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ পরিষদের পঞ্চগড় জেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ড. আব্দুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে বলেন, গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নামে একজন ব্যক্তি নিজেকে নবী দাবি করেছে। সে কাফের।  বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশেও ১৯৯৩ সালে হাইকোর্টের রায়ে এরা কাফের সাব্যস্ত হয়েছে। অবিলম্বে এই রায়কে কার্যকর করতে হবে। মুসলিম পরিচয়ে কাদিয়ানীরা এই দেশে বসবাস করতে পারবে না। এই দেশে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করে সংখ্যালঘু হিসেবে থাকতে দেয়া হোক। কাদিয়ানীরা ছাড়াও কয়েকটি সম্প্রদায় ইসলামকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। এদের মধ্যে আহমদ রেজা খান দেহলভির রেযাখানি ফেরকা, আবুল আলা মওদুদির মওদুদি মতবাদ, লা মাযহাবী ও আহলে হাদিসের বিশ্বাসীরা, তাবলীগ জামাতের সাদপন্থি মতবাদ ও খ্রিষ্টান মিশনারীদের অন্তর্ভুক্তরা ইসলামের নামে ধোঁকা দিচ্ছে। পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন খতমে নবুওয়াত মারকাযের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মুফতি শুয়াইব ইব্রাহিম, ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়াত মুভমেন্ট বাংলাদেশের আমীর মাহমুদুল হাসান মমতাজী, জামিয়া ইসলামিয়ার অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা আব্দুল হামিদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ড. আ.স.ম শোয়াইব আহাম্মদ, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল ও জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা নুরুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। 
আপনার মন্তব্য লিখুন
Top