মহেশখালীতে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় এলএনজি টার্মিনাল

thecmbd-13.jpg

মহেশখালীতে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় এলএনজি টার্মিনাল

জসীম চৌধুরী

পেট্রোবাংলার অধীনে প্রথম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালুর পর এখন কক্সবাজারের মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রে বেসরকারি মালিকানায় দ্বিতীয় টার্মিনাল চালু হতে যাচ্ছে। চলতি এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ বা মে মাসের প্রথম দিকে এই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেও জাতীয় গ্রিডে পুরোদমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্বিতীয় টার্মিনাল ‘এফএসআরইউ এক্সিলারেট’ ২০ এপ্রিল মহেশখালীতে এসে পৌঁছার কথা রয়েছে। আসার পরপর এর কমিশনিং সম্পন্ন করে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা হবে। আসার পথে ফ্লোটিং স্টোরেজ ইউনিট এক্সিলারেট কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে আসবে। প্রথম টার্মিনাল ‘এক্সিলেন্স’ আসার প্রায় এক বছর পর আসছে দ্বিতীয় টার্মিনাল ‘এক্সিলারেট’। ৫০ কোটি ডলার (৪২৫০ কোটি টাকা) ব্যয়ে এই টার্মিনাল নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা বাংলাদেশের সামিট গ্রæপ হলেও পরে জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশনের ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানান, জি টু জি চুক্তি অনুযায়ী কাতার এবং সুইজারল্যান্ড থেকে এলএনজি আমদানি করছে পেট্রোবাংলা। সেই এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) কাছে সরবরাহ করবে ভাসমান টার্মিনাল। এ জন্য সামিট গ্রæপকে প্রতি বিলিয়ন বিটিইউ গ্যাসের জন্য ৪৫ সেন্ট করে পরিশোধ করবে পেট্রোবাংলা। বিল্ড, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (বিওটি) ভিত্তিতে ১৫ বছর পর টার্মিনালটি পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করবে সামিট গ্রæপ। ২০১৭ সালে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সঙ্গে এ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় সামিট গ্রæপের। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষের দিকে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও নানা কারণে তা বিলম্বিত হয়। এখন সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাওয়ায় এ মাসের শেষে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। তবে শুরুতে এর অর্ধেক সরবরাহ করা যাবে। সঞ্চালন লাইনের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে পূর্ণ ক্ষমতায় সরবরাহ দেওয়া যাবে।
কাতার, সুইজারল্যান্ড ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ওমানের সঙ্গেও সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে আগামীতে এলএনজি আমদানির জন্য। মূলত শিল্প-কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে এলএনজি আমদানিতে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন পেট্রোবাংলা এবং আরপিজিসিএলের সূত্র।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top