খুন হওয়া মেয়ে ৬ মাস পর জীবিত উদ্ধার

thecmbd-12.jpg
কক্সবাজারে নিজের মেয়েকে আত্মগোপনে রেখে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে ফেঁসে যাচ্ছেন এক বাবা। মেয়েকে অপহরণ পূর্বক খুন করার অভিযোগ এনে বাবার দায়ের করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পিলে চমকানো এ তথ্য বের করে আনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল এলাকায়।
গত ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামের কাপ্তাই রাস্তার মাথায় মাহেরা ইপিজেড এলাকার একটি গার্মেন্টস থেকে কথিত খুনের শিকারের দাবী করা জুলেখা বেগমকে উদ্ধার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতের কাছে সৌপর্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া কথিত খুনের শিকার জুলেখা বেগমের প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে মিথ্যা মামলায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পুরো নাটক।
সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে শহরের বাহারছড়াস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পিবিআই’র ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মেজবাহ উদ্দিন। এসময় তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো. মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর কুতুবদিয়া আলী আকবর ডেইল এলাকার নুর মোহাম্মদ বাবুল নামে এক ব্যক্তি তার মেয়ে জুলেখা বেগমকে (১৯) অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তার মেয়ে ও তৎকালীন কুতুবদিয়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী জুলেখা বেগম কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আলাউদ্দিনসহ চারজন ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাকে হত্যা করা হয়।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেয়। পিবিআই’র ইন্সপেক্টর মো. মনির হোসেন মামলা তদন্ত করতে গিয়ে বেশকিছু রহস্যের মুখোমুখি হন।
মনির হোসেন জানান, বাদী (নুর মোহাম্মদ বাবুল) বার বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নানাভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে। বাদীর এমন আচরণে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে বাদী বা বিবাদী পক্ষের কাউকে না জানিয়ে তিনি কুতুবদিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাদী এবং বিবাদীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসার তথ্য পান।
মনির হোসেন আরও জানান, বাদী নুর মোহাম্মদ বাবুল ও তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নং এবং ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জুলেখার সাথে তার বাবার মুঠোফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। পরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১১ এপ্রিল চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস থেকে জুলেখা বেগমকে উদ্ধার করা হয়। আদালত বন্ধ থাকায় ওইদিন তাকে আদালতে সৌপর্দ করা সম্ভব হয়নি। পরে সোমবার তাকে আদালতে সৌপর্দ করা হয়।
পিবিআই’র ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, প্রতিপক্ষের সাথে বাদী নুর মোহাম্মদ বাবুলের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য শেষ পর্যন্ত নিজের মেয়েকে ব্যবহার করে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি সফল হননি। বাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
আপনার মন্তব্য লিখুন
Top