নববর্ষে সাজছে কক্সবাজার

f1075c305c03f51a169719ce2b01c8a5-5ca5a7c713a6a-2.jpg

সুজাউদ্দিন রুবেল :
নববর্ষকে স্বাগত জানাতে নতুন সাজে  সাজছে সৈকত শহর কক্সবাজার। প্রতি বছরের মতো এবছরও পহেলা বৈশাখ উদযাপনে কক্সবাজারে আসতে শুরু করেছে বিপুল সংখ্যক পর্যটক। ইতোমধ্যে শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে চার শতাধিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্টের সব কক্ষ। তাই পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে পহেলা বৈশাখে আয়োজন করা হচ্ছে নানা অনুষ্ঠানের। আর ট্যুরিস্ট পুলিশও নিরাপত্তায় নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত শহর কক্সবাজার। কোন উপলক্ষ হলেই এখানে ভিড় বাড়ে পর্যটকের। আর পহেলা বৈশাখ হলেতো কথাই নেই। তাই পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে নানা রঙে সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে উৎসবে রূপ নেবে পর্যটন শহর। ইতোমধ্যে শতভাগ বুকিং হওয়া চার শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আসতে শুরু করেছে পর্যটক। যা বিপুল সংখ্যক পর্যটক আগমনেরই ইঙ্গিত দেয়।
গতকাল শুক্রবার সকালে সরজমিনে হোটেল মোটেল জোনের তারকামানের হোটেলগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে সাজ সাজ রব। হোটেল প্রবেশদ্বারেই শোভা পাচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ লেখা নানা রঙে রাঙানো প্ল্যাকার্ড। তারপর হোটেলের ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে নানা রঙের মুখোশ, হাতি, হরিণ, গ্রাম-বাংলা দৃশ্য ও আলপনা। এছাড়াও করা হয়েছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য গ্রামীণ মেলা। যাতে থাকছে নানা ধরণের স্টল। সব মিলিয়ে নতুন সাজে সেজেছে পর্যটন নগরীর হোটেল মোটেল জোন।
হোটেল কক্স-টুডের ম্যানেজার অং বলেন, হোটেলের সব রুমই শতভাগ বুকিং। তাই বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হোটেলকে রাঙ্গিয়েছি কল্পনার রঙে। পর্যটকদের আসা শুরু হয়েছে এবং পহেলা বৈশাখে যারা আসবে তারা যাতে আনন্দের সাথে বাংলা নববর্ষ উপভোগ করতে পারে সেজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সী গাল হোটেল ম্যানেজার নুর-ই-আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর পহেলা বৈশাখ ভাল পর্যটকের সাড়া পেয়েছি। তাই এবার আগত পর্যটকদের জন্য পহেলা বৈশাখে দুপুরে স্পেশাল বাঙালিয়ানা খাবার ও রাতে বার-বি-কিউ স্থানে থাকছে বৈশাখী বাউলিয়ানা নামে একটি অনুষ্ঠান। এতে হোটেলে আগত পর্যটক ও বাইরের অতিথিরা উপভোগ করতে পারবে।
হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র আবু তালেব শাহ বলেন, পহেলা বৈশাখে পর্যটকে ভরপুর থাকবে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। ইতিমধ্যে পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৩ লাখের অধিক পর্যটকের আগমন হবে বলে ধারণা করছি। তাই এসব পর্যটকদের আনন্দ দিতে প্রায় হোটেল থাকছে ভিন্ন মাত্রিক আয়োজন। ফলে কক্সবাজারে পর্যটকরা ভালোই উপভোগ করতে পারবে পহেলা বৈশাখ।
ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফখরুল ইসলাম জানান, পহেলা বৈশাখে যেহেতু বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে; সেহেতু পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকল ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সৈকত ও পর্যটন স্পটগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। ফলে নিরাপদে পর্যটকরা কক্সবাজারে ঘুরতে পারবে বলে আশা করি।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় জানান, বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে জেলা প্রশাসন নানা আয়োজন করছে। তারমধ্যে সকাল ৭টায় বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণ, সকাল ৮টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, ৯টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিকাল ৪টায় সমুদ্র সৈকতে ঘুড়ি উৎসব ও বিকাল ৫টায় বৈশাখী বীচ র‌্যালি করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top