টেকনাফে বউয়ের জ্বালায় আত্মহত্যা

chakaria-thana-12-4-19-1.jpg

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ
দাম্পত্য কলহের জের ধরে এক রাজমিস্ত্রী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আতœহত্যা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পারিবারিক অভিযোগ না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ায় ঘটেছে এ ঘটনা।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ১৩ এপ্রিল সকালে উপজেলার হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার প্রবাসী নুরুল ইসলামের পুত্র আব্দুল আমিন মিস্ত্রী (২৮) এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে অনবরত কল আসে। দীর্ঘক্ষণ রিং পড়ার পর রিসিভ না হওয়ায় পাশের বাড়িতে থাকা তার ভাই আব্দুর রহমান প্রকাশ সৈকত গিয়ে ডাকাডাকি করে। কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের জানালা ভেঙ্গে ঘরে ডুকে দেখে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় আবদুল আমিন মিস্ত্রীর মৃতদেহ ঝুলছে। সৈকতের কান্নার শব্দে মা-ভাই, বোন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আব্দুল আমিনের ঝুলন্ত মৃতদেহ নামিয়ে ফেলে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করা হলে টেকনাফ মডেল থানার এসআই নুরুল ইসলাম সকাল ১১টায় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পারিবারিকভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না করায় প্রশাসনিকভাবে যাবতীয় কার্য্যক্রম সম্পন্ন করে দাফন করা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার এসআই নুরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। পারিবারিকভাবে কোন অভিযোগ না থাকায় প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনায় মৃতদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে’।
এলাকাবাসী জানান, বিগত ৪ বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে পালিয়ে বিয়ে করেন পশ্চিম সিকদার পাড়ার প্রবাসী নুরুল ইসলামের পুত্র আব্দুল আমিন (২৮) এবং ঊলুচামরীর নুর মোহাম্মদ প্রকাশ নুরাইয়ার মেয়ে নুর আয়েশা (২২)। ছেলে পক্ষ প্রথমে এই বিয়ে মেনে নিতে না চাইলেও পরে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেনে নেয়। তাদের সংসারে মরিয়ম (৩) নামে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর নুর আয়েশা স্বামী আবদুল আমিনের উপর কর্তৃত্ব খাটিয়ে মা-বোন, ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে বাড়ির পাশে আলাদা ঘর করে বসবাস করে আসছিল। তাদের মধ্যে প্রায় সময় সাংসারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগে থাকতো। স্থানীয় মহিলা মেম্বার তাদের একাধিকবার সালিশ করে। সম্প্রতি স্ত্রী নুর আয়েশা অসুস্থতার কারণে ডাক্তারী পরামর্শে স্বামীর সাথে রাতযাপন বন্ধ করে দেন। স্বামী কোন কারণে স্ত্রীর নিকট গেলে স্ত্রী ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। যা নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে হাস্যরস কথা-বার্তা আবার ক্ষোভও দেখা গেছে। এসব অজুহাতে স্ত্রী নুর আয়েশা মেয়েসহ গত ১ মাস ধরে বাপের বাড়িতে অবস্থান করছে। স্বামী আব্দুল আমিন সময়-অসময়ে শশুর বাড়িতে যায় এবং স্ত্রীর সাথে অন্তরঙ্গ মুর্হুত কাটাতে চায়। কিন্তু স্ত্রী ও শশুর পক্ষের বেপরোয়া আচরণে পূর্বেও কয়েক বার এই রাজমিস্ত্রী আতœহননের চেষ্টা চালিয়েছিল। স্বজনেরা পাহারায় রেখে কোন প্রকারে রক্ষা করে। গত ১২ এপ্রিল দুপুরে শশুর বাড়ি হতে মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে বাজারে এসে কেনা কাটা করে রাতে শশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে গেলে স্ত্রীর সাথে কথা কাটাকাটি ও মারামারির উপক্রম হয়। শেষ পর্যন্ত চরম অভিমানে বাড়িতে চলে আসে। স্ত্রীর সাথে অভিমান করে ১৩ এপ্রিল সকালে আতœহত্যা করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top