গ্রামীণ চেহারায় শহরের রূপ

f1075c305c03f51a169719ce2b01c8a5-5ca5a7c713a6a-3.jpg

এম. বেদারুল আলম :
জেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ের  প্রকল্পে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে । চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে জেলার ৮ উপজেলায় ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ১২ কোটি ৯৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। উক্ত কর্মসৃজন প্রকল্পের জন্য জেলায় ১৬ হাজার ১শ ৬৮ জন বেকার হতদরিদ্র প্রান্তিক জনগোষ্টিকে উপকারভোগি শ্রমিকের আওতায় আনা হয়। নিয়ম অনুয়ায়ি ৪০দিনের মধ্যে স্থানিয় চেয়ারম্যান , মেম্বারগণ গ্রামিণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন , রাস্তাঘাট, সড়ক সংস্কার, পুকুর ডোবা, সাকোঁ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কারসহ উন্নয়নমূলক কাজ সমাপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়। উক্ত প্রকল্পের একজন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি নির্ধারন করা হয় যার মধ্যে ১৭৫ টাকা কাজ শেষে অপর ২৫ টাকা সঞ্চয় হিসাবে কেটে রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য মতে জেলার ৭১ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য গৃহিত ৩১৮ প্রকল্পের প্রায় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ি সদর, পেকুয়া, রামুতে কাজের বাস্তবায়ন বেশি এগিয়ে রয়েছে। কাজের গতি কমেছে টেকনাফ এবং চকরিয়ায়। প্রথম পর্যায়ের কাজ গত নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে মার্চ পর্যন্ত চলেছে।  গত বছর প্রকল্প বাস্তবায়নে  ব্যাপক দূর্নীতি , নানা অনিয়ম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব এবং ট্যাগ অফিসারদের ব্যাপকহারে উৎকোচ আদায়ের কারনে কাংখিত উন্নয়ন না হওয়ায় এ বছর প্রশাসন কড়া নজরদারির কারনে উন্নয়ন হয়েছে দৃশ্যমান।
জানা যায়, কক্সবাজার জেলায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে গ্রামিন অবকাঠামো উন্নয়নে হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ১২ কোটি ৯৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। উক্ত টাকায় প্রায় সাড়ে ৩শ গ্রামিন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ককসবাজার সদরের ২০২৬ জন শ্রমিকের জন্য ১ কোটি ৬২ লাখ ৮ হাজার টাকা, রামুর ২০৫৯ জনের  জন্য  ১ কোটি ৬৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা, চকরিয়ার ৩০৩৭ জনের জন্য ২ কোটি ৪২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা, পেকুয়ার ১২১২ জনের জন্য ৯৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা, মহেশখালীর ৩১৩৫ জনের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টাকা, কুতুবদিয়ার  ৮৭৭ জনের জন্য ৭০ লাখ ১৬ হাজার টাকা, উখিয়ার ১৭৬৫ জনের জন্য ১ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা, এবং টেকনাফের ২০৫৮ জনের জন্য  ১ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। উক্ত প্রকল্পে উখিয়া ও টেকনাফের জন্য ৩ কোটি টাকার উর্ধে বরাদ্দ দেয়া হলেও ব্যাপক অনিয়ম এবং রোহিঙ্গাদের কারনে কাংখিত উন্নয়ন হয়নি বলে স্থানিয়দের অভিযোগ। এছাড়া কোন কোন জনপ্রতিনিধি কর্মসৃজনের শ্রমিকদের নিজেদের বাড়ির কাজে এবং পছন্দসই ব্যক্তিদের কাজে ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে।
এদিকে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল আলম শাকিব জানান, আমার কক্সবাজার সদর এবং  মহেশখালীতে ৯৬ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। যা সবার উপকারে এসেছে। তিনি কোন অনিয়ম হয়নি দাবি করে বলেন, শ্রমিকরা তাদের মজুরী যথাযত পেয়েছে। কাজের মান ও ভাল হয়েছে। ফলে উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রকল্পের সুফল উপভোগ করেেত পারছে। সরকার গ্রামীণ উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করায় পাল্টে যাচ্ছে মফস্বল এলাকার চেহারা। তিনি রোহিঙ্গাদের কারনে স্থানীয় কমিউনিটি ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য আলাদা বরাদ্দের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
টেকনাফ ও উখিয়ায় কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজের মান অগ্রগতি বিষয়ে জানার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পবিত্র মন্ডলের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করে কোন তথ্য না দিয়ে ১০ মিনিট পরে ফোন করবেন বলে সংযোগ কেটে দেন। পরে আর যোগাযোগ না করেই সংযোগ বন্ধ রাখেন। ফলে কাজের অগ্রগতি ও নানা অনিয়মের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৩১৮ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার কারনে গ্রামের জনপদের উন্নয়ন যেমন তরান্বিত হয়েছে তেমনি সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠি এর সুফল পেতে শুরু করেছে। সরকার গ্রামের প্রতি নজর দেওয়ায় বরাদ্দ বৃদ্ধির কারনে অবকাঠামোগত উন্নয়ন তরান্বিত হচ্ছে। ফলে প্রথম পর্যায়ের কাজ সফল ভাবে সম্পন্ন হওয়ার কারনে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলতি এপ্রিলে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে তবে এখনো বরাদ্দ উপজেলা পর্যায়ে না পৌছায় চলতি মাসের শেষ নাগাদ শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top