টেকনাফে মাদক বিরোধী সমাবেশ পুলিশ সুপার

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সম্মান নয়, তাদের মুখে থু থু ছিটিয়ে দিন

56189944_1304295049721705_7595995614001758208_n-768x576-24.jpg

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন। তাদের আর সম্মানিত করবেন না। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহবান জানিয়ে তিনি বলে তাদের মুখে রাজাকারদের মতো থু থু ছিটিয়ে দিন। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ করুন নইলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। শুক্রবার (১২এপ্রিল) বিকালে টেকনাফ পৌরসভার পানবাজার এলাকায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদক,দূর্নীতি, অর্থ ও মানব পাচার বিরুধী সচেতনতা মুলক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, চোরের দশ দিন গৃহস্থের একদিন। চোর দশদিন চুরি করবে কিন্তু একদিন ঠিকই ধরা পড়বেন। ইয়াবা আনবেন, আলিশান বাড়ি করবেন ঠিকই একদিন ধরা পড়বেন। কাজেই আপনি যতই কৌশলে ইয়াবার কারবার চালিয়ে যান না কেন একদিন না একদিন আপনি আইনের হাতে ধরা পড়বেনই। এই ম্যাসেজটা অন্যদের পৌঁছে দেবার জন্য তিনি সবার প্রতি আহবান জানান। তিনি ইয়াবা কারবারীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করার জন্য টেকনাফ বাসীর প্রতি আহবান জানান। তবে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে যেন কেউ কাউকে ইয়াবা কারবারী বানানোর চেষ্টা না করেন।
উপস্থিত দর্শকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটিতে কোন ইয়াবা ব্যবসায়ী থাকলে তাদের তথ্য দিন তাদেরকে টেনে নামানোর ব্যবস্থা করা হবে । তাছাড়া কোন চেয়ারম্যান-মেম্বার জনপ্রতিনিধিত্বের দোহাই দিয়ে যদি ইয়াবা ব্যবসা করেন তাহলে তাদেরও রেহাই নেই বলে তিনি হুশিয়ারী উচ্চারন করেন।
সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বেশীরভাগ সংবাদকর্মী ভাল কাজ করছেন, ইয়াবা ব্যবসা বন্ধে কাজ করছেন, তবে দুয়েকজন আছেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যক্তিস্বার্থ চরিত্রার্ত করার জন্য অনেক ভদ্র লোককে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়েছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন আপনারা সমাজের চোখ আপনাদের কলম দিয়ে যেন কোন নিরীহ লোক হয়রানী না হয়। তাই আপনারা লিখার সময় যাচাই বাছাই করে লিখবেন। ইয়াবা কারবারে জড়িত রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করার আহবান জানান তিনি। যে কোন মূল্যে টেকনাফকে কলংকমুক্ত করা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলা পরিষদ সদস্য শফিক মিয়া বলেন, প্রায় ৭০ ভাগ ইয়াবা নির্মূল হয়েছে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করলে বাকি ৩০ ভাগ ইয়াবাও নির্মূূল করা সম্ভব হবে। আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়াকে সফল করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহবান জানান।
নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, যদি ভুলে নিরীহ কারো নাম ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় উঠে থাকে তবে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে তাদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আহবান জানান।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, আমি টেকনাফে থাকি, টেকনাফে খাই, তাই আমি ইয়াবা মুক্ত নি:শ্বাস নিতে চাই, যারা এতে বাঁধ সাধবে আমি তাদের নি:শ্বাস বন্ধ করে দেব। সভা সফল করায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীক কুমার দাশের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সদস্য মো. শফিক মিয়া, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম, কমিউনিটি পুলিশ সভাপতি নুরুল হুদা, টেকনাফ জামেয়া মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি কিফায়ুতুল্লাহ শফিক, সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন প্রমুখ।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top