চলন্ত বাসে যৌন হয়রানি, ফেসবুকে বর্ণনা দিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী

55508061_1304312746386602_4268877276642279424_n-49.jpg

তখন বিকেল ৩টা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে বাসে করে বাসায় ফিরছিলেন এক ছাত্রী। কিন্তু চলন্ত বাসে পথেই যৌন হয়রানির শিকার হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ওই শিক্ষার্থী। ওইদিন বাসের হেলপার ও চালকের ‘যৌন হয়রানি’ থেকে বাঁচতে চলন্ত বাস থেকে লাফ দেন তিনি।

পরে চলন্ত বাসে আক্রান্ত হওয়ার বিবরণ তুলে ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন ওই ছাত্রী।সেখানে তিনি লিখেছেন, জিইসি মোড়ে আসার পর তার সঙ্গী এক সহপাঠী বাস থেকে নেমে যান। এর পর বাসটি রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় পৌঁছালে অন্য যাত্রীরাও নেমে যায়।

কাছেই নিউমার্কেট মোড়ে শেষ স্টপেজে বাসটির দাঁড়ানোর কথা ছিল। সেখানেই নামার কথা ছিল ওই ছাত্রীর। কিন্তু চালক হঠাৎ দ্রুতগতিতে বাস ঘুরিয়ে স্টেশন রোডের দিকে মোড় নেয়।

ওই ছাত্রী লিখেছেন, তিনি বাস থামাতে বললে চালকের সহকারী এগিয়ে আসে এবং তার ওড়না টেনে গলায় পেঁচিয়ে ধরে। তাতে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

‘চিৎকার করার মতো পরিস্থিতিও আমার ছিল না। ওই মুহূর্তে আমার কেমন লাগছিল, আমি তা বলে বোঝাতে পারব না।’

তিনি লিখেছেন, হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে তিনি সজোরে আঘাত করলে তা চালকের সহকারীর চোখে লাগে। তাতে সে ওড়না ছেড়ে দেয়। জীবন বাঁচাতে তখন চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন তিনি। ‘এ সময় শুনতে পাই চালক চিৎকার করে বলছে- মেয়েটারে ধর শালা।’

পরে বাস থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখে এক রিকশাচালক ওই ছাত্রীকে তুলে নেন এবং তার বাসায় পৌঁছে দেন। ইংরেজিতে লেখা ওই পোস্টের শেষে ওই ছাত্রী বাংলায় লিখেছেন- ‘এই দেশে আর থাকব না ভাই।’

এদিকে এ ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী।পরে রাতে নগরীর অক্সিজেন এলাকা থেকে ৩ নম্বর রুটের বাসের চালক বিপ্লব দেবনাথকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, চলন্ত বাসে যৌন হয়রানির ঘটনায় বাসের চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসটিও জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটি চালককে শনাক্ত করেছে বলেও জানান তিনি।

চালকের সহকারীকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘আমাদের একাধিক দল কাজ করছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top