শুধু ফাঁকা নুসরাতের আসনটি

image-44756-1554907988-15.jpg

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে। আজ বৃহস্পতিবারও এতে যথারীতি অংশগ্রহণ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের আট নম্বর কক্ষে সব আসনে শিক্ষার্থী বসলেও একটি আসন রয়েছে ফাঁকা। এই আসনটি আর পূরণ হবে না। হবেই বা কী করে, আসনটি যে অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো নুসরাত জাহান রাফির।

আজ বৃহস্পতিবার ছিল নুসরাতের ফিকহ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। পরীক্ষাকেন্দ্রে সবাই যখন খাতায় লেখা নিয়ে ব্যস্ত নুসরাত তখন চিরনিদ্রায় শায়িত।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হন অধ্যক্ষ।

পরে গত ৬ এপ্রিল আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সকাল ৯টার দিকে সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে গেলে কৌশলে নুসরাতকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে চার থেকে পাঁচ জন বোরকা পরা ব্যক্তি ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতকে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top