বাংলাদেশী হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে ঢাকায়

55508061_1304312746386602_4268877276642279424_n-33.jpg

হজযাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এখন থেকে হজযাত্রীরা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাতে পারবেন ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আগে সৌদি আরবে বিমান অবতরণের পরে বিমানের ভিতরেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করানো হতো। এতে অনেক ক্ষেত্রে ৬ ঘন্টা পর্যন্ত বিমানে বসে থাকতে হতো হজযাত্রীদের। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরেবে সরকারের মধ্যে আলোচনার প্রেক্ষিতে এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক লাখ ২৭ হাজার হজযাত্রী হজ করতে যান। ঢাকায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধান বিমানবন্দরেই হজযাত্রীরা তাদের অভিবাসন বিষয়ক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করাতে পারবেন এ বছর থেকে।

আগে তাদেরকে সৌদি আরবে বিমান অবতরণের পর বিমানের ভিতরেই এ কাজ সম্পন্ন করাতে হতো। এতে প্রচর সময় ব্যয় হতো। হজযাত্রীদের দুর্ভোগও হতো।

বাংলাদেশী হজযাত্রীদের অর্ধেক পরিবহন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি যাত্রীদের পরিবহন করে সাউদিয়া এয়ারলাইন্স। বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে তখন হজযাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয় সৌদি আরবে। মঙ্গলবার আরব নিউজকে আনিসুর রহমান বলেছেন, এখন থেকে বাংলাদেশী হজযাত্রীরা বিমান অবতরণের পরে একটি জেট-ব্রিজের মাধ্যমে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে সক্ষম হবেন। এক্ষেত্রে তাদেরকে কোনো আনুষ্ঠানিকতার মুখোমুখি হতে হবে না।

প্রায় দু’বছর ধরে সৌদি আরব সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়টি সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য সৌদি আরবে গিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। আনিসুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশী হজযাত্রীদের সহায়তা করার এই অনুরোধ গ্রহণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি আরব। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের ১৪ সস্যের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার  বাংলাদেশে আসার কথা। এর নেতৃত্বে থাকার কথা সেখানকার পাসপোর্ট ও অভিবাসন বিভাগের প্রধানের। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবদের এ দলে থাকার কথা।
আনিসুর রহমান বলেছেন, বুধবারই বিকেলে আলোচনা শুরু হবে। এই টিমটি ঢাকা বিমানবন্দরে কি কি সুযোগ সুবিধা আছে তা পরিদর্শন করবেন। তারা বৃহস্পতিবার যাবেন হজ ক্যাম্পে। সব কিছু চূড়ান্ত হবে এই সফরের পরে। শনিবার এই প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

৬১ বছর বয়সী আবদুল মালেক বলেছেন, তিনি ২০১৫ সালে হজ করেছেন। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করাতে তার সময় লেগেছিল চার ঘন্টা। তিনি বলেন, যদি আমরা এই কাজটি অর্থাৎ ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস বিষয়ক কাজটি ঢাকায় সারতে পারি তাহলে বাংলাদেশী হজযাত্রীদের জন্য তা হবে একটি বিরাট স্বস্তির বিষয়।
আমেনা বেগম নামে ৫৩ বছর বয়সী বাংলাদেশী হজযাত্রী। তিনি এ বছর হজে যাওয়ার নিয়ত করেছেন। তিনি নিয়ম পরিবর্তনের এ খবরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যারা এর আগে হজ করতে গিয়েছেন তাদের কাছ থেকে ইমিগ্রেশন নিয়ে ঝামেলার কথা শুনেছি। কিন্তু সেই কাজটি এ বছর ঢাকা সারা হবে এ খবরটি শুনে খুবই ভাল লাগছে।

ঢাকা বিমানবন্দরে অভিবাসন বিষয়ক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কর্মকর্তা বাড়িয়ে ৬০ করা হবে। আশা করা হচ্ছে সৌদি আরবও ঢাকা বিমানবন্দরে সমসংখ্যক অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তা মোতায়েন করবে। আনিসুর রহমান বলেছেন, সৌদি আরবের অভিবাসন বিষয়ক এই টিমটি হজ ফ্লাইটের জন্য ঢাকায় অবস্থান করবেন। আমরা তাদেরকে সব রকম সহযোগিতা দেবো। তবে সৌদি আরবের অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশী হজযাত্রীদেরকে ১০ আঙ্গুলের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে।
এ বছর হজযাত্রীদের সর্বনিম্ন খরচ ঢাকা নির্ধারণ করেছে ৪১৪৫ ডলার। সর্বোচ্চ খরচ ধরা হয়েছে ৫০৪৫ ডলার। নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১৯ শে ফেব্রুয়ারি থেকে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ প্রতি বছর রপ্তানি করে ২০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য। বাংলাদেশের বিদ্যুত, রাসায়নিক, বায়োমেডিকেল টেকনোলজি ও শিল্পকারখানায় বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের গত মাসে দুটি চুক্তি এবং চারটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সৌদি আরব থেকে ৩০০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top