ড. জসিম উদ্দিন নদভীর জানাজা কাবা শরীফে, দাফন জান্নাতুল মুয়াল্লায়

Presentation1-7.jpg

ইমাম খাইর,
চট্টগ্রামের বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়ার সহকারী পরিচালক, মহেশখালীর মাতারবাড়ীর বাসিন্দা ড. মাওলানা জসিম উদ্দীন নদভীর নামাজে জানাজা মক্কা নগরীর পবিত্র মসজিদুল হারামে সম্পন্ন হয়েছে।
৯ এপ্রিল জানাজা শেষে অজস্র সাহাবায়ে কেরামের স্মৃতি বিজড়িত জান্নাতুল মুয়াল্লায় তাকে চিরসমাহিত করা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ইসলামিক স্কলার্স এর সদস্য ড. জসিম উদ্দিন নদভী স্বপরিবারে সৌদিআরবের পবিত্র মক্কায় ওমরায় ছিলেন। ওমরাহ পালন অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে সৌদিয়ার কিং ফয়সাল আব্দুল আজিজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩ টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে তার একবার হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল।
গবেষক ও খ্যাতিমান মুসলিম ব্যক্তিত্ব ড. জসিম উদ্দিন নদভীর মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। সাংসারিক জীবনে মরহুম নদভীর স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ১ ছেলে ছিল। বড় মেয়ে জামাতাসহ সৌদি আরবে থাকেন।
ড. মাওলানা জসিম উদ্দীন নদভী মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ১৯৬৮ সালের ৯ মে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া জামিয়া আল ইসলামিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস করেন।
মাতারবাড়ী রাজঘাট এলাকার মতো একটি অজপাড়া থেকে গিয়ে ১৯৯০ সালে ভারতের বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা লক্ষ্ণৌ হতে দুই বছর মেয়াদি আরবী ভাষা সাহিত্যে কৃতিত্বের সাথে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে ‘নদভী’ উপাধি লাভ করেন।
মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ‘কুল্লিয়াতুশ শরীয়াহ’তে ১৯৯৭ সালে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রী সমাপ্ত করেন। মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছুদিন পড়াশোনা করেন।
২০০৮ সালে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ হতে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৭ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার পিএইচডির বিষয় ছিল ‘একবিংশ শতাব্দীতে ইসলামী দাওয়াতের পন্থা ও মাধ্যম’।
লিখক, গবেষক ড. জসিম আরবি সাহিত্যের শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক ইসলামি সাহিত্য সংস্থা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-হকের সহ-সম্পাদক ছিলেন।
বাংলাদেশের বরেণ্য আলেমদের মাঝে তিনি একজন উদ্যমী ও স্বাপ্নিক মানুষ ছিলেন। আরবি ভাষা ও ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তার মতো খ্যাতিমান ও চিন্তাশীল আলেমকে হারিয়ে মুসলিম উম্মাহ একজন নিষ্ঠাবান ও কর্মোচ্ছল ব্যক্তিকে হারালো।
মরহুম ড. জসিম উদ্দিন নদভী জামেয়া দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক (অধ্যক্ষ) ও উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলার আল্লামা সোলতান আহমদ যওক নদভী-এর জামাতা। তিনি জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

জান্নাতুল মুয়াল্লার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
জান্নাতুল মুয়াল্লা হচ্ছে মক্কার সবচেয়ে বড় কবরস্থান। মুয়াল্লা শব্দের অর্থ হচ্ছে উঁচু। এই কবরস্থানটি মক্কার উঁচুদিকে অবস্থিত বলে একে মুয়াল্লা বলা হয়। আল-হুজুনের কাছে অবস্থিত মুয়াল্লা কবরস্থানটি একটি বিখ্যাত কবরস্থান। এই কবরস্থানের বিশেষত্ব হলো এখানে রাসূলের (সা.) প্রথম স্ত্রী ও প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.), রাসূলুল্লাহর (সা.) বড় ছেলে কাসিম (রা.), আসমা বিনতে আবি বকর (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.), আম্মার ইবনে ইয়াসার (রা.)-এর মা ও ইসলামের প্রথম শহীদ সুমাইয়া (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) প্রমুখ শায়িত আছেন।
এই কবরস্থানটি মসজিদুল হারামের মারওয়া গেট। পাহাড় থেকে বের হয়ে যে সড়কটি মিনার দিকে গেছে সে সড়কের বাম পাশে অবস্থিত। জান্নাতুল মুয়াল্লার প্রবেশপথ মারওয়া গেট থেকে প্রায় ১ কিমি. দূরে অবস্থিত। এই পথ ধরে ঐতিহাসিক ‘মসজিদে রাইয়া’ ও ‘মসজিদে জিন’ অতিক্রম করে এই কবরস্থানে পৌঁছতে হয়। কালের বিবর্তনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কবরস্থানটি কয়েকটি স্তরে বিন্যাস করা হয়েছে। পুরাতন কিছু বিখ্যাত ব্যক্তির কবরকে অক্ষত রেখে নতুন কবরগুলো নতুন মাটি দ্বারা ভরাট করে ফেলা হয়েছে। মুয়াল্লা কবরস্থানের ওপর দিয়ে বর্তমানে হুজন ওভার ব্রিজ তৈরি করাতে বাহ্যিকভাবে কবরস্থানটি দু’ভাগে বিভক্ত দেখা যায়। অবশ্য ওভারব্রিজের নিচ দিয়ে দু’দিকে পারাপারের ব্যবস্থা আছে। ওভারব্রিজের ওপর থেকে খাদিজার (রা.) কবর স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই দর্শনীয় স্থানটি যেহেতু হারাম থেকে খুবই কাছে, সেহেতু স্থানটিতে ভিড় একটু বেশি হয়। মসজিদে বাইয়াহ (যে স্থানে বাইয়াতে আকাবা হয়েছিল)
আকাবা হচ্ছে মক্কার দিকে মিনার পশ্চিম সীমান্তের নাম। মক্কার দিক থেকে মিনার শুরু এই আকাবা থেকেই। মসজিদে বাইয়াহ আকাবা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে মক্কার দিকে অবস্থিত। মসজিদটি দুই পাহাড়ের মাঝখানে ঢালু এলাকায় বিদ্যমান। বর্তমানে যে স্থানে মসজিদটি অবস্থিত সেখানেই মদিনাবাসী আনসাররা রাসূলুল্লাহর (সা.) কাছে পরপর দু’বার বাইয়াত গ্রহণ করেন। এটাকে ইসলামের পরিভাষায় আকাবার ১ম ও ২য় শপথ বলা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top