ডাকসুতে নির্বাচিত হয়েও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে যাননি তানহা

dhaka-13.jpg
সুফিয়া কামাল হল সংসদের সদস্য লামিয়া তানজিন তানহা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে জানালেও গণভবনে যাননি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সদস্য লামিয়া তানজিন তানহা। তবে শনিবার (১৬ মার্চ) প্রধামন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বেলা পৌনে ২টার দিকে ৪টি মিনিবাস আর ৬টি বাসে গণভবনে যান মোট ২৫৯ জন প্রতিনিধি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচনের ফল কারচুপির অভিযোগে ডাকসুর ফল বাতিল চেয়েই গণভবণে যাননি তানহা। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে যখন কারচুপি হলো তখনই আমরা সবাই প্যানেল থেকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি। তারপর ফলাফল ঘোষণার পর আবার যখন দেখলাম আমি জয়ী হয়েছি তখন আমি এই ফলাফল আর গ্রহণ করতে পারি না। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী যদি তার ভোট দিতে না পারে সেটাও ওই শিক্ষার্থীর সাথে বিশাল অন্যায়। সেজন্য আমি প্রথমে নির্বাচন বর্জন করেছি, পরে পদত্যাগ করেছি। তাই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে যাইনি।

গত ১১ই মার্চের ডাকসু নির্বাচনে সুফিয়া কামাল হলে সদস্য পদে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছেন ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী লামিয়া তানজিন তানহা। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করলেও মোট ৮৪১ ভোট পেয়ে নিজের হল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু নির্বাচন। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ওঠায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের প্যানেল ছাড়া বাকি সব প্যানেল তা বর্জনের ঘোষণা দেয়। নির্বাচন বর্জন করলেও ভিপি পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর এবং জিএস পদে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী নির্বাচিত হয়েছেন। ডাকসুর বাকি ২৫ পদের মধ্যে দুইটি পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের দুই নেতা এবং ২৩টি পদে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গণভবনে গিয়েছিলেন শনিবার বিকেলে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে জীবনের প্রথম সাক্ষাতে নিজের মৃত মায়ের প্রতিচ্ছবি পেয়েছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে দেয়া বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের শুরুতে হল সংসদের নির্বাচিত জিএসরা বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বক্তব্য দেন ভিপি নূরুল হক নূর। বক্তব্যের ফাঁকে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। নূর বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি মাকে হারিয়েছি। আপনাকে (শেখ হাসিনা) দেখে আমার মৃত মায়ের কথা মনে হচ্ছে। আপনার মাঝে আমি আমার মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাই।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নূরকে তার পাশে বসান। বসার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে পা ছুঁয়ে সালাম করেন।

বিকেল সোয়া ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে গণভবনে যান ভিপি নুরুল হক নূর ও জিএস গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে ডাকসুর নবনির্বাচিতরা। সেখানে বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাদের বৈঠক শুরু হয়।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নুর উবারে; বাকীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা গণভবনের উদ্দেশে রওনা হন।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনে ভিপি এবং সমাজসেবা সম্পাদক ছাড়া বাকি ২৩টি পদে জয়ী হয়েছে ছাত্রলীগ। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে তা বর্জন করেছে ছাত্রলীগ ছাড়া সবক’টি প্যানেল। তারা পুনর্নির্বাচন দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছে।


আপনার মন্তব্য লিখুন
Top