কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর পাক্ষিক আসরে কবি আল মাহমুদকে স্মরণ

মুক্তিযুদ্ধে কবি আবদুস শুকুর আল মাহমুদ’র অবদান স্মরণযোগ্য

SA-2.jpg

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
‘সোনালী কাবিন’ খ্যাত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ আল মাহমুদ। আল মাহমুদ বাংলা ভাষার সেরা কবিদের একজন। যে মানুষটি শুধু মানবসৃষ্টদের ভালবেসেছেন তেমনি তিনিও মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো স্বীকৃতি নেই এই ধরায়। আল মাহমুদ একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে মনে রাখবে। জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন যে স্বাধীনতা, সেটির পেছনে তার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণযোগ্য। তার অনুপস্থিতিতে তার স্বপ্ন জারি থাকুক, এই সমাজকে নিয়ে দেখা তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হোক। মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক ছিলেন। শিল্পকলা একাডেমির পরিচালকও ছিলেন তিনি। ‘সোনালী কাবিন’ শব্দ দুটো উচ্চারণ করলেই যার নাম সামনে আসে, তিনি হচ্ছেন কবি আল মাহমুদ। গত ৫০ বছর ধরে বাংলা কবিতার জগতে আলোড়ন তুলেছেন এই কবি।
জেলা একমাত্র প্রতিনিধিত্বশীল সাহিত্য সংগঠন হিসেবে খ্যাত কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর ৪৪৪ তম পাক্ষিক সাহিত্য আসরে সদ্য প্রয়াত কবি আল মাহমুদ’র জীবন ও কর্ম নিয়ে অনুষ্ঠিত স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভায় বক্তাগণ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। ১ মার্চ শুক্রবার বিকালে কক্সবাজার সরাকরি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাহিত্য আড্ডাটির সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর কার্য নির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি, কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, বিশিষ্ট ছড়াকার, শিক্ষাবিদ মোঃ নাছির উদ্দিন।
একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক, অনুবাদক, সাংবাদিক কবি রুহুল কাদের বাবুল’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আসরটি বরাবরের মতোই দু’টি পর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে আধুনিক বাংলা সাহিত্যেও অন্যতম প্রধান কবি, মুক্তিযোদ্ধা আল মাহমুদ’র জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা ও দ্বিতীয় পর্বে স্বরচিত ও প্রিয় কবির কবিতা পাঠ। আলোচনায় বক্তাগণ বলেন, বিখ্যাত ‘সোনালী কাবিন’ ছাড়াও কবি আল মাহমুদের রচনার মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর, কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, একচক্ষু হরিণ, দোয়েল ও দয়িতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন, নদীর ভিতরে নদী, না কোনো শূন্যতা মানি না, বিরামপুরের যাত্রী, বারুদগন্ধি মানুষের দেশ, সেলাই করা মুখ, তোমার রক্তে তোমার গন্ধ ইত্যাদি। কবির সাড়া জাগানো উপন্যাস কাবিলের বোন, পানকৌড়ির রক্ত, উপমহাদেশ, ডাহুকি, যেভাবে বেড়ে উঠি, আগুনের মেয়ে, যমুনাবতী, চেহারার চতুরঙ্গ, যে পারো ভুলিয়ে দাও, ধীরে খাও অজগরী ইত্যাদি। সাহিত্যকর্মের জন্য আল মাহমুদ কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমী পুরস্কারসহ, একুশে পদক, বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সেরা ৫ জন কবির মধ্যে আল মাহমুদ অন্যতম এবং স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সেরা কবি নিঃসন্দেহে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক মুক্তিযোদ্ধার মতো তাঁরও ক্ষোভ বেশি ছিল। ক্ষোভের প্রকাশটা রাজনৈতিক আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। যেটা অনেকে পছন্দ করেননি। কিন্তু শিল্পীকে বিচার করতে হয় শিল্পের মাপকাঠিতে। আল মাহমুদকে বিচার করতে হবে তাঁর কবিতা দিয়ে। চিন্তা, সৃজন ও মননের জগতে যে বন্ধ্যা, অনুর্বর সময় আমরা পার করছি তাতে আরেকজন আল মাহমুদ বাংলা ভাষায় জন্মাতে কত শত বছর লাগবে? এটিই লোকেমুখে প্রশ্ন।
আসরে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, একাডেমীর স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রবীণ আইনজীবী, কবি সুলতান আহমদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ নুরুল আজিজ চৌধুরী, কক্সবাজার সরাকরি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষাবিদ নাজেম উদ্দিন, প্রবীণ আইনজীবী শামসুল আলম কুতুবী, মূল্যায়ন সম্পাদক কবি অমিত চৌধুরী, পিটিআই’র সিনিয়র ইন্সপেক্টর, একাডেমীর অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, শিক্ষাবিদ কবি মোঃ আমিরুদ্দিন, কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট গল্পাকার সোহেল ইকবাল, এডভোকেট কবি মনজুরুল ইসলাম, ব্যাংকার ও ছড়াকার নুরুল আলম হেলালী, ছড়াকার জহির ইসলাম, কক্সবাজার সাংবাদিক কোষ প্রণেতা আজাদ মনসুর ও বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী কবি কল্লোল দে চৌধুরী। পরে যথারীতি স্বরচিত ও প্রিয় কবির কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়।
আসরে একাডেমীর স্থায়ী পরিষদের সদস্য বিশিষ্ট সাহিত্যিক কবি খালেদ মাহবুব মোর্শেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও বর্তমানে চিকিৎসাধিন থাকায় আশু রোগ মুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন একাডেমীর সদস্য কবি এম. এরশাদুর রহমান।
অপরদিকে, একাডেমীর জীবন সদস্য কবি গল্পাকার সোহেল ইকবালের জন্মদিন উপলক্ষ্যে কবিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রামু জারাইলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুসাইনুল ইসলাম মাতবর ব্যাংকার দিদারুল আলম, লেখক, সাংবাদিক কবি জহির ছিদ্দিকী, বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আযাদ প্রমূখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top