আসলেই কি পুরুষের পাঁজরের হাড় থেকে নারীর সৃষ্টি?

Presentation1-120.jpg

ইসলামীক মেসেজ

কথাটি আমরা প্রায়ই শুনি। ইসলামকে বিতর্কিত করার জন্যে অনেকেই এ কথাটি বলে থাকেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলাম ধর্মের কোথাও এ কথাটি নেই, যা আমরা ছোটবেলা থেকেই জেনে বড় হয়েছি। এটি হলো খ্রিস্টান ধর্মের একটি কথা। বাইবেলে বলা হয়েছেঃ Then the LORD God made a woman from the rib he had taken out of the man, and he brought her to the man. (Bible, New International Version, Genesis, Chapter 2, Verse 22) স্রষ্টা পুরুষের পাঁজর থেকে একটি হাড় নিয়ে তা দিয়ে একজন নারীকে সৃষ্টি করেছেন। এবং তিনি নারীটিকে পুরুষের সামনে উপস্থিত করলেন।

বাইবেলের এই লাইনটির ব্যাখ্যায় খ্রিস্টানগণ বলেন, আল্লাহ তায়ালা প্রথম আদম (আঃ)কে সৃষ্টি করেছেন। এরপর আদমের পাঁজর থেকে একটি হাড় সংগ্রহ করেন। তারপর তা থেকে হাওয়া (আঃ)কে সৃষ্টি করেন। খ্রিস্টানদের এ কথাটিই এখন মুসলিম সমাজে খুবই পরিচিত। কিন্তু এর কারণ কি?মূলত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর একটি হাদীসকে কোরআনের সাহায্যে ব্যাখ্যা না করে, বাইবেলের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেই এ সমস্যাটির সৃষ্টি হয়েছে।

হাদীসটিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের আদেশ করা হচ্ছে, তোমরা নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে বুকের হাড় থেকে। সবচেয়ে প্যাঁচানো বা বাঁকানো হচ্ছে বুকের ওপরের হাড়টি। যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। আর যদি ছেড়ে দাও তাহলে সে আর বেশি বাঁকা হবে না। অতএব, তোমাদের আদেশ করা হচ্ছে, তোমরা নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। (বুখারি/৫১৮৬)

কিছু কিছু অজ্ঞ-ধার্মিক এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন, নারীরা খুবই খারাপ। কারণ তারা হলো বাঁকা হাড়। আবার, কিছু কিছু নারীবাদী এই হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেন, ইসলাম নারীদেরকে অপমান করেছে। আর কিছু জ্ঞানগর্ভহীন, বাঁচাল, নাস্তিক বলে আরেকটু বাড়িয়ে। তাদের খুবই প্রিয় প্রশ্ন, নারী যদি পুরুষের পাঁজর থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে, তো কোন পুরুষের হাড়, যে নারীর একের অধিক বিয়ে হয় এবং জীবনে একের অধিক স্বামীর সংসার করে থাকে? বা ইসলামে ৪ বিয়ে অনুমোদিত, তো যে পুরুষের ৪টি বউ আছে, তারা কিভাবে স্বামীর ঐ এক হাড় থেকে সৃষ্টি হয়েছে?

আসলে, এই সব পক্ষের কেউই হাদীসটিকে কোরআনের সাহায্যে বুঝতে পারেননি। প্রথমত দেখুন, হাদীসটির প্রথম ও শেষ বাক্যে বলা হয়েছে, নারীদের সাথে ভালো ব্যবহার করার জন্যে তোমাদেরকে আদেশ দেয়া হচ্ছে। এখানে এ বাক্যটি একবার বললেই হত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদের সাথে ভালো ব্যবহার করার গুরুত্ব বুঝানোর জন্যে একই হাদীসের শুরুতে এবং শেষে একই কথা দুইবার বলেছেন। সুতরাং, এ হাদীসের উদ্দেশ্য হলো নারীদেরকে সম্মান করা, তাঁদেরকে অপমান করা নয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top