বার্ডস আই...

নির্বাচন নির্বাসনে

Presentation1-115.jpg
মাহ্ফুজুল হক
এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অর্জন একটা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে যা এক দিকে আওয়ামী লীগ আরেক দিকে বাকি সবাই, ডান, বাম, মধ্যপন্থী, আস্তকি, নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী, ধর্মবাদী, জাতীয়তাবাদী, লিবারেল, সেক্যুলার সবাই| এই ঐক্যটা জরুরি ছিল| কিভাবে শক্তি ব্যবহার করতে হয় রাষ্টযন্ত্রকে, তার এক নতুন নমুনা দেখলাম আমরা| আমরা কখনোই এ রকম নির্বাচন অতীতে দেখিনি| যেখানে পুলিশ, র‌্যাব ও প্রশাসনসহ সবাই মিলে নির্বাচন করছে|
৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখ অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এর পর পরই ব্লগার পিনাকি ভট্টাচার্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না| নির্বাচনে গিয়েই তারা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভোট ডাকাতির ঘটনা দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করতে পেরেছে|

পুলিশ ও র‌্যাব পাহারায় ভোট ডাকাতির মহোৎসব হয়েছে, যা দেশের জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে| নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীদের দ্বারা হুমকি, ধমকি, হামলা, পিস্তল ঠেকানো, অফিস ভাঙচুর, আগুন দেয়া ও নিরপরাধ কর্মীদের গ্রেপ্তার-হয়রানির ঘটনা উৎসবের নির্বাচনকে আতঙ্কের নির্বাচনে পরিণত করেছে| ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব এটিএম হেমায়েতউদ্দীন|
ওদিকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান| তিনিও রি-টুইটে বলেছেন, অবশ্যই এ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে| অবস্থার প্রেক্ষিতে এই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতায় দুর্বলতা রয়েছে| এর বিশ্বাসযোগ্যতা নেই|
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ হওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের একাদশতম জনবহুল দেশ, বাংলাদেশে গত রোববার এক দশকে তার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেখা গেছে| কিন্তু এর ফল হয়েছে রুদ্ধ ধরনের| বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ক্ষমতাসীন জোট সংসদে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮ টিতে জিতেছে| এই ধরনের ৯৬ শতাংশ মার্জিনের বিজয়ের ফল উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে প্রত্যাশা করা যায়, কোনোভাবেই বাংলাদেশের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে নয়| ঠিক এটাই হলো সমস্যা যে, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী নেতা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় তার নিয়ন্ত্রণকে সুসংহত করছিলেন| কিন্তু এটি তিনি করেছেন নিজের নির্বাচনী বৈধতার বিনিময়ে| পুলিশের একজন মুখপাত্রের মতে, দুটি প্রধান দলের সমর্থকেরা সাধারণত রাস্তায় সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে এবং এবারের নির্বাচনে সহিংসতায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে|
রয়টার্সের খবর অনুসারে, সোমবার ভোট জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে হাসিনা সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি একটি মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তিনি অবাক হয়েছিলেন যে বিরোধী দল সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে না|
অবাস্তব ভোটের ব্যবধানসহ এবার পোলিং স্টেশনগুলোতে অনিয়মের নানা খবর ছড়িয়ে পড়েছে| তবে পর্যবেকরা বলেন, রোববারের অনেক আগে থেকেই হাসিনা তার পক্ষে জয়ের এই ক্ষেত্রটি তৈরি করার জন্য নানা উপায় ব্যবহার করেছিলেন| বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা বলেছেন, তারা প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করার সময় সহিংসতা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হন; বিএনপি জানায়, দলটির এক ডজন প্রার্থীকে উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়| রাজধানী ঢাকায় বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের পোস্টার ছিল না বললেই চলে|
এদিকে ভোটারদের একটি কঠিন বিকল্প পছন্দ করতে হয়েছে| হাসিনা ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছেন এবং ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার কোনো ইচ্ছা তার রয়েছে এমনটি দেখা যায়নি| দলটির নেতা ও হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া এই বছরের শুরুতে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন| অক্টোবরে ব্রিটেনে বসবাসরত তার ছেলেকে (তারেক রহমান) ২০০৪ সালে হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে অন্য ১৯ জনের সাথে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়|
দিল্লির রাজনৈতিক ভাষ্যকার কাঞ্চন গুপ্ত লিখেছেন, রোববারের নির্বাচনের পর বাংলাদেশে এক দলীয় গণতন্ত্র হয়ে উঠেছে| হাসিনার বিরোধীদের নামমাত্র আসন প্রাপ্তির অর্থ হলো তাকে কোনো ধরনের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে না|
বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, হাসিনার বিজয় সত্ত্বেও নির্বাচনের ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ, ব্যাপকভাবে বেড়েছে| বিরোধীদলীয় স্বল্প আসনের অর্থ হলো রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার কোনো ব্যবস্থা থাকল না| অ্যাক্টিভিস্ট এবং সাংবাদিকরা সরকারের সমালোচনায় ভীতিজনক পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ করে এর বিপজ্জনক পরিণতি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন| গত সেপ্টেম্ব‡র হাসিনার সরকার একটি নতুন , ডিজিটাল নিরাপত্তা, আইন পাস করে যাতে ,প্রচারণার, জন্য জেলের বিধান করা হয়| সম্পাদকরা এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে বলে উল্লেখ করেন| নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশের নির্বাচনের এক দীর্ঘ সময়ের পর্যবেÿক বলেন, বাংলাদেশে বিকাশের গল্পটি ঊর্ধ্বমুখী বক্ররেখা এবং গণতন্ত্রের গল্প একটি নি¤œতর বক্ররেখা|,
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সঙ্ঘটিত যাবতীয় অনিয়ম তদন্ত করে সুরাহার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন| অন্য দিকে নির্বাচনী অভিযোগ আইনগতভাবে মোকাবেলার কথা বলেছে জাতিসঙ্ঘ| অনিয়মের কারণে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণœ হয়েছে| অনিয়মের এসব অভিযোগ স্বচ্ছতার সাথে তদন্ত করে সুরাহা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)|
ওয়াশিংটন থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের উপ-মুখপাত্র রবার্ট পেলাডিনো বলেছেন, নির্বাচনের আগে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য খবরে আমরা উদ্বিগ্ন| এ কারণে বিরোধীদলীয় অনেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা অবাধে প্রচারণা চালাতে পারেননি| নির্বাচনের দিন অনিয়মের কারণে কিছু ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি| এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে| সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশনকে এসব অনিয়মের দাবি সুরাহা করতে গঠনমূলকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে|
এ দিকে ইইউ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আকাংখার প্রতিফলন| তবে নির্বাচনের দিনটি সহিংস ছিল| নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ায় সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা ছিল| এটি নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে| এখন সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষকে অনিয়মের এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে সুরাহা করা উচিত|
নির্বাচনে সব রকম অনিয়মের কারণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বৃটেন| নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত সব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ সমাধানের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে তারা| পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর এ বিবৃতি দিয়েছেন| এতে তিনি বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন যেকোনো কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য অত্যাবশ্যক| এ নির্বাচনে সব বিরোধী দল অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি তাদের প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছেন| কিন্তু নির্বাচন নিয়ে তার বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ফুটে উঠেছে| তিনি বলেছেন, গ্রেপ্তারসহ সব রকম বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে আমি অবহিত| এমন গ্রেপ্তারের কারণে বিরোধী দলগুলোতে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে| তাদের প্রচারণায় বিরত রাখা হয়েছে| নির্বাচনের দিনে নির্বাচন পরিচালনায় যেসব অনিয়ম হয়েছে, অনেক মানুষকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি, এসব অনিয়মের বিষয়ে আমরা অবহিত| মার্ক ফিল্ড তার বিবৃতিতে আরো বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে যেসব ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, অন্যায়ভাবে সহিংসতা করা হয়েছে তার জন্য আমি হতাশা প্রকাশ করছি| নির্বাচনের দিনে এত মানুষের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন|
নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে কানাডা| তবে সদ্য সমাপ্ত ১১তম সংসদ নিবাচনের অনিয়মের বিশ্বস্ত দাবি বা অভিযোগে হতাশা ব্যক্ত করে দেশটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকের কাছে তদন্ত চেয়েছে| তদন্ত কাজে সকল পক্ষের সাথে স্বচ্ছভাবে কাজ করার আহ্বানও জানিয়েছে| কানাডা নির্বাচনী সহিংসতায় হতাহত বাংলাদেশী নাগরিক ও তাদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছে|
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে পূর্ণ এবং স্বচ্ছ তদন্ত করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিআন হাজেন| ভয়ভীতি, হয়রানি এবং নির্বাচনী প্রwকªয়ায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এর ক্ষেত্রে গুরুতর বাধা বিদ্যমান থাকা বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নরওয়ে|
কোনো কোনো বিজয় পরাজয়ের চেয়েও লজ্জার। কোনো কোনো পরাজয় বিজয়ের চেয়েও গৌরবের| কিছু সংখ্যক দলকানা ব্যক্তি ছাড়া দেশের ১৬ কোটি মানুষ সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চেয়েছিল| জাতীয় এ ব্যর্থতার দায় নির্বাচন কমিশন ও সরকারের| সরকারী মেশিনারিজ, গণমাধ্যম এবং কুটনৈতিক বোঝাপড়াকে কাজে লাগিয়ে যে কোন সরকার বাস্তবতা ও পাবলিক পারসেপশনের বৈপরীত্যকে আপাত:ভাবে নিজের অনুকুলে নিয়ে আসতে সক্ষম হতে পারে| কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসের বাস্তবতায় নির্বাচন নিয়ে যে কোন ধূম্রজাল বা মিসপারসেপশন আখেরে যে কোন দলের জন্য রাজনৈতিক বিপযর্য় ডেকে আনতে পারে| নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপদ অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশন ও সরকারের| তারা তা নিশ্চিত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে| জিতল আওয়ামী লীগ হেরে গেল গণতন্ত্র| -জামাল উদ্দিন বারী
আওয়ামী লীগ কয়েক বছর ধরেই বিরোধীদের দুর্বল করে দেয়ার পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা চালিয়েছে| ক্ষমতাসীন দলের দমন-পীড়নের অন্যতম উপায় হলো ঢালাও গ্রেপ্তার|

আওয়ামী লীগের বিস্ময়কর বিজয় নিয়ে বিরোধী দলসহ অন্য সমালোচকরা বলছেন, এটা ইলেকশন না, বরং এটা সিলেকশন | আর যারা সরকারের কঠোর আইন ও কৌশলকে সমর্থন করেন, তারা সাফাই গাইছেন যে, এটা ধর্মীয় কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যের বিজয়| এটা বলা যায় না যে, আওয়ামী লীগ ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে কারচুপি করেনি| বিপরীতে, এটা বিশ্বাস করা যায় না যে, কোনো দল পার্লামেন্টে ৯৫ শতাংশেরও বেশি আসন পেতে পারে| তা যত জনপ্রিয়তাই থাকুক না কেন| বাংলাদেশ এখন একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার খুব নিকটে রয়েছে| ভবিষ্যতে শক্তিশালী ক্ষমতাসীন দল ও গুরুত্বহীন বিরোধীদলের মধ্যে যে কোনো ধরনের সহাবস্থান কল্পনা করা খুবই কঠিন| এমন পরিস্থিতিতে কোনো সমঝোতার পরিবেশও তৈরি হয় না| এ অবস্থায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অস্পষ্ট| নির্বাচনী বিজয়ে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রাখতে পারে| যতদিন পর্যন্ত দলটি মনে না করবে যে, তাদের এই দমন-পীড়ন বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, বিনিয়োগকারীদের বাধাগ্রস্ত করছে, ততদিন দলটি তাদের এই কর্মকাÛ চালিয়ে যাবে| বিরোধীরা দুর্বল অবস্থায় যতটুকু সম্ভব মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইবে| আরো ব্যাপকভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশের তরুণরা আশঙ্কাজনকভাবে গণতন্ত্রের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে পারে| যেভাবেই বিশ্লেষণ করা হোক না কেন, বাংলাদেশের সামনে সহিংস ও উদ্বেগের দিন অপেক্ষায় রয়েছে| (সিএনএন-এ প্রকাশিত নিবন্ধের ভাবানুবাদ)
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মারাত্মক সব অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ| সাংবাদিক ও ভোটাররা অনিয়মের গুরুতর সব অভিযোগ করেছেন| এর মধ্যে ব্যালটভর্তি করা, ভোটারদেরকে ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেয়া, ক্ষমতাসীনদের ভোটকেন্দ্র দখলে রাখা ও ভোটারের ভোট দিয়ে দেয়া, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও পুলিশ দলীয় আচরণ করেছে, ভয়াবহ এক ভীতিকর পরিবেশে ভোটারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে লঙ্ঘন অন্যতম| বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বলেছে, ২২১টি সংসদীয় আসনে তাদের কোনো পোলিং এজেন্ট দিতে দেয়া হয়নি| প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা নির্বাচনের দিনে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনাকে বিক্ষিপ্ত ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন| অন্যদিকে, পুলিশ প্রধান জাভেদ পাটোয়ারি পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন| ব্রাড এডাম&স বলেন, আন্তর্জাতিক দাতারা, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের বন্ধুদের স্মরণ রাখা উচিত যে নির্বাচন হলো ভোটারের অধিকার, যারা ক্ষমতায় তাদের নয়| উচ্চ মাত্রায় বিভক্ত একটি দেশ, যেখানে একটি দল শতকরা ৯৬ ভাগের বেশি আসনে বিজয়ী হয় সেখানে তাৎক্ষণিক প্রশ্ন উঠা উচিত|
(চলবে)

আরো পড়ুন-

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top