নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে এটিএম নুরুল বশর চৌধুরীর আবেগঘন স্ট্যাটাস

received_325018114804577-7.jpg

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি     :

আগামী ২৪ মার্চ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ.টি.এম. নুরুল বশর চৌধুরীর একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে দ্বীপের সর্বত্র বইছে আলোচনার ঝড়। তিনি এমনই এক মুহূর্তে স্ট্যাটাসটি দিলেন যখন কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার একক প্রার্থী হিসেবে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান বড়ঘোপ ইউপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হয় এবং এরই মধ্যে এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধূরীকে দলীয় নেতৃবৃন্দসহ তার ফ্রেন্ড লিস্টে যুক্ত ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা যে যার মতো করে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অন্যদিকে এ.টি.এম. নুরুল বশর চৌধুরীর স্ট্যাটাস নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করতে শুরু করেছেন।

আক্কাস উদ্দিন নামের একজন লিখেছেন “ আপনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন”। মামুন কুতুবী নামের একজন লিখেছেন“ আপনি অপরাজিত সৈনিক”। সিরাজুল মোস্তফা সিরাজ লিখেছেন “ আওয়ামীলীগের এক দলীয় অগণতান্ত্রীক নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ”।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে শান্তনা দিয়ে এই ধরনে ৮০টিরও বেশী কমেন্টস করেছেন তার শুভানুদ্ধায়ীরা। এইদিকে দ্বীপ উপজেলায় এই স্ট্যাটাস নিয়ে শুভাকাঙ্কিরা এই রাজনৈতিকের দীর্ঘ তিন যুগ শাসনে জনগণের কাছে থাকার গুণ কির্তন করলেও তাকে রাজনৈতিক গুরু মানা নিন্দুকেরা বদনাম করতে ছাড়ছেন না। এ.টি.এম.নুরুল বশর চৌধুরীর ফেইসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসটি পাঠকের জন্য অবিকল তোলে দেয়া হলো।

সম্মানিত কুতুবদিয়াবাসী, আসসালামু আলাইকুম।

আশা করি এই সংকটময় মুহূর্তেও মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আপনারা ধৈর্যশীল আছেন। আজ আপনাদের নিকট আমার আর্জি বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের একটি সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। প্রথমেই মহান আল্লাহ পাকের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি যিনি আমাকে ১৯৮৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ তিন যুগ আপনাদের সেবা করার অমূল্য সুযোগ দান করেছেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আপনারা আমাকে একাধারে পাঁচবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমাকে আপনাদের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসার জায়গায় রেখেছেন বারবার। আপনারা ভালবেসে যে গুরুদায়িত্ব আমার উপর অর্পন করে আপনাদের সেবক হওয়ার সাধনাকে প্রস্ফুটিত করে ছিলেন তার জন্য আপনাদের নিকট চিরঋণী। জানিনা আমি আমার কুতুবদিয়ার মানুষের আশার কতটুকু প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছি, কিন্তু আপনাদের জন্য কিছু করার ক্ষেত্রে আমার তরফ থেকে চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিলনা। বার বার মনে হয়েছে আপনাদের আরো অনেক দেয়ার ছিল, আরো অনেক করার ছিল। হয়ত সেটাও সম্ভব হয়নি- বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, প্রতিকূলতা বা সীমাবদ্ধতার কারণে। জানি আমি আপনাদের এই ভালবাসার যথার্থ প্রতিদান দিতে পারব না, কিন্তু আজীবন আপনাদের একজন সেবক হিসেবে থেকে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা পুনঃব্যক্ত করছি। কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদে পরপর দুটি নির্বাচনে মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে জয়ী করে দশ বছর আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। কুতুবদিয়া উপজেলার আপামর জনসাধারণ এবং সম্মানিত ভোটারদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। শুধু বলব আমি আপনাদের মাঝে সারাজীবন এভাবেই থাকতে চাই।

আমার দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী সমর্থকদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এবং অভিনন্দন, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণে আমি আজ এই অবস্থানে আসতে সক্ষম হয়েছি। জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতেই হয় যারা দীর্ঘ সময় ধরে এই গুরু দায়িত্ব পালনে আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি, রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্ববান দের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, যারা ছিলেন সত্যিকার অর্থে অসাধারণ এবং নিজেদের অবস্থানের প্রকৃত দাবিদার, কৃতজ্ঞতা আপনাদের প্রতি। আমি কখনই ভুলতে পারব না সেইসব বন্ধু, অগ্রজদের, যারা আমাকে সার্বক্ষণিক বুদ্ধি পরামর্শ উৎসাহ এবং সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আপনাদের সেবায় আজ অবধি উজ্জীবিত রেখেছেন। এই দীর্ঘ ৩৬ বছরে যেসব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমাকে চলার পথে সাহস, উৎসাহ জুগিয়েছেন তাদের প্রতি রইল নিরন্তর ভালবাসা ও শুভকামনা। আমার পারিবারিক আত্মীয় স্বজনদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো, তারা নিজেদের মূল্যবান সময়, অর্থ, শ্রম, স্নেহ, মায়া-মমতা ভালোবাসার বন্ধনে রেখে সর্বাত্মকভাবে আমাকে আজকের এই সময় পর্যন্ত আপনাদের সেবার জন্য এগিয়ে দিয়েছেন। জানি এই দীর্ঘ সময়ে আপনাদের দোয়ার চাদরে আমি আবদ্ধ ছিলাম বলেই জটিল কোন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য হারা হইনি। অকূণ্ঠ সমর্থনে কার্পণ্য করিনি বলেই কোন ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করতে হয়নি। আশা করি আপনাদের এই দোয়া আমার বাকি জীবনেরও সঙ্গী হবে। আমি খুব বেশি অননুপ্রাণিত হয়েছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বন্ধুদের কারণে, যাদের অপার অকৃত্রিম ভালবাসায় আমি সঞ্জীবনী শক্তি খুঁজে পেতাম। আমার দেশ বিদেশের সকল বন্ধুরা আমাকে যেভাবে তাদের মধ্যমনি হিসেবে ভালবাসায় আবদ্ধ করে রেখেছে আমি তাদের কথা কখনো ভুলবো না। আপনাদের অর্পিত দায়িত্ব পালনে তারাই আমার শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বারবার। আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই সেসব শুভাকাঙ্খীর কথা যারা কর্মসূত্রে এলাকার বাইরে থেকেও আমার খোঁজ নিয়েছেন, সহযোগিতা দিয়েছেন, প্রেরণা জুগিয়েছেন, বিপদে আপদে সাহস দিয়েছেন, আজও দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলায় শিক্ষার বিস্তারে ভূমিকায় ছিলেন যারা, আপনারা আমার কাছে ছিলেন শ্রদ্ধার অগ্রভাগে, আপনারা না হলে হয়ত আমার দায়িত্ব পালন করাটা এতটা ফলপ্রসূ হত না।

আজকের এই ক্ষণে শুধু এটুকু বলার ছিল। আমাকে রাখবেন আপনাদের হৃদয়ে, মায়া-মমতা, ভালবাসায়। আপনাদের দোয়ায় যেন শক্তি পাই, ভরসা পাই, এগিয়ে চলার সাহস পাই। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারান্তরীণ,দেশনায়ক তারেক রহমান নির্বাসনে এবং প্রিয়নেতা সালাহ্উদ্দিন আহমেদ সরকারি রোষানলে দেশে ফিরতে বেগ পোহাচ্ছে এমতাবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদের প্রহসনের নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর কেন্দ্রীয় সিদ্বান্তকে সম্মান জানিয়ে আমি আগামী পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে (২৪-০৩-২০১৯) অংশগ্রহণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু আমি আপনাদের সেবক হিসেবে চিরজীবন আপনাদের সাথে ছিলাম এবং থাকব। আমার কর্মজীবনে অনিচ্ছাকৃত যেকোন ধরণের ভুল আপনাদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। জনপ্রতিনিধি হয়ে নয় আপনাদের সন্তান, ভাই বন্ধু হয়ে সারাজীবন আপনাদের জন্য উৎসর্গ করার যে ব্রত নিয়ে এতদিন ছিলাম তা যেন অটুট থাকে ভবিষ্যতেও। পরিশেষে সকলের নিরাপদ জীবন, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top