সন্তানের পড়াশোনায় উন্নতি আনতে করুন এই একটি কাজ

bnp-nazrul-20181228214935-5.jpg

আপনি একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, সুশিক্ষিত পিতামাতার সন্তানও সচরাচর সুশিক্ষিত হয়। তাদের পরীক্ষার ফলাফল ভালো হয়, মনোযোগ বেশি থাকে, ক্লাসেও তার আচরণ ভালো হয়। কিন্তু কেন? জন্ম থেকেই কী সে এই ক্ষমতা নিয়ে আসে? নাকি শিক্ষিত পিতামাতার সংসার সচ্ছল হয় বলে সন্তানের পড়াশোনা ভালো হয়? বিজ্ঞান কী বলে?

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, এ সবের পাশাপাশি জরুরি আরেকটি বিষয় আছে, আর তা হলো পিতামাতার সান্নিধ্য। জার্নাল অব লেবার ইকোনমিকসের এই গবেষণা বলছে, সন্তানের সাথে পিতামাতা সময় কাটালে তাদের পড়াশোনা ভালো হয়

এই গবেষণা করা হয় ইসরায়েলি শিশুদের ওপর। এর মাঝে ২২ হাজার শিশুর পিতা বা মাতা কেউ একজন মারা গিয়েছিল শিশুর বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই। ৭৭ জনের পিতামাতার মাঝে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। আর ছয় লাখের এ দুইটি পরিস্থিতির কোনোটিই হয়নি।

গবেষণায় দেখা যায়, পিতা বা মাতা যার মারা গিয়েছেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সাথে সন্তানের পড়াশোনার কোনো সূত্র পাওয়া যায় না। বরং যে অভিভাবকটি বেঁচে আছেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপরেই সন্তানের পড়াশোনা নির্ভর করে। পিতা বা মাতা শিশুর বয়স কম থাকতে মারা গেলে এই প্রভাব প্রকট হয়। এটাও দেখা যায় যে, মা মারা যাবার পর বাবা আবার বিয়ে করলে শিক্ষাগত দিক দিয়ে শিশু উপকৃত হয়। বাবা মারা যাবার পর মা বিয়ে করলে আবার তেমন কোনো উপকারিতা পাওয়া যায় না। পিতা বা মাতা মারা যাওয়ার প্রভাবটা পুত্রসন্তানের চেয়ে কন্যাসন্তানের জীবনে বেশি প্রভাব ফেলে।

পিতামাতার মাঝে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে দেখা যায়, মায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রভাব শিশুর ওপর বেশি দেখা যায়। কিন্তু মৃত্যু বা বিচ্ছেদ তো আসলে ঠেকানো যায় না, এসব ঘটনার কারণে শিশুর পড়াশোনা প্রভাবিত হলেও কিছু করার নেই। তাহলে বাচ্চার পড়াশোনায় উন্নতির জন্য কী করণীয়?

গবেষকরা জানান, শিক্ষিত পিতামাতা সন্তানকে সময় বেশি দেয়, সন্তানের সাথে আলাদা করে সময় কাটায়। এই কাজটিতে সন্তানের পড়াশোনা উপকৃত হয়। সুতরাং আপনিও সন্তানকে সময় দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সূত্র: আইএফএলসায়েন্স

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top