লবণ আমদানি বন্ধের দাবিতে শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রানালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা

maxresdefault-3.jpg

এম. মনছুর আলম, চকরিয়া :

দেশীয় লবণ শিল্পের সুদিন রক্ষা এবং শিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্তত লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার পথ উন্মুখ রাখতে এখন থেকে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধের দাবিতে আবারও আন্দোলনে মাঠে নামার ঘোষনা দিয়েছেন বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতি ও প্রান্তিক লবণ চাষীরা। আন্দোলনের অংশহিসেবে গতকাল সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধের আবেদন জানিয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রানালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সংগঠনের পক্ষে স্বারকলিপি তুলে দেন বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ এম শহীদ উল্লাহ চৌধুরী। স্বারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারী তথ্যমতে ২০১৭-১৮ সালে দেশে লবণের চাহিদা নির্ধারণ করা হয় ১৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এবং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় ২০১৬-১৭ সালে দেশে চাহিদার তুলনায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন কম থাকলেও ওইবছর লবণ আমদানির অনুমতি দেয়া হয় ৩ লাখ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে আমদানি করা লবণ ঘাটতির তুলনায় ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত আমদানি করা হয়।

স্বারকলিপিতে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ সালে ১৬ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন লবণ চাহিদা নির্ধারণ করা হলেও উৎপাদন হয় ১৫ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিন টন। ঘাটতি হিসেব করলে ১ লাখ এক হাজার মেট্রিক টন এবং ২০১৭-১৮ সালে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ঘাটতি হিসেব করলে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ দুইবছরে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি দেখা যায়।

অপরদিকে ২০১৬-১৭ সালে আমদানি করা ৩ লাখ মেট্রিক টন (যাহা ৩ লাখ মেট্রিক টন থেকে আগের ঘাটটি ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন বাদ দিলে) আরো ৯০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উদ্বৃত্ত থাকে।

স্বারকলিপিতে জানানো হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে এসে এতদাঞ্চলের লবণ চাষী, ব্যবসায়ী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন তৎকালীণ সরকারের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। তিনি ওইদিনের সভায় বলেছিলেন, দেশীয় লবণ শিল্প রক্ষা এবং শিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্তত ৫ লক্ষাধিক মানুষের জীবনমানের নিশ্চয়তাকল্পে সরকার বিদেশ থেকে লবণ আমদানির মতো আত্মঘাতী সিদ্বান্তে যাবেনা। মন্ত্রীর এমন আশ^াসে সভায় উপস্থিত সকলের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার ঘটে।

অবশ্য ওইদিনের সভায় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু কক্সবাজার বিসিকের কাছে জানতে চান বর্তমানে কত পরিমাণ লবণ চাষীর মোকামে আছে তা নিশ্চিত করতে। এইজন্য মন্ত্রীর নির্দেশে পাঁচ সদস্যদের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি মাঠ পর্যায়ে জরিপ শেষে শিল্প মন্ত্রানালয়ে প্রতিবেদনও জমা দেন।

গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি কক্সবাজার অঞ্চলের লবণ উৎপাদন এলাকার মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে বর্তমানে তিনলাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ থাকার তথ্য পেয়েছেন। ইতোমধ্যে গঠিত কমিটি জরিপ শেষে মাঠ পর্যায়ে তিনলাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ থাকার বিষয়টি লিখিতভাবে শিল্প মন্ত্রানালয়ে জমা দেন।

তৎকালীন সরকারের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি নির্দেশের পর মাঠ পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ উদ্বৃত্ত থাকার পরও বর্তমানে কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে কতিপয় সিন্ডিকেট চক্র ফের ঘাটতি দেখিয়ে ভারত ও চীন থেকে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল লবণের আদলে বিদেশ লবণ আমদানির চেষ্ঠা শুরু করেছেন।

বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতির কর্মকর্তারা অভিযোগ তুলেছেন, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই, বর্তমানে নতুন মৌসুমে লবণ উৎপাদনও শুরু হয়েছে। তারপরও অসাধু মিল মালিক মাঠ পর্যায়ে তদারকি না করে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রনালয়ে ভুল তথ্য দিয়ে ঘাটতি দেখিয়ে লবণ আমদানির অপচেষ্ঠা করছে।

তাঁরা অভিযোগ তুলেছেন, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা প্রতিবছর এ রকম ষড়যন্ত্র করে লবণ আমদানি করার পাঁয়তারা করে। ওই সিন্ডিকেট আবার সব পারমিট ভাগিয়ে নিতেও অপতৎপরতা শুরু করেছে। লবণ আমদানির খবর শুনে চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

স্বারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ আবু তৈয়ব, বাংলাদেশ লবণ চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.শহিদুল ইসলাম, সংগঠনের নেতা নাজেম উদ্দিন সওদাগর, সিরাজুল মোস্তাফা মেম্বার, শাহাব উদ্দিন, সরওয়ার আলম, সামসুল আলম, জাফর আলম, ছাবের আহমদ, হারুনর রশিদ, মোহাম্মদ এহেছান, নুরুন নবী, রফিকুল ইসলাম, মকছুদ আহমদ কোম্পানী, জমির হোসেন, আলী হোসেন, ইয়াকুব সওদাগর ও মহিউদ্দিন প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top