চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন আ.লীগের মনোনয়নপত্র কিনলেন ৬ প্রার্থী

Presentation1-14.jpg

আবদুল মজিদ,চকরিয়া:

কক্সাবাজারে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৬ আওয়ামী লীগ নেতা। রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তারা এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও শ্রমিক নেতা ফজলুল করিম সাঈদী, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুর রশিদ দুলাল ও আওয়ামী লীগ নেতা নূরে হাবিব তসলিম।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম ছাড়া বাকী পাঁচজন এবারই প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। রেজাউল করিম ২০০৯সালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দিলে পূর্বের ন্যায় নিশ্চিত বিজয় উপহার দিতে পারবেন। তিনি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে না পেলেও নেত্রীর নির্দেশে দলের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাফর আলমের বিজয়ে কাজ করেছেন।

গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘ ২৫বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার চেয়ারম্যান ছিলেন।

গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। চকরিয়ায় দলের জন্য অনেক কষ্ট করেছি। তাই দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য মনে করে চেয়ারম্যান পদে আমাকে মনোনয়ন দেবেন বলেন আশা করছি।’

ফজলুল করিম সাঈদী চকরিয়া তৃণমুল আওয়ামী লীগের সবচেয়ে আলোচিত নেতা হিসেবে খ্যাতি রয়েছে। তিনিও চকরিয়া পৌরসভার দুইবার কাউন্সিলর ছিলেন। এছাড়া তিনি শ্রমিক নেতা ও ক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা হাইকমান্ডের উপর তাকিয়ে আছে, কার হাতে উঠছে নৌকার প্রতীক। তাই একাধিক প্রার্থী হওয়ায় সিংহভাগ নেতাকর্মী নিবর ভূমিকা পালন করছেন। ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘দল থেকে কখনো বিচ্যুত হইনি। সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। দলের জন্য বার বার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। তাই এবার দলের থেকে মনোনয়ন দিবে বলে শতভাগ আশা করছি।

জাহেদুল ইসলাম লিটু সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। তিনি একমাত্র নেতা যিনি তিন দশক ধরে ধারাবাহিক ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। ছাত্রলীগের দায়িত্বপালনের সময় তিনি চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সদ্য বিদায়ী কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান।

জাহেদুুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দীর্ঘ দ্ইু যুগ ধরে চকরিয়ার রাজপথে আছি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।’

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির প্রভাবশালী সদস্য আমিনুর রশিদ দুলাল ১৯৮৫-২০১৯সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৪বছরের রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। তিনি কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

আমিনুর রশিদ দুলাল বলেন, ‘স্কুল জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে তিন যুগ ধরে দলের সাথে জড়িয়ে আছি। মুলত চকরিয়া উপজেলা পরিষদকে সত্যিকার অর্থে সেবামূলক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি। দল থেকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়ী হব। নির্বাচিত হলে চকরিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য় ফিরিয়ে আনা, উপজেলাবাসীর জলবদ্ধতা নিরসনসহ স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণ করাসহ নানা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করব। তাঁর সাথে সাথে চকরিয়াকে ক্লিন-গ্রিন শহরে রূপান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ বান্ধব, আধুনিক এবং নান্দনিকতায় পরিনত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। আমি শতভাগ আশাবাদী, দলের সভানেত্রী ও প্র্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিবেন।’

অপরদিকে চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে না যাওয়ার ব্যাপারে পূর্ব থেকে ঘোষণা দিয়ে আসায় তাদের এখনো কোন প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বিএনপি-জামায়াত ছাড়াও বেশ কয়েকজন স্বতন্ত প্রার্থী হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্যতম রয়েছেন আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (বি-৭২৬) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রমিক নেতা জহিরুল ইসলাম। তিনি ইতিমধ্যে আরাকান সড়ক ও সহযোগি শাখা সড়কের আওতাধীন ৩০ হাজার শ্রমিক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্যযে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক দলীয় একক প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের এক বর্ধিত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জাহেদুল ইসলাম লিটু ও ফজলুল করিম সাঈদীর নাম জেলা আওয়ামীলীগ হয়ে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top