ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়েই চলছে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ

Screenshot_2018-11-10-19-58-31-402_com.facebook.katana.jpg

ইমাম খাইর,

কক্সবাজার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর নুনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুন্নাহার। স্বামী মো. শফি ৮ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। ২ মেয়ে ও ১ ছেলের সংসার চালায় দর্জি কাজ করে। কষ্টে কাটে দিন। বড় মেয়ে কক্সবাজার সিটি কলেজে, আরেক মেয়ে স্থানীয় একেএম মোজাম্মেল হক মেমোরিয়াল স্কুলে ৮ম শ্রেনীতে পড়ে। ছোট্ট বাঁশের ঘেরার দুই চালা বিশিষ্ট টিনের ঘরটি একমাত্র সম্বল নুরুন্নাহারের। মাথা গুজার ঠাঁইটুকু নিশ্চিত করেই স্বামী মো. শফি মারা যায়। কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কাজের কারণে তার শেষ আশ্রয়স্থলটুকু ভেঙে ফেলতে হচ্ছে। ছেড়ে যেতে হচ্ছে বাসস্থানটি। চোখে মুখে অন্ধকার।

৩ সন্তান নিয়ে কোথায় যাবে নুরুন্নাহার? কে দেবে আশ্রয়? জায়গা কিনে ঘর করার টাকা পয়সা নেই। অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের টাকাই মূল ভরসা নুরুন্নাহারের। ক্ষতিপূরণের টাকা না পেলে জীবন দেবে, তবু ভিটেমাটি ছাড়বেনা বলে জানান স্বামী হারা নুরুন্নাহার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ০৪/২০১৫-১৬ মূলে নুরুন্নাহারের বসতভিটার এসেসমেন্ট করে ‘অবকাঠামো ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ৬ ধারার নোটিশ দেয়া হয়। ৭ ধারা হয়েও ক্ষতি পূরণের টাকা নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্বামী হারা নুরুন্নাহারের।

একইভাবে বিমানবন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণের কারণে সবতভিটা হারিয়ে সর্বহারা হওয়ার পথে আব্দু ছালাম, হোসেন আহমদ, সিরাজুল ইসলাম গং, জায়তুন্নাহার জনি, জাহাঙ্গীর আলম, খালেদা আক্তার, মো. ইসমাঈল, মেহেরজান, মো. কবিরসহ অন্তত ৫০ পরিবার। তাদের কেউই অবকাঠামোর (বসতবাড়ী ও গাছপালা) ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি। অথচ তাদের নামে এল.এ মামলা নং-০৪/২০১৫-১৬ মূলে অধিগ্রহণকৃত জমির পরিমাণ ঠিক করে স্থিত অবকাঠামোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়ে তাদের বসতভিটা ছেড়ে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর নুনিয়ারছড়া এলাকার অনেক পরিবারকে অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়েই বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ওখানকার অনেক বসতবাড়ী ভেঙে দেয়া হয়েছে। আরো ভাঙা হচ্ছে। একদিকে বিমানবন্দর কেড়ে নিচ্ছে নিজেদের মাথার গুজার ঠাঁইটুকু।

অন্যদিকে ক্ষতিপূরণ টাকা পাচ্ছেনা ভিটেমাটি হারা মানুষগুলো। এমন অবস্থায় কঠিন দিনাতিপাত করছে ক্ষতিগ্রস্তরা। অসতায় মানুষগুলোর বাস্তুভিটার নিশ্চয়তার দাবী করেছে এলাকাবাসী। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান জানান, কোন বসতি উচ্ছেদ করার আগে নোটিশ করার বিধান আছে। জনগণকে পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করার নজির নেই। আওয়ামী লীগ সরকার জনবান্ধব সরকার। ভিটেমাটি হারা মানুষগুলোর ক্ষতিপূরণ না দিয়ে দীর্ঘদিনের বসতি উচ্ছেদ করলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হবে।

পৌরসভার ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহেনা আক্তার পাখি জানান, জনগণের জন্যই সরকার। মানুষের ক্ষতি করে কোন উন্নয়ন নয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা লিখিত আবেদন করেছে। তবে, কক্সবাজার বিমানবন্দরের সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী তারেক আহমদ জমিগুলো ১৯৬২-৬৪ সালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কেনা। নিয়ম অনুসারেই কাজ করছে বলে জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top