সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিতে কক্সবাজারের মাদক বিক্রেতারা দিশেহারা

a3f485f5c4414626d20b9424fc8b608f-57e115bdaa093.jpg

এইচএম এরশাদ ॥

টেকনাফের শতাধিক ইয়াবা কারবারি অবশেষে আত্মসমর্পণের সুযোগ খুঁজছে। ‘চল যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে’ -র‌্যাবের পক্ষে এ স্লোগান নিয়ে অভিযান শুরু হওয়ার পর দেশজুড়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী একদিকে যেমন ধরা পড়ছে তেমনি বন্দুকযুদ্ধে প্রাণও হারাচ্ছে। মাদক নিয়ে সরকার পক্ষে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করার পর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যরা এখন অনেকে দিশেহারা। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মাদকের সঙ্গে জড়িতরা গ্রেফতার হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও বন্দুকযুদ্ধে প্রাণপাত ঘটছে। আবার কোথাও কোথাও নিজেদের অন্তর্কোন্দলেও লাশ পড়ছে।

বর্তমানে মাদকের মধ্যে মরণনেশা ইয়াবার নাম বহুল আলোচিত। মিয়ানমারে উৎপাদিত এ মাদক বহু আগে থেকেই সীমান্ত গলিয়ে এসে দেশ ছেয়ে আছে। ঘরে ঘরে ইয়াবা সেবনকারীর কমতি নেই। মিয়ানমার থেকে এ মাদক আনার প্রক্রিয়ায় জড়িত রয়েছে এদেশীয় মাদক কারবারিরা।

মিয়ানমার সীামান্তের এপারে টেকনাফ ও উখিয়ার অবস্থান। বিশেষ করে পুরো টেকনাফ উপজেলায় রয়েছে অজস্র ইয়াবা ব্যবসায়ী ও কেরিয়ার। র‌্যাবের অভিযান শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে ৭ জন। গ্রেফতার হয়েছে ৩০। অন্যরা গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। গা ঢাকা দিয়ে থাকাদের মধ্যে যারা রয়েছে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত। তালিকার বাইরেও রয়েছে অনেকে। ইয়াবা ব্যবসার মাধ্যমে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার সুযোগ নিয়েছে অনেকে। এ সুবাদে বিত্তের পাহাড় গড়ে তুলেছে অনেকে। উখিয়া- টেকনাফে নির্মিত সুরম্য প্রাসাদ এবং সংশ্লিষ্টদের চলাফেরা প্রমাণ করে এদের অবৈধ অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি। এ অর্থ প্রাপ্তির নেপথ্যে রয়েছে ইয়াবা ব্যবসা।

র‌্যাবের পক্ষে যুদ্ধ ঘোষণার পর অধিকাংশ চিহ্নিত হয়েছে। উখিয়া- টেকনাফে সংশ্লিষ্ট ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরতে দফায় দফায় চলছে অভিযান। ফলে এরা রয়েছে আত্মগোপনে। অনেকে ছেড়েছে এলাকা।

এদিকে, খোদ প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) নবগঠিত রামু রিজিয়নের সদর দফতরের উদ্বোধন করেছেন ঢাকার পিলখানায় সংস্থার সদর দফতর থেকে। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীও নতুনভাবে আবারও ঘোষণা দিয়েছেন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। পরিস্থিতি আগে থেকে আঁচ করতে পেরেছে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীরা। পালিয়ে থাকা তাদের জন্য সাময়িক। আইনী হেফাজতে আসা ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নেই।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, উখিয়া- টেকনাফকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থায় টেকনাফের শতাধিক চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী বিভিন্ন মাধ্যমে টেকনাফ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের সুযোগ চেয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলের গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া ব্যবস্থা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এরা সুন্দরবনের বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের অনুকরণ করতে চায়। আত্মসমর্পণের পর তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া না হলে এরা নিজেদের ধরা দিতে চায়।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আরও জানিয়েছেন, ইয়াবা ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মূলোৎপাটনে পুলিশ কাজ করছে। যে কারণে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান আসা বর্তমানে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে একেবারে বন্ধ হয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমরা নিরন্তর প্রয়াস অব্যাহত রেখেছি। জনগণের সহায়তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল সদস্য বর্তমানে ইয়াবার বিরুদ্ধে যে অভিযান অব্যাহত রেখেছে তাতে তিনি আশাবাদী।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top