কক্সবাজারে হচ্ছে প্রতিবন্ধি শিশুদের ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্টান

11070664_690.jpg

দিসিএম

কক্সবাজারে প্রতিবন্ধি শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করারও একটি প্রতিষ্টান স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্টানের সাথে আরো থাকবে সিনিয়র সিটিজেনদের চিকিৎসা সেবা এবং ঝরে পড়া শিশুদের পড়ালেখার ব্যবস্থা। কক্সবাজার হিলটপ সার্কিট হাউজ পাহাড়ের নিচে এবং হিলডাউন সার্কিট হাউজের পূর্ব পার্শ্বে প্রতিবন্ধি (অটিষ্টিক শিশু)দের ব্যতিক্রমধর্মী এই প্রতিষ্টানটি স্থাপন করা হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিষ্টানটি স্থাপন করা হচ্ছে। আজ বৃহষ্পতিবার সকালে প্রতিষ্টানটি স্থাপনের জন্য মাটি কাটার কাজ উদ্ভোধন করবেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিষ্টানটির জন্য আপাতত ১৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তনয়া সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রতিবন্ধি শিশুদের নিয়ে মানবিক কাজ করে এখন বিশ্বব্যাপি সমাদৃত। বিশ্বের দীর্ঘতম সাগর পাড়ের শহর কক্সবাজারে প্রতিবন্ধি শিশুদের এরকম একটি ব্যতিক্রমীধর্মী প্রতিষ্টান হবে দেশের জন্য মডেল।
আর এরকম একটি মানবিক প্রতিষ্টান স্থাপনের কাজে সাড়া দিয়েছে সুইস রেড ক্রস। সুইস রেড ক্রস রোহিঙ্গা শিবিরের মানবিক কাজ করতে এসে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের আহ্বানে প্রতিষ্টানটির ভবন নির্মাণে সন্মতি দিয়েছে। সুইস রেড ক্রসের কক্সবাজার অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জন্য প্রতিবন্ধিদের এরকম প্রতিষ্টানটি হবে একটি মডেল। তাই সুইস রেড ক্রস দেশের এরকম একটি মডেল প্রতিষ্টানের কাজে অবদান রাখতেও আগ্রহী।
সুইস রেড ক্রস কক্সবাজার অফিসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ও বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষা নিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে ক্যাম্প ১১, ১৩ ও ১৫ এলাকা সহ উখিয়া সদর উপজেলাতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।
এই কার্যক্রম সঠিক এবং সুষ্ঠভাবে বাস্তবায়নের জন্য সুইস রেড ক্রস উক্ত এলাকায় পরিবেশ বান্ধব মানসম্মত দুর্যোগ সহনশীল তাপমাত্রা প্রতিরোধক উপাদান (যা স্যান্ড উইচ প্যানেল নামে পরিচিত) দিয়ে স্বল্পমূল্যে ০৩টি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। এ্যাডভান্স টেকনোলজি নামে একটি স্বনাম ধন্য বাংলাদেশী কোম্পানী এই স্যান্ড উইচ প্যানেল এর উৎপাদন ও প্রতি স্থাপন করে থাকে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রাসঙ্গিক দপ্তর থেকে যথাযথ অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম গুলো বাস্তবায়ন করে আসছে। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং ৫০ থেকে ৬০ জন স্থানীয় জনগোষ্ঠী এক একটি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্য, পুষ্ঠি ও সুরক্ষা বিষয়ক সেবা গ্রহন করে থাকে। স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকাল থেকে গত মার্চ-অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫৬,৫২৬ জন জনগোষ্ঠী সেবা গ্রহন করে থাকে।
স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সুইস রেড ক্রস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, এ সি এফ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ইংরেজী সালে একটি দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করে। যে চুক্তির আলোকে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও এ সি এফ গুনগত স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করে আসছে।
সুইস রেড ক্রসের এক একটি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে ৫০ জনের অধিক দক্ষ সেবা প্রদানকারীরা নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে । প্রত্যেকটা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ২৪ ঘন্টা চালু থেকে উপরোক্ত সেবা প্রদান করে থাকে।
এ বিষয়ে সুইস রেড ক্রসের প্রতিনিধি বলেন, সুইস রেড ক্রস একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা। সকল প্রকার মানব সৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগে সবার আগে সাড়া প্রদান করে থাকে। কম খরচে টেকসই সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যেই রোহিংগা ক্যাম্পে পরিবেশ বান্ধব মান সম্মত এই স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যা স্থানীয় জনগোষ্ঠী সহ সকলের জন্য উম্মুক্ত।
সুইস রেড ক্রস প্রতিনিধি আরো জানান, সকলের জন্য অতি সহজে স্বাস্থ্য,পুষ্টি ও সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের এই স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের মূল লক্ষ। এ লক্ষে সুইস রেড ক্রস সরকারের প্রাসঙ্গিক দপ্তর, বিভিন্ন এন জি ও, ইউ এন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্ট সহ সকলের সাথে সঠিক ও সুষ্ঠ সমন্বয় করে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সেবার ধরন, মান ও পরিধি বাড়ানোরও পরিকল্পনা আছে ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top