কক্সবাজার ইজতেমা মুসল্লিদের গুনাহ মাফের আকুতির মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো

isti.jpg

ইমাম খাইর,
কক্সবাজার শহরের ডায়াবেটিক পয়েন্ট সংলগ্ন ঝাউবাগানের ছায়াঘেরা চকচকে বালিয়াড়িতে বসেছিল দুইদিনব্যাপী তাবলীগ জামাতের ইজতেমা। জমায়েত হয় কক্সবাজারের ৮ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। জেলার গণ্ডি পেরিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বেশ কয়েকটি জামাত অংশ নেয় ইজেতেমায়। আখেরী মোনাজাতে দুই লাখের বেশী মুসল্লি অংশ নিয়েছে বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা।
সাগর পাড়ের ঝাউবীথির ছায়াতলে ইজতেমা প্রাঙ্গণে ভিড় ছিল লাখো মানুষের। পুরুষের উপস্থিতির পাশাপাশি পর্দার আড়ালে বসে মহিলারাও বয়ান শুনেছে। কিন্তু সেভাবে হইচই, হুড়োহুড়ি বা কোলাহল হয়নি। সবাই নিজের মতো করে একধরনের শৃঙ্খলা মেনে চলেছে। মাঠজুড়ে বিশাল শামিয়ানার নিচে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে অবস্থান করেন অংশগ্রহণকারীরা। মাঠে পাটি, লেপ-তোশক পেতে ঘুমানোর ব্যবস্থা ছিল।
তাবলীগ জামাতের জিম্মাদার মাওলানা মোহছেন শরীফ জানান, সমাপনী দিন (বুধবার) বাদ ফজর বয়ান করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মুহাদ্দিস মুফতি মাওলানা জসিম উদ্দিন।
বয়ান শেষে বিভিন্ন খিত্তায় নিজেদের মধ্যে বয়ান নিয়ে আলোচনা হয়। সকাল থেকে মাগরীব নামাজের আগ পর্যন্ত বয়ান করেন হাটহাজারীর মুফতি মাওলানা আবু তাহের নদভী, মুফতি কেফায়েত উল্লাহ শফিক, মুফতি সাঈদুল ইসলাম, মাওলানা নুরুল ইসলাম ছাদেক, হাফেজ জহিরুল ইসলাম, ডাক্তার আশরাফ আলী, মাওলানা মোহছেন শরীফ, মাওলানা আতাউল করিম, মাওলানা নূর আহমদ, মাওলানা সরওয়ার আলম, মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াছ প্রমুখ।
মাগরীবের নামাজে লাখো মুসল্লি অংশ গ্রহণ করেন। শেষে আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইলের শুরা সদস্য তাবলীগের মুরব্বি মাওলানা ওমর ফারুক। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা নাগাদ মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় ৬ টার দিকে।
মোনাজাতে দেশ ও জাতির সুখ সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়। এ সময় ‘আমিন আমিন ধনি’তে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ইজতেমা প্রাঙ্গণ। সবাই নিজের জান্তা অজান্তা সব গুনাহর ক্ষমা প্রার্থনা করে মহান আল্লাহর কাছে। মোনাজাতে এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন স্থরের লোকজন অংশগ্রহণ করেন।
ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন যথেষ্ট আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগিতা করেছে। সার্বক্ষণিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে ছিল। এ কারণে দুইদিনে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
দেওবন্দপন্থি তাবলীগ জামাতের দুইদিনব্যাপী ইজতেমায় শেষ দিন জোহরের নামাজের জামাতে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি। আসরের পর থেকে বাড়তে থাকে মুসল্লি। মাগরীব না হতেই ইজতেমা প্রাঙ্গণ পুরোপুরি ভর্তি হয়ে যায়। আশপাশের সড়কে, পথে অবস্থান নেয় লোকজন। যে যেখানে ছিল আখেরি মোনাজাতে অংশ গ্রহণ করে।
প্রথম দিন মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। সকালে বয়ান করেন মুফতি মাওলানা মোরশেদুল আলম চৌধুরী। এরপর কিত্তা ও হালকাওয়ারী তালিম চলে। বাদে জুহর আলোচনা করেন কাকরাইলের প্রধান মুরব্বি আহলে শুরা হাফেজ ক্বারী মাওলানা জুবাইর আহমদ। বাদ আছর কক্সবাজার তাবলীগ জামাতের অন্যতম মুখপত্র মাওলানা আতাউল করিম, প্রকৌশলী আবদুল মুকিব এর সুযোগ্য সন্তান মাওলানা আবদুল বার বয়ান করেন। রাত ১০ টার দিকে এশার নামাজ শেষে প্রথম দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
তবে, ইজতেমায় অংশগ্রহণকারী কিছু লোক সাগরে গোসল করেছেন। সময় কাটান সাগরপাড়সহ দর্শণীয় স্থানে। এটিকে অনেকে নেতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন।
এদিকে, দুই দিনব্যাপী ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। ইজতেমা এলাকায় তিন স্তরে দায়িত্ব পালন করে জেলা পুলিশের ৩৬২ সদস্য। সেখানে সাদা পোশাকধারী ৫২ জন নিয়োজিত ছিল।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, কিত্তাওয়ারী পুলিশের অবস্থানের পাশাপাশি চারিদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়। জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় স্থাপন করা হয় সাব কনট্রোল। সেখানে ‘স্ট্যান্ডবাই’ আলাদা ফোর্স অবস্থানরত ছিল। হলিডে মোড় থেকে লাবণি পয়েন্ট পর্যন্ত গাড়ি মোবাইল টিমের পাশাপাশি মাঠে ছিল ফুট পেট্রল।
দুইদিনের জেলা ইজতেমা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা বিভাগ, গণমাধ্যসহ সর্বমহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাবলীগ জামাতের কক্সবাজারের প্রধান জিম্মাদার মাওলানা মুরশেদুল আলম চৌধুরী, মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিম, কক্সবাজার তাবলীগ জামাতের মুখপত্র মাওলানা আতাউল করিম, মাওলানা মোহছেন শরীফ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top